
শেষ আপডেট: 16 October 2021 14:00
থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) রোগটা কি ছোঁয়াচে? থ্যালাসেমিয়া রোগীর কি মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী? এমন নানা প্রশ্ন উঠে আসে। থ্যালাসেমিয়া রোগের সঙ্গে আতঙ্ক যতটা জড়িয়ে ততটাই মিশে আছে অসচেতনতা। এই রোগ কীভাবে হয়, কীভাবে একে রোখা যায়, কতটা সচেতন হতে হবে, এইসব প্রশ্ন সেই তিমিরেই। এখনও সচেতনতার অভাবে থ্যালাসেমিয়া রোগীকে অবজ্ঞা করা হয়। স্কুল-কলেজ, অফিস বা যে কোনও কর্মস্থলে থ্যালাসেমিয়া রোগীকে অছ্যুত করে রাখার প্রবৃত্তি দেখা যায়। অথচ সচেতন হলেই থ্যালাসেমিয়া নির্মূল করা সম্ভব। বর্তমান প্রজন্মকে এর জন্য সচেতন হতে হবে।
কেন হয় থ্যালাসেমিয়া?
থ্যালাসেমিয়া এক ধরনের রক্তের অসুখ। ডাক্তারি ভাষায় বলে ব্লাড ডিজঅর্ডার। এটি জিনগত রোগ। বংশপরম্পরায় শিশুর শরীরে চলে আসে। এই রোগের ফলে শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমতে থাকে। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের রক্তে লোহিত রক্তকণিকা ও হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যায়। রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দেয় রোগীর। যদি মা ও বাবা দুজনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তাহলে সন্তানের শরীরে এই রোগ চলে আসতে পারে। তবে থ্যালাসেমিয়া কোনওভাবেই ছোঁয়াচে রোগ নয়।
থ্যালাসেমিয়া দু’ধরনের হয়—আলফা ও বিটা। আলফা থ্যালাসেমিয়ায় রোগের লক্ষণ মৃদু বা মাঝারি। বিটা থ্যালাসেমিয়ার তীব্রতা অনেক বেশি। বাবা-মায়ের থেকে প্রাপ্ত চারটি জিনের মধ্যে এক বা একাধিক জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে আলফা থ্যালাসেমিয়া হয়। জিন যত ত্রুটিপূর্ণ হবে, সমস্যা তত বাড়বে। চারটি জিনেই যদি ত্রুটি থাকে তাহলে আলফা থ্যালাসেমিয়ার তীব্রতা বাড়বে, তখন তাকে বলা হবে আলফা থ্যালাসেমিয়া মেজর বা হাইড্রপস ফিটালিস।
বিটা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের থেকে আসা দুটি জিনই ত্রুটিপূর্ণ হয়। যদি একটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হয় তাহলে কিছুটা কম উপসর্গ দেখা যায়। একে বলা হয় বিটা থ্যালাসেমিয়া মাইনর। যদি দু’টি জিন ত্রুটিপূর্ণ হয়, তাহলে মাঝারি থেকে মারাত্মক উপসর্গ দেখা যায়। একে বলে বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর।
কী কী লক্ষণ দেখে সতর্ক হতে হবে
প্রচণ্ড ক্লান্তি দেখা দেবে। ত্বক হবে ফ্যাকাশে। নানা রকম সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। হার্টের সমস্যা দেখা দেবে। হাড় ভঙ্গুর হতে শুরু করবে। শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হবে। মুখের হাড়ে বিকৃতি দেখা দিতে পারে, মূত্রের রঙ গাঢ় হবে।