
শেষ আপডেট: 21 September 2021 10:40
কেন জমাট বাঁধছে রক্ত?
পিরিয়ডের সময় বেশি রক্তপাত হলে তাকে ডাক্তারি ভাষায় বলে ‘হেভি মেনস্ট্রয়াল ব্লিডিং’। বেশি রক্তপাত হলে অনেক সময়ে রক্ত তরল অবস্থায় না বেরিয়ে জমাট বেঁধে বেরোয়। অধিক মাত্রায় রক্তক্ষরণের জন্য এমন হতে পারে। রক্তের রঙ গাঢ় খয়েরি বা কালো হয়। চাপ চাপ রক্ত বের হতেও দেখা যায় অনেকের। কমবয়সী মেয়েরা বেশি ভুক্তভোগী। অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের সঙ্গে তলপেটেও ভয়ানক ব্যথা হয়। এমন হলে বুঝতে হবে তলপেটে কোনও সমস্যা রয়েছে। এগুলিকে ‘পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ’ বলা হয়। যোনিদ্বার ও ফেলোপিয়ান টিউবে সংক্রমণ হলেও এমন হয়।
কী কী কারণে হতে পারে পিরিয়ড ক্লট?
থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে
জরায়ুতে পলিপ
জরায়ুতে ফাইব্রয়েড
ব্লিডিং ডিসঅর্ডার
ইউটেরাসে ক্যানসার
টিউমার বা ক্যানসার হলেও এই সমস্যা দেখা দেয়।
পিরিয়ড ক্লট কোন বয়সে বেশি হয়?
সময়ে ঋতুস্রাব শুরু না হওয়া, ঋতুস্রাবের পরিমাণ বেশি হওয়া বা নির্দিষ্ট দিন অন্তর ঋতুস্রাব শুরু না হওয়া, এ সব সমস্যাই সাধারণত বেশি দেখা যায়। তবে চিন্তার কারণ রয়েছে অত্যধিক মাত্রায় রক্তক্ষরণ নিয়ে একে পিউবার্টি মেনোরেজিয়া’ বলে। এ ক্ষেত্রে ১৫-২০ দিন ধরে রক্তপাত হতে থাকে। এমন হলে ডাক্তার দেখানো জরুরি। সাধারণত প্রতিটি ঋতুচক্রে গড়ে ৩০-৪০ মিলিলিটার রক্ত বেরোয়। কিন্তু যখন ৮০ মিলিলিটার বা তার থেকে বেশি রক্তপাত হয় তখনই রক্ত জমাট বাঁধতে দেখা যায়। ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়স অবধি এই সমস্যা দেখা দেয়। ৫০ বছরের পরে ঋতুস্রাব কমতে থাকে, মেনোপজের দিকে এগিয়ে যায় মেয়েরা। কিন্তু তখনও যদি অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হতে থাকে তাহলেও চিন্তার কারণ আছে।
অতিরিক্ত ঋতুস্রাব, পিরিয়ড ক্লট থেকে হতে পারে অন্যান্য রোগও
মেনোরেজিয়া বা অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হলে এবং লাগাতার চাপ চাপ রক্ত বের হতে থাকলে তা শরীরে রক্তের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি বাড়ে মেয়েদের। এমনিও মেয়েদের রক্তাল্পতার সম্ভাবনা বেশি থাকে, ঋতুচক্রে হেভি ব্লিডিং-এর সমস্যা থাকলে তা রক্তাল্পতার ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে পিউবারটির সময় থেকে এই বিষয়টা খেয়াল না রাখলে পরবর্তীকালে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে।
ইস্ট্রোজেন প্রোজেস্টেরন এবং থাইরয়েড হরমোনের তারতম্যের জন্যেও ভারী ঋতুস্রাব বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। অনেক সময় ক্যানসারের কারণে এবং রক্তের অসুখের জন্যেও অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হয়। হেভি ব্লিডিং হলে তার থেকে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, স্ট্রেস বাড়ে। তাই নিজে থেকে ডাক্তারি না করে অবশ্যই একজন স্ত্রী রোগ বিশেশজ্ঞকে দেখানো উচিত। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, কথায় কথায় ওষুধ খাওয়া, লাইফস্টাইলে বদল ইত্যাদি মেয়েদের শরীরের নানা হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আনছে। যার ফলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, পিরিয়ড ক্লট, তলপেটে ব্যথা ইত্যাদি নানা উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'