স্মার্টফোনের ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে পেনসিল ধরার ক্ষমতা
কথায় বলে আজকালকার বাচ্চারা 'হাইটেক'। আপনি-আমি স্মার্ট ফোনের ব্যবহার না জানলেও একুশ শতকের খুদেরা অনায়াসেই রপ্ত করে ফেলেছে প্রযুক্তির এইসব খুঁটিনাটি। কর্মব্যস্ত জীবনে অভিভাবকরাও আজকাল বাচ্চাদের সময় কাটাতে হাতে তুলে দিচ্ছেন অত্যাধুনিক স্মার্টফ
শেষ আপডেট: 4 May 2018 06:56
কথায় বলে আজকালকার বাচ্চারা 'হাইটেক'। আপনি-আমি স্মার্ট ফোনের ব্যবহার না জানলেও একুশ শতকের খুদেরা অনায়াসেই রপ্ত করে ফেলেছে প্রযুক্তির এইসব খুঁটিনাটি। কর্মব্যস্ত জীবনে অভিভাবকরাও আজকাল বাচ্চাদের সময় কাটাতে হাতে তুলে দিচ্ছেন অত্যাধুনিক
স্মার্টফোন। শুধু তাই নয়। ট্রামে-বসে-ট্রেনে এমনকি পথচলতি রাস্তাতেও যেন ওয়াইয়ের হাতে ফোন, কানে হেডফোন। জগৎ সংসারের সবকিছুর প্রতিই একটা উপেক্ষা রয়েছে তাদের।
কিন্তু এর ফলে আপনার সন্তানের উপর ধেয়ে আসছে মারাত্মক বিপদ। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে আপনার সন্তানের শারীরিক গঠনেও দেখা দিচ্ছে নানা ত্রুটি। সামান্য পেনসিল ধরার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছে নতুন প্রজন্মের খুদেরা।
পৃথিবীর নানা প্রান্তের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যে মোবাইলের নেশা সাংঘাতিক। অত্যাধুনিক গ্যাজেটই এদের জীবনের জিয়নকাঠি। শুধু স্মার্টফোনই নয়, ট্যাব কিংবা আইপ্যাড সবেতেই স্বাচ্ছন্দ্য আজকের তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু সারাক্ষণ স্মার্ট ফোনের স্ক্রলিংই ডেকে আনছে সর্বনাশ।
চিকিৎসকেরা বলছেন, একটানা ফোনে স্ক্রলিং করার ফলে আঙুলের বিভিন্ন পেশীর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধা পায়। ফলে আঙুলের পেশীর সঠিক গঠন হয় না। এর ফলে পেনসিল ধরতে গেলে হাতে জোর পাওয়া যায়না। এমনকি অনেক সময়েই ঠিক ভাবে হাতের আঙ্গুল গুলি কাজও করে না।
এই প্রসঙ্গে ইংল্যান্ড ফাউন্ডেশন এনএইচএস ট্রাস্টের প্রধান পেডিয়াট্রিক থেরাপিস্ট স্যালি পাইন বলেছেন, সঠিকভাবে পেনসিল ধরার জন্য হাতের আঙুলের পেশীগুলি সচল থাকা দরকার। সেই সঙ্গে দরকার পেশীর সঠিক জোর। কিন্তু অতিরিক্ত টাচ ফোন ঘাঁটার ফলে কমজোরি হয়ে যাচ্ছে আঙুলের পেশী। আর সঠিক ভাবে পেনসিল ধরতে না পারায় খারাপ হচ্ছে পড়ুয়াদের হাতের লেখা। ক্ষতি হচ্ছে পড়াশোনার। তাই অভিভাবকেরা সাবধান। স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখুন আপনার সন্তানকে।