দ্য ওয়াল ব্যুরো: হটডগ,বেকন, সসেজে ভরা প্লেট দেখতে যেমব ভালো আবার খেতেও। অনেকে ভেবেও বসেন এই খাবারগুলি বেশ স্বাস্থ্যকরও। তাই মঝে মাঝেই কফির আড্ডা জমে যায় গরম বেকন বা সসেজে। তবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট কিন্তু উল্টো কথা বলছে। যা শুনলে আঁতকে উঠতে হয়। সসেজ, বেকন,হটডগের মতো খাবারগুলি তৈরি হয় প্রক্রিয়াজাত মাংস দিয়ে। এই প্রক্রিয়াজাত মাংস থেকেই হতে পারে ক্যানসার। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, প্রতি বছর প্রায় ৬,৬০০ ক্যানাসারের ঘটনা প্রক্রিয়াজাত মাংসের কারণে হচ্ছে।সাবধান না হলে সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলেই মত বিজ্ঞানীদের।

হু-এর একটি শাখা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসারের (আইএআরসি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, দৈনিক ৫০ গ্রাম প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে হতে পারে ক্যানসার। বিশেষ করে পায়ুপথ ও খাদ্যনালীতে ক্যানসারের আশঙ্কা বেড়ে যায় ১৮ শতাংশ। এর অর্থ, প্রতিদিন বেকনের মাত্র দুটি টুকরোই এই ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে।

প্রক্রিয়াজাত মাংস অর্থাৎ মাংসকে সংরক্ষণ করে রাখা। যে পদ্ধতিতে এই সংরক্ষণ চলে তাতেই ক্যানসারের সম্ভাবনা বেড়ে যায় বলে মত বিজ্ঞানীদের। সাধারণত মাংসকে পুড়িয়ে নানা ধরণের রাসায়নিক জিনিস দিয়ে তা সংরক্ষণ করা হয়। আর সেখান থেকেই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে বলে জানাচ্ছে -হু। মাংস সংরক্ষণের জন্য যে রাসায়নিক পদার্থ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় তা হল নাইট্রোজামাইন। যা আসলে কারসিনোজেনিক উপাদান বা ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ায়।

প্রক্রিয়াজাত মাংস দিয়ে খাবার সবচেয়ে বেশি তৈরি হয় ব্রিটেন, আমেরিকায়। আজকাল ভারতের বড় শহরগুলিতেও তৈরি হচ্ছে দেলি মিটসের খাবার। যার মধ্যে থাকছে সসেজ , পিৎজা, বার্গার, হট ডগ, বেকন সহ আরও অনেক ধরণের খাবার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্রিটেনের বৈজ্ঞানিকরা। তাঁরা ব্রিটিশ সরকারকে আইন এনে ধরণের খাবার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিচ্ছেন।
তাই সাবধান হন। বেকনের লোভ রাখুন তবে সামলে। ডাক্তাররা জানাচ্ছেন, অল্প পরিমাণে বেকন, সসেজ খেলে তা শরীরের ক্ষতি করে না। তবে, রোজের খাবারে প্রক্রিয়াজাত মাংস একেবারেই রাখবেন না।