
শেষ আপডেট: 24 February 2022 07:25
সমীক্ষা বলছে, কোভিডের প্রথম ঢেউয়ে অন্তঃসত্ত্বা ও সদ্য মায়েদের মধ্যে সংক্রমণের হার ছিল ১৪.২ শতাংশ। দ্বিতীয় ঢেউয়ে এমনিতেও ভাইরাসের নানা প্রজাতি দ্বিগুণ সংক্রামক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এর জের পড়েছে প্রসূতীদের মধ্যেও। দেখা গেছে, দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর থেকে গর্ভবতী ও সদ্য মায়েদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেড়ে হয়েছে ২৮.৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রথম ঢেউয়ের থেকে দ্বিগুণ বেশি। এখন ওমিক্রনের সংক্রমণ কালে এই সম্ভাবনা আরও বেড়েছে। অন্তঃসত্ত্বাদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি।
গর্ভবতী মায়েদের শরীরে করোনার কী কী উপসর্গ দেখা গেছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভবতী মায়েরা সংক্রমিত হলে কতটা জটিল অসুখ করতে পারে তা এখনও সঠিকভাবে বলা যায়নি। অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সব ক্ষেত্রে সংক্রমণ জটিল পর্যায়ে পৌঁছয়নি। হাল্কা জ্বর, মাথাব্যথা, গা-হাতপায়ে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা গেছে। ভাইরাল ফ্লু-এর মতো উপসর্গও দেখা গেছে অনেকের। আবার অনেকেরই রোগের কোনও বাহ্যিক লক্ষণ দেখা যায়নি। উপসর্গহীন বা অ্যাসিম্পটোমেটিক মায়েরা প্রসবের আগে জানতে পেরেছেন তাঁরা করোনা আক্রান্ত। আর প্রসবের পরে দেখা গেছে সন্তানের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়েছে।
দ্বিতীয় ঢেউয়ে জ্বর ও নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গ বেশি দেখা গেছে। শ্বাসের সমস্যাতেও ভুগেছেন অনেক গর্ভবতী মায়েরা। তৃতীয় ঢেউয়ের সময় উপসর্গ আরও বেশি দেখা গেছে। কোমর্বিডিটি থাকলে সংক্রমণ জটিল পর্যায়ে পৌঁছতে দেখা গেছে। এমনকি সময়ের আগেই প্রসব, গর্ভপাতের মতো উদ্বেগজনক পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।
কীভাবে সন্তানকে আগলে রাখবেন মায়েরা
সন্তানের জন্ম দেবেন এমন মায়েদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা দরকার। জ্বর, সর্দি-কাশি বা ফ্লু-এর মতো উপসর্গ দেখা দিলেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এখন যা পরিস্থিতি তাতে সামান্য লক্ষণ দেখা গেলেই কোভিড টেস্ট করিয়ে নেওয়া ভাল। তাহলে আগে থেকেই চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া সম্ভব হবে। প্রসবকালীন সময়েও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হবে যাতে কোনওভাবে সদ্যোজাতের শরীরে সংক্রমণ ঢুকতে না পারে।
সদ্য মায়েরা ব্রেস্টফিডের সময় বেশি সতর্ক থাকুন। মায়ের শ্বাস-প্রশ্বাস, মুখ থেকে বেরনো থুতু বা লালার সঙ্গে ভাইরাস ছড়াতে পারে সন্তানের শরীরে। তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মাস্ক পরে থাকা সবচেয়ে বেশি জরুরি। ব্রেস্টফিডের আগে ভাল করে হাত ধুয়ে নিতে হবে, নিজের ও সন্তানের জামাকাপড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।
গর্ভবতী মা কোভিড পজিটিভ হলে ডেলিভারি কোভিড ওয়ার্ডের আইসোলেশন রুমে হওয়াই ভাল। সেখানে ডাক্তার ও নার্সেরা প্রোটেকটিভ গিয়ার পরে থাকবেন। সন্তান জন্মের পরে তারও বিশেষ সুরক্ষা নেওয়া হবে।
ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ফ্লু ভ্যাকসিন নিয়ে রাখা ভাল। এতে সংক্রমণজনিত জটিল রোগের ভয় থাকে না।
ব্রেস্ট পাম্প ব্যবহার করছেন যাঁরা, তাঁরা ভাল করে স্টেরিলাইজ করে তবেই পাম্প করুন। কোভিড পজিটিভ হলে ব্রেস্ট ফিড করার আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে নেওয়াই ভাল।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'