
শেষ আপডেট: 12 May 2023 10:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্য এপ্রিলের স্মৃতি ফিরেছে মে মাসের শুরুতেই। বাংলা থেকে ইতিমধ্যেই মুখ ফিরিয়েছে মোখা (Cyclone Mocha)। গতিপথ বদলে বাংলাদেশ ও মায়ানমার উপকূলের দিকে রওনা হয়েছে ঘূর্ণিঝড়। কিন্তু তার প্রভাবেই কলকাতা সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে গরমে নাজেহাল মানুষ। ৪০ ছুঁয়েছে পারদ, সঙ্গে অত্যন্ত বেশি আপেক্ষিক আর্দ্রতা, কখনও আবার তাপপ্রবাহ। তার মধ্যে কারেন্ট যাওয়ার সমস্যা তো আছেই। সব মিলিয়ে আক্ষরিক অর্থেই রাতের ঘুম উড়েছে মানুষজনের (sleep well in summer)।
কখনও বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দু চোখের পাতা এক হচ্ছে না, কখনও আবার ভাঙা ভাঙা ঘুম। হয়তো ক্লান্তিতে বুজে এসেছে চোখ, কিন্তু ভাল করে ঘুম ধরার আগেই কেটে যাচ্ছে ঘোর। আর সেই বিনিদ্র রজনীর রেশ থেকে যাচ্ছে পরের দিনের কাজকর্মে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, গ্রীষ্মকালে শীতকালের তুলনায় দিন বড় হওয়ার জন্যই মূলত এই সমস্যা হয়। আমাদের শরীরে মেলাটোনিন নামে এক ধরনের হরমোন রয়েছে, যার ক্ষরণ মূলত অন্ধকারে, অর্থাৎ সূর্যালোকের অনুপস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ঘুম আনার জন্য এই হরমোনই কাজ করে। শীতের তুলনায় গ্রীষ্মকালের মেলাটোনিন ক্ষরণ হয় কম। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ হয়ে যায় এই হরমোনের ক্ষরণ। ফলে আমাদের শরীর সারাদিনের কাজের জন্য তৈরি হতে শুরু করে। গ্রীষ্মকালে দিন বড় হওয়ায় সাধারণত শীতকালের তুলনায় আগে ঘুম ভাঙে। তবে দিনের পর দিন কম ঘুম হলে তা কিন্তু আদৌ স্বাস্থ্যকর নয়। তাই বাতাসে আর্দ্রতা থাকুক কিংবা তাপমাত্রা বেশি হোক, গ্রীষ্মকালেও পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। গরমেও মধ্যেও যাতে ঘুম ভাল হয়, তার জন্য কয়েকটি ছোট্ট টিপস রইল (sleep tips)।
১. শোয়ার ঘরে এসি না থাকলে জানলা খুলে রাখুন যাতে হাওয়া চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে। ঘুমোনোর আগে একবার মাথা ভিজিয়ে স্নান করতে পারলে, আর তা নিতান্তই সম্ভব না হলে গা ধুলেও অনেকটা আরাম বোধ হয়। দেহের তাপমাত্রাও কমে খানিক। শোয়ার সময় অবশ্যই হালকা সুতির পোশাক পরা উচিত।
২. সন্ধের পর থেকে চড়া আলোয় যতটা সম্ভব কম থাকার চেষ্টা করুন। এতে ঘুম তাড়াতাড়ি আসে। তাছাড়া যে ধরনের ইলেকট্রনিক জিনিস থেকে আলো বের হয়, যেমন মোবাইল, টিভি, কম্পিউটার ইত্যাদি বন্ধ রাখার চেষ্টা করুন।
৩. সন্ধের পর চা কিংবা কফি যতটা কম খাওয়া যায় তত ভাল। এছাড়া শোওয়ার আগে মদ, ভারী খাবার এবং অতিরিক্ত ব্যায়ামও এড়িয়ে চলা উচিত। দিনের বেলা শোওয়ার ঘরের দরজা বন্ধ রাখলে, এবং পর্দা টেনে দিলে ঘর তুলনায় ঠান্ডা থাকবে। তবে সূর্যাস্তের পর জানলা-দরজা খুলে হাওয়া চলাচলের জায়গা করে দিতে হবে।
৪. ঘুমের রুটিন পাল্টানো যাবে না। প্রত্যেকদিন একই সময়ে ঘুমোতে পারলে সবচেয়ে ভাল। দিনের বেলা একটু হাঁটাহাঁটির অভ্যেস তাড়াতাড়ি ঘুম আসতে সাহায্য করে। দুপুরের দিকে ঘুমানোর চেষ্টা না করাই ভাল। তাতে রাতের ঘুম গভীর হবে।
৫. অনিদ্রা কিন্তু শরীরের ভিতর লুকিয়ে থাকা অনেক জটিল শারীরিক এবং মানসিক অসুখের ইঙ্গিতও বটে। উদ্বেগ, অবসাদ, বাইপোলার ডিসঅর্ডারের সমস্যা থাকলে ঘুম না আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সঠিক সময়ে সেসবের চিকিৎসা না করালে কিন্তু ভবিষ্যতে বড় সমস্যা হতে পারে। তাই ঘুমের জন্য সব রকম চেষ্টা করার পরেও যদি ঘুম না আসে, তাহলে অবশ্য করেই চিকিৎসক কিংবা মনোবিদের সাহায্য নিতে হবে।
বাংলায় ‘কেরালা স্টোরি’ দেখালে কেন হিংসা হবে? প্রশ্ন তুলে নবান্নকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের