[caption id="attachment_1656" align="alignleft" width="150"]
দেবার্ক ভট্টাচার্য্য[/caption]
একদিকে পাহাড়ের উঁচু দেওয়াল, অন্যদিকে সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝে এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কিছু বাড়িঘর। উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় প্রায় ৬০০০ মিটার উঁচুতে থাকা এক ছোট্ট গ্রাম ‘সারি’। উখিমঠ থেকে ঘণ্টা তিনেকের পথ এই সারি গ্রাম। সাধারণ মানুষের নিতান্ত সাধারণ জীবন যাত্রার মধ্যেও যেন এই গ্রাম তার স্বকীয়তায় ভরপুর।
গ্রামে ঢুকলেই দেখা মিলবে বৃদ্ধ মীর রঞ্জন নেগীর। বৃদ্ধ মানে কিন্তু অথর্ব মোটেই নন। বরং গ্রামের মুরুব্বি বলা যায় তাঁকেই। সারি থেকে ২.৫ কিলোমিটারের ট্রেক করে যাওয়া যায় দেউরিয়া তাল। আর সেখানে গিয়ে থাকতে হলে এই বৃদ্ধ নেগীর সাহায্য কিন্তু লাগবেই। কারণ দেউরিয়া তালের উপর তাঁবু খাটিয়ে থাকা বা খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা সব কিন্তু করে থাকেন এই বৃদ্ধ। গ্রামে এমনিতেই পুরুষের সংখ্যা বেশ কম। কারণ বেশিরভাগই কর্মসূত্রে দিল্লী, চন্ডীগড় প্রভৃতি জায়গায় থাকেন। কিন্তু চাষের সময় গ্রামে ফিরতে হয় তাঁদের। ফলে পরিবার চালান মূলত বাড়ির মেয়েরা।
[URIS id=1691]
গ্রামের বাসিন্দারা পর্যটকদের আপ্যায়ন করে থাকেন আত্মীয়ের মতো। যে কোনো বাড়িতে গেলেই মিলবে সাদর অভ্যর্থনা। রোডোডেন্ড্রনের জুস আর মালটা ফলের রস সত্যি যাঁরা খেয়ে দেখেননি, তাঁরা অনেক কিছুই মিস করেছেন। যাঁরা ট্রেক করতে যান তাঁদের জন্য সকালের ব্রেকফাস্ট আর ফেরার দিনে দুপুরের লাঞ্চের ব্যাবস্থা নিজের বাড়িতেই করেন মীর রঞ্জন নেগী। ব্রেকফাস্টের মেনু গরম গরম সব্জির পরোটা আর ধনেপাতা, সরষে, কাসুন্দি দিয়ে করা এক সুস্বাদু চাটনি। অন্যদিকে লাঞ্চের মেনু বাড়ির পাশের জমিতে ফলানো ফুলকপি বা বাঁধাকপির তরকারি, টম্যাটোর চাটনি ও ভাত। সবটাই খুব উপাদেয়। গ্রামের সবাই খুব হাসি-খুশি। তাঁদের বেঁচে থাকা, জীবনের লড়াই সবটাই চলে এই ছোট্ট গ্রামকে কেন্দ্র করে। গ্রামের মুরুব্বি নেগী দাদুর কাছে সবাই যান নিজেদের সমস্যা নিয়ে।
যেখানে প্রকৃতি বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে সেখানে যে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে, কাঁধে কাঁধ রেখে লড়াই করতে হয় তার উদাহরণ হল এই গ্রাম। সারি’র পথ-ঘাট, বাড়ির চাতাল, ধানক্ষেত, রোডোডেন্ড্রনের লাল, নীল, গোলাপি, সাদা ফুলগুলো যেন সেই সংগ্রামকেই আরও বেশি করে মানুষের সামনে তুলে ধরে। ফেরার পথে নেগী দাদুর কোলে বসে থাকা কচিকাঁচাদের দল যেন আবারও মনে করিয়ে দেয় যে পুরোনো বাড়ির দেওয়ালেই জন্ম নেয় নতুন বটের শাখা।