দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুচোখে স্বপ্ন নিয়ে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে যাঁরা ঝাঁ-চকচকে কলকাতায় পড়তে আসেন, তাঁদের অনেকের জন্যে এবার এক দারুণ সুখবর। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার সাঁওতালি ভাষার আলাদা বিভাগ তৈরি হল।
মহাশ্বেতা দেবী বহু বছর আগেই বলেছেন সিধু কানুর কথা। আমরা ইতিহাসে পড়েছি সাঁওতাল বিদ্রোহের কথা। এই উপজাতি এবং তাঁদের ভাষা শতাব্দী প্রাচীন। কিন্তু এতদিন প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষেরা তাঁদের নিজের ভাষাকে নিয়ে উচ্চশিক্ষার দরবারে পৌঁছাতে পারতেন না। যাঁরা স্বপ্ন দেখতেন কলকাতাতে এসে পড়াশোনা করার তাঁরা নিজের ভাষা নিয়ে আর এগোতে পারতেন না। হয় বাংলা নয় ইংরেজিতেই পড়তে হতো।
কিন্তু এখন তা সম্ভব। এমনই অবিশ্বাস্য কিন্তু অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। কলকাতায় এই প্রথম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হতে চলেছে সাঁওতালি ভাষার বিভাগ।
আগে বর্ধমান, বিশ্বভারতী, বিদ্যাসাগর এবং পুরুলিয়ার সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র পড়ানো হত সাঁওতালি ভাষা। কিন্তু কলকাতা শহরের কোনও কলেজে এর আগে পড়ানো হয়নি এই প্রান্তিক ভাষা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ গতবছর থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এই বিভাগ চালু করার। তার জন্যে শিক্ষাদফতরে তাঁরা বহুবার আবেদন জানান। শুধুমাত্র কর্তৃপক্ষ নন, যাদবপুরের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলোও সাঁওতালি বিভাগ তৈরির জন্যে আবেদন জানায়। অবশেষে সকলের সেই দাবিই পূর্ণতা পেল এবছর।
কয়েক বছর আগে থেকেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া যাচ্ছে সাঁওতালি ভাষাতে। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষা যেমন, 'সেট' বর্তমানে সাঁওতালি ভাষায় দেওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এর পরেও একটা প্রশ্ন থেকেই যায়! এ তো শুধু যাদবপুরে সম্ভব হল, বাকি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কী হবে? এখনও যদি বাংলার এই প্রান্তিক ভাষাগুলোর প্রতি যত্ন না নেওয়া হয়, তাহলে হয়তো সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাবে এই ভাষাগুলো এবং তার ঐতিহ্য!
আশা করা হচ্ছে, যাদবপুরের দেখানো পথে এবার হাঁটবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও।