দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঁচে থাকার জন্য মানুষের যা যা প্রয়োজন, তার মধ্যে প্রথম ও প্রধান হল নিশ্বাস-প্রশ্বাস। কিন্তু এই নিশ্বাস-প্রশ্বাসেরও কিন্তু নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। যেমন তেমন করে শ্বাস নেওয়া মোটেই বিজ্ঞানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর বিষয় নয়। ভুল পদ্ধতিতে শ্বাসগ্রহণ করলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আমরা অনেক সময়েই এক্সারসাইজ করার সময়ে বা পাহাড়ে চড়াই ভাঙার সময়ে শুনি, অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বলছেন, নাক দিয়ে শ্বাস নিতে এবং মুখ দিয়ে ছাড়তে। কিন্তু এর কারণ কী? আসলে শ্বাস নেওয়ার পরে তা যে পথে ফুসফুস পর্যন্ত পৌঁছয়, সেখানেই লুকিয়ে আছে এই পরামর্শের কারণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের শরীর প্রাকৃতিক ভাবে তৈরিই হয়েছে জন্ম থেকেই নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার জন্য। এর কারণও আছে। কার্যত নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া শরীরের পক্ষে অনেক রকম ভাবে উপকারী। একজন সদ্যোজাত বাচ্চা প্রায় সারাক্ষণই নাক দিয়ে শ্বাস নেয় ও ছাড়ে। তার গলায় শ্বাসনালী ও খাদ্যনালীর গঠন এমনই, যে সেই শ্বাস নেওয়ার সময়ে খাবার খেলেও তা সমস্যা তৈরি করে না। এটা এক ধরনের প্রাকৃতিক ‘সারভাইভাল মেকানিজম’।
মানুষের নাকেরও গঠন এমনই হয়, যাতে সেখান দিয়ে গ্রহণ করা শ্বাস কোনও অসুবিধা ছাড়াই ফুসফুসে পৌঁছতে পারে। মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে গেলে বিষম খাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। এগুলো সবই প্রকৃতি ও বিজ্ঞানের মেলবন্ধন, যা আমাদের সুরক্ষিত ও স্বাস্থ্যকর রাখে।
নাক দিয়ে শ্বাস নিলে আরও কিছু উপকার হয় শরীরে, যা মুখ দিয়ে নিলে সম্ভব নয়। আসুন জেনে নিই সেগুলি কী কী।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: গরম হাওয়া হোক বা ঠান্ডা হাওয়া, বুকের ভিতরের ফুসফুস দু’টি যে কোনও হাওয়াই বড় ভালবাসে। আমরা যখন নাক দিয়ে প্রশ্বাস নিই কোনও বাধা ছাড়া, তখন আমাদের নাসিকা পথ সেই হাওয়াকে প্রয়োজন মতো খানিক গরম বা খানিক ঠান্ডা করে দেয়। ঠিক যে তাপমাত্রার হাওয়া ফুসফুস সেই মুহূর্তে চাইছে, সেটাই হয় নাক দিয়ে শ্বাস নিলে। মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে এমনটা হওয়ার উপায় নেই। এই কারণে শীতকালে যাঁরা দৌড়ন, তাঁরা নাক দিয়ে বড় বড় শ্বাস নেন হাঁপিয়ে গেলে, যাতে উষ্ণ শ্বাস পৌঁছয় ফুসফুসে। মুখ দিয়ে নিলে কিন্তু ঠান্ডা হাওয়াই ঝাপটা মারত ফুসফুসে গিয়ে।
ফিল্টার: নাসিকাপথে যে অজস্র ছোট ছোট রোম বা সিলিয়া থাকে, তাতে প্রশ্বাস ছেঁকে পরিশুদ্ধ অক্সিজেন ঢোকে ফুসফুসে। বাতাসে মিশে থাকা বহু সূক্ষ্ম ধূলিকণা, বিষাক্ত বস্তু সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছতে বাধা পায় নাকের সিলিয়ার জন্য।
আর্দ্রতা বজায় রাখা: প্রশ্বাসের সঙ্গে যে বাতাস গ্রহণ করছি আমরা, তা যাতে খুব শুকনো অবস্থায় না পৌঁছয়, সেরকমই ব্যবস্থা রয়েছে নাকের গহ্বরে। নির্দিষ্ট আর্দ্রতা সহযোগে হাওয়া পৌঁছয় ফুসফুসে। অনেক সময়ে এমন হয়, মাঝরাতে আমরা ঘুম ভেঙে উঠে বসি। গলা-মুখ শুকিয়ে গেছে, শ্বাসের সম্সযা হচ্ছে। এমনটা ঘটার বড় কারণ হল, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া। যার ফলে নাকের মধ্যে দিয়ে যে আর্দ্রতা পায় বাতাস, তা পায়নি। শুকনো বাতাস অনেকক্ষণ ধরে গলা দিয়ে বুকে প্রবেশ করায় ভেতরের সমস্তটা শুকিয়ে গেছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।
গন্ধ: শ্বাস নেওয়ার সময় তাতে কোনও বিষাক্ত কিছু রয়েছে কিনা, পচা কোনও অপরিশুদ্ধ বাতাস শরীরে ঢুকছে কিনা, তা বোঝা যায় নাক দিয়ে শ্বাস নিলে তবেই। নাক দিয়ে শ্বাস নিলেই গন্ধ পাওয়া যায় এবং বোঝা সম্ভব হয় বাতাসে কোনও খারাপ কিছু আছে কিনা। মুখ দিয়ে নিলে এটা বোঝা যাবে না।
ফলে আরও বেশি করে পরিশুদ্ধ বাতাস ঠিক তাপমাত্রায় ও ঠিক আর্দ্রতায় বুক ভরে জমিয়ে নিতে হলে অবশ্যই নাক দিয়ে শ্বাস নিন। খুব বেশি হাঁপিয়ে গেলেও মুখ দিয়ে বড় শ্বাস নেওয়ার চেয়ে নাক দিয়ে দীর্ঘ প্রশ্বাস টানা অনেক বেশি কার্যকর। ফলে সচেতন থাকুন শ্বাস নেওয়ার সময়, ফুসফুসকে ভাল রাখুন।