দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই মুহূর্তে সারা বিশ্বকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করার মারণ রোগের নাম হল ক্যানসার। যার কোনও ওষুধ সেই ভাবে আজ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। আবার ক্যানসারের মধ্যে অর্ধেকের বেশি রোগী আক্রান্ত হন ফুসফুসের ক্যানসারে। ধূমপান যে ফুসফুসে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিকে আরও বেশি বাড়িয়ে দেয়, সে কথা মন-বেশি সকলেই জানেন। তাই ধূমপান না করা বা ত্যাগ করা, ক্যানসারের ঝুঁকিকে কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু ডাক্তাররা বলছেন, ধূমপান না করলেও ক্যানসার কিন্তু কড়া নাড়তে পারে আপনার ফুসফুসের দরজায়।
ফর্টিস হাসপাতালের রেডিয়েশন অ্যানালোজির সিনিয়র পরামর্শক ডক্টর আশু অভিষেক বলেন, "আমাদের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা অনুযায়ী ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ১০০ জনের মধ্যে ২৫ জন রোগী কিন্তু ধূমপান করেন না। অনেকেই আছেন, যাঁরা জীবনে এক-দুবার সিগারেট খেয়েছেন বা কোনও দিন খাননি। তাই শুধুমাত্র ধূমপান করলেই যে ফুসফুসে ক্যানসার হতে পারে এমন নয়, ধূমপান না করলেও ফুসফুসে ক্যানসার হতে পারে।"

ফলে কেউ নিজে ধূমপান না করলেও কী ভাবে আক্রান্ত হতে পারেন ক্যানসারে? জেনে নিন তার কয়েকটা কারণ:
১. প্যাসিভ স্মোকিং
নিকোটিন এবং বিষাক্ত পদার্থের ধোঁয়া অপ্রত্যক্ষ ভাবেও ক্ষতি করে আপনার শরীরের। আপনি নিজে ধূমপান না করলেও, আপনার সামনে যদি কেউ সিগারেট খান তাহলে তাঁর সঙ্গে আপনি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

২. পরিবেশ দূষণ
যে কোনও মহানগরী বা মেট্রোপলিটন শহর যেমন কলকাতা, দিল্লির বাতাস ভীষণ ভাবেই দূষিত। শহরের কলকারখানা থেকে নির্গত ধূষিত ধোঁয়া, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের বিক্রিয়া, যানবাহনের থেকে আসা দূষিত পদার্থ এবং জ্বালানি থেকে নির্গত ধোঁয়া শহরের বাতাসকে ভীষণ ভাবে দূষিত করে তোলে। যা ফুসফুসেরও ক্ষতি করে। এর থেকে কেউ ধূমপান না করলেও ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন।

৩. পেশাগত কারণে
নির্দিষ্ট কিছু পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। যেমন যাঁরা রাসায়নিক দ্রব্য ও বিষাক্ত গ্যাস নিয়ে কাজ করেন, রঙের কারখানা, কাচের কারখানা, কলকারখানাতে কাজ করেন তাঁদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার বেশি। বিশেষত শ্বাসনালির ওরাল গহ্বর, ল্যারিক্স এবং ফুসফুসে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি থাকে।

৪.জিনগত প্রবণতা
ফুসফুসে ক্যানসার হতে পারে জিনগত কারণেও। বাড়ির কোনও প্রজন্মের কারও ফুসফুসে ক্যানসার থাকলে তা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে বাহিত হতে পারে। পরবর্তী প্রজন্মের কোনও সদস্য আক্রান্ত হতে পারেন ফুসফুসের ক্যানসারে।

তবে ডাক্তারা বারবার পরামর্শ দেন ধূমপান থেকে দূরে থাকতে, বারণ করেন ধূমপান করতে। কারণ ধূমপান করলেই যে কেবল ক্যানসার হবে তা যেমন নয়, ধূমপান না করলেও যেমন ক্যানসার হতে পারে এ কথা সত্যি, তেমনই ধূমপান অবশ্যই ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। আর ধূমপান না করলে সামগ্রিক ভাবে একটি মানুষের সুস্থ থাকার সম্ভাবনাও অনেক গুণ বেড়ে যায়।