দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। চটজলদি রোগা হওয়ার উপায় খুঁজছেন অনেকেই। কখনও মনে করছেন কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার ছেড়ে দিলে রোগা হওয়া যায়। আবার কখনও বিশ্বাস করছেন ডিটক্স ওয়াটারকে। কিন্তু জানেন কি নিজের ইচ্ছে মত যখন যা খুশি তাই করতে গিয়ে ডেকে আনছেন মহাবিপদ? নিউট্রিশিয়ানিস্ট পূজা বংগা জানাচ্ছেন আজকাল ইন্টারনেট ঘেঁটে ঘেঁটে রোগা হওয়ার উপায় দেখে যেসব নিয়ম পালন করছেন তার বেশ কিছুই মিথ ছাড়া কিছু নয়।
মিথ ১: ডিটক্স ওয়াটার চটজলদি রোগা করে।
ঘটনা: ডিটক্স ওয়াটার সাধারণ জল ছাড়া আর কিছুই না। শুধু একটু ভালো খেতে এই যা। ডিটক্স ওয়াটার নানা রকম ফলের নির্যাস দিয়ে তৈরি করা হয়। তাতে মুখের স্বাদ বদলানো ছাড়া আর নতুন কিছু করেনা। সাধারণ জল খেলে যে উপকার পাবেন এতেও তাই।

মিথ ২: কার্বোহাইড্রেটই শত্রু।
ঘটনা: সব কার্বোহাইড্রেট একরকম নয়। কিছু কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার থেকে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি আসে। প্রতিদিনের খাবারের তালিকা থেকে সেগুলো বাদ দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
মিথ ৩: নুন ছাড়া খাবার মেদ কমায়।
ঘটনা: নুন ছাড়া খাবার খেলে বাড়তি কোনও উপকার পাবেন না। মেদ ঝরাতে তো একদমই সাহায্য করে না। আসলে এটা শরীরের ওয়াটার ওয়েট কমিয়ে দেয়। যদিও সাধারণ খাবার খেলে আবার সেটা বেড়ে যায়।

মিথ ৪: রাতে খাবার খাওয়া ছেড়ে দিলে রোগা হবেন তাড়াতাড়ি।
ঘটনা: সকালে, দুপুরে, রাতে তিনবেলাতেই খেতে বলেন ডাক্তাররা। কোনও একবেলা না খেয়ে থাকলে, শরীরে মেটাবলিজম কমে যায়। রাতের খাবার খেলে কেউই মোটা হয় না। অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার খেলে মোটা হবেন। তাই খাবার না, খাবার থেকে ক্যালরি বাদ দিন।
মিথ ৫: শুধু দুবেলা গ্রিন টি খেলেই ঘরে বসে রোগা হবেন।
ঘটনা: দু কাপ গ্রিন টি কোন বিশেষ উপকার করে না। অন্তত ৪, ৫ কাপ গ্রিন টি খাওয়া উচিত। তাতে শরীরে মেটাবলিজম কিছুটা বাড়তে পারে। আর আ্যন্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত হওয়ায় বারবার গ্রিন টি খেলে শরীরের টক্সিন বেরিয়ে যায়।

পূজা জানান, এই তথ্যগুলো যেমন মাথায় রাখবেন তেমনই সঠিক পরামর্শ নিয়ে ডায়েটও করবেন অবশ্যই। সঙ্গে সারাদিন অন্ততপক্ষে এক ঘণ্টা এক্সারসাইজ করবেন। মন ভাল রাখবেন, শরীরও সুস্থ থাকবে।