
শেষ আপডেট: 20 November 2023 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিরিয়ডের ওই চারটে দিন সব মেয়ের কাছেই অস্বস্তিকর। কেউ ভোগে পিরিয়ড ক্র্যাম্পে, তলপেটে-কোমরে অসহ্য যন্ত্রণা ভোগায়। আবার কারও মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় অল্পেই। ঘন ঘন মুড বদলাতে থাকে। কোনও কিছুই যেন ভাল লাগে না। সেই সঙ্গেই হজমের গোলমাল, খিদে কমে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয় নানারকমই।
পিরিয়ড চলাকালীন পেটে বা কোমরে ব্যথা সম্পর্কে তাও কিছু সচেতনতা আছে -- কিন্তু তার আগেও যে নানা সমস্যা হয় সে নিয়ে অনেকেরই ধারণা নেই। ঋতুচক্র শুরুর আগে প্রতিটি মেয়ের হরমোনের স্তরেই কিছু পরিবর্তন আসে। বেড়ে যায় স্ত্রী-হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন নিঃসরণের পরিমাণ – ফলে মুড সুইং হতে পারে, বাড়তে পারে রাগ ও উত্তেজনার পরিমাণও। সেই সঙ্গে কমে সেরোটোনিনের পরিমাণও। ফলে বিরক্তিবোধটাই বাড়ে। পিরিয়ডের দিনগুলোতে তো বটেই, পিরিয়ড শুরু হওয়ার কিছুদিন আগে থেকেই শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যা শুরু হয়। শরীর দুর্বল হতে থাকে, মুড বদলাতে থাকে। এই ধরনের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন তাঁরা হয়ত অনেকেই জানেন না এটা আসলে অসুখ নয়, একধরনের সিনড্রোম। একে বলে পিএমএস বা প্রি মেন্সট্রুয়াল সিনড্রোম।
শরীরে কী কী অস্বস্তি শুরু হয়? শরীর ভারী হয়ে যাওয়া, তলপেট, পিঠ ও কোমরে ব্যথা, পেশিতে টান ধরে যাওয়া। একটানা তলপেটে ব্যথা, মাঝেমধ্যে পেলভিক অংশে ব্যথা।
স্তনবৃন্ত ফুলে যাবে, স্তনের চারপাশে চামড়া শক্ত হতে পারে, স্তনে ব্যথা।
বমিভাব, ক্লান্তি-ঝিমুনি, ব্রণর সমস্যা, মাথা যন্ত্রণা, হজমের সমস্যা ভোগাবে। কিছু খেলেই অ্যাসিডিটি হয়ে যেতে পারে।
পিএমএস হলে সঠিক ডায়েট করা দরকার। এই সময় এমন খাবার খেতে হবে যাতে শরীর ঠিক থাকে, আয়রনের ঘাটতি মেটে।
পিএমএসে আদর্শ ডায়েট কী হবে?
বেশি করে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার ও ভিটামিন ডি খেতে হবে। লো-ফ্যাট দুধ, পনির, দই, সয়া মিল্ক খেলে খুব ভাল। যদি পিরিয়ড অনিয়মিত হয়, পিরিয়ডের আগে মারাত্মক পেটে ব্যথা শুরু হয় তাহলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে প্রতি দিন ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম সাপ্লিমেন্ট ক্যাপসুল খান। এই সব জিনিস পেশির শিথিলতা বাড়ায়। রোজ যদি ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ৫০০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম খাওয়া যায় তবে পিরিয়ডের সময় ব্যথার হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন। তবে যদি আপনার পেট খারাপ হওয়ার প্রবণতা থাকে তাহলে ডোজ কমান।
পিএমএস নিয়ে অযথা ভয় পাবেন না। বরং লাইফস্টাইল বদলে এই সমস্যার মোকাবিলা করা যেতে পারে। সারাদিনের রুটিন একটা নিয়মে বাঁধুন। সুষম খাবার, নিয়মিত এক্সারসাইজ, পর্যাপ্ত জল খাওয়া ও সময়মতো ঘুম পিএমএসের সমস্যা কমিয়ে দিতে পারে। এই সময় পেন কিলার খেয়ে বিপদ বাড়াবেন না।
গ্রিন টি খুব ভাল ইউটেরাইন টনিক। পিরিয়ড চলার সময় অবশ্যই দিনে অন্তত দু’বার গ্রিন টি খান। সারা মাস হার্বাল টি খেলেও এই দিনগুলোয় উপকার পাবেন।
সবজি যত সবুজ ততই ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামে পরিপূর্ণ। আগে পিরিয়ডের সময়ে নিরামিষ খেতে দেওয়া হতো। শুধুই সংস্কার নয়। এর বৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে। সবুজ শাক-সবজি ব্লোটিং রুখতে সাহায্য করে। এই সময়ে তাই মাছ, মাংস বাদ দিয়ে ডায়েটে বেশি করে শাক-সবজি রাখুন।