
শেষ আপডেট: 23 February 2024 16:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কখনও মেঘলা আকাশ, আবার কখনও ঝলসানো রোদে জ্বালাগোড়া গরম। বসন্তে অকাল বৃষ্টিও হচ্ছে। বৃষ্টি থামলেই আবার গরম, আর্দ্রতা বেশি। ফলে আবহাওয়া যথেষ্টই অস্বস্তিকর। গরম পড়তে না পড়তেই শুরু হয়ে গেছে ঘামাচির সমস্যা। ছোট্ট বাচ্চা থেকে বুড়ো— সকলের কাছেই এই সমস্যা রীতিমতো বিরক্তির।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ঘামাচির একটা ভাল নাম আছে – ‘মিলিয়ারিয়া’। যদিও ঘামাচি ব্যাপারটা একেবারেই ভাল নয়। রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সুবর্ণ গোস্বামী বলছেন, আমাদের শরীরে যে ঘর্মগ্রন্থি বা সোয়েট গ্ল্যান্ড থাকে, তার মুখ বন্ধ হয়ে গেলে ঘামাচি দেখা দেয়। মাথায়, ঘাড়ে, শরীরের নানা জায়গায় ঘামাচি হতে পারে। ছোট ছোট লাল লাল দানার মতো ঘামাচিগুলোয় ঘাম পড়লেই চুলকায়। বেশি চুলকোলে আবার জ্বালাও করে। ঘা হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তবে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে ঘামাচির সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে।
ঘামাচি কাদের বেশি হয়?
যাঁরা খুব গরম বা বেশি আর্দ্রতাযুক্ত পরিবেশে কাজ করেন বা সরাসরি রোদে পরিশ্রমের কাজ করেন।
অপরিচ্ছন্ন থাকলে ও আঁটোসাঁটো জামাকাপড় বেশি পরলে ঘামাচি হতে পারে।
যাঁদের হরমোনের সমস্যা আছে, ডায়াবেটিস বা হাই ব্লাডপ্রেশার আছে তাঁদের 'সামার বয়েল' অর্থাৎ ফুসকুড়ি, ফোঁড়া বেশি বের হয়। সারা শরীরে চুলকানি, অস্বস্তি হতে পারে।
বেশি ঘাম হলেও তার থেকে ঘামাচি হয়। ডিহাইড্রেশন বেশি হলে এবং মাত্রাতিরিক্ত ঘাম হলে শরীর থেকে খনিজ পদার্থ অর্থাৎ সোডিয়াম-পটাশিয়াম বেরিয়ে যায়। শরীর খুব বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
প্রচণ্ড রোদে বেশিক্ষণ থাকলে হিট র্যাশ বেরোয়। এতে শরীরের খোলা অংশে লাল প্যাচের (prickly heat) মতো তৈরি হয়। সেখানে জ্বালাও করতে থাকে। অ্যাকিউট সানবার্ন হলে সমস্যা গুরুতর হয়, তখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ঘামাচি থেকে বাঁচতে
ডাক্তারবাবু বলছেন, গরমে ঘাম হবেই। কিন্তু ঘামাচি এড়াতে ঘামকেও এড়াতে হবে। ঘাম হলেই যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার নরম কাপড় দিয়ে মুছে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে সঙ্গে অতিরিক্ত রুমাল বা গামছা রাখতে হবে।
এখন কিন্তু দিনে অন্তত দু' বার স্নান চলতেই পারে। স্নান করলে শরীর ঠান্ডা হয়। তবে স্নানের সময় অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করলে চলবে না। মেডিকেটেড সাবান, হাল্কা বডিওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।
স্নানে যাওয়ার ১-২ ঘণ্টা আগে মুলতানি মাটি ও তার সাথে একটু চন্দন গুঁড়ো মিশিয়ে জল দিয়ে পেষ্ট বানিয়ে যেসব স্থানে ঘামাচি হয়েছে সেই স্থান গুলিতে লাগিয়ে নিন। তারপর স্নান করার সময় ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।
নিমপাতা বাটাও ঘামাচি কমাতে সাহায্য করে। নিমে আছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা ঘামাচির ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে ঘামাচি নিরাময় করে।
আলুর রসও ঘামাচির সমস্যার সমাধানে একেবারে অব্যর্থ। স্নানের আগে কাঁচা আলুর রস কাপড়ে করে ঘামাচির ওপর লাগাতে পারেন। ঘামাচির চুলকানিও কমবে।
আঁটো সাঁটো পোশাক না পরাই ভাল। হাল্কা সুতির পোশাক পরুন।
অনেকে ঘামাচি কমাতে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘামাচিতে বেশি পাউডার লাগানো ঠিক নয়। এতে ভালর থেকে ক্ষতি হয় বেশি। পাউডার ত্বকের ঘর্মগ্রন্থির মুখ বন্ধ করে দেয়। ফলে ত্বকের ক্ষতি হয়।
ক্যালামাইন লোশন ঘামাচিতে ভাল কাজ দেয়। এর পাশাপাশি চর্ম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্রিমও ব্যবহার করে দেখতে পারেন।