
শেষ আপডেট: 17 August 2018 13:53
তবে কেবল যে চল্লিশের কোঠাতে গেলে তবেই নিজের প্রতি যত্ন নেওয়া শুরু করবেন তা কিন্তু একেবারেই নয়। এই অভ্যাস শুরু করুন একেবারে টিন এজ থেকেই। কারণ জানবেন বয়স ২০ হোক বা ৩০ কিংবা ৪০----প্রতি ধাপেই মহিলাদের শরীরে কিছু না কিছু পরিবর্তন হয়। আর সেই সমস্ত পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শরীরকে ঠিক রাখতে নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়াটা ভীষণ জরুরি।
তবে নিজের দিকে খেয়াল রাখতে গিয়ে মহিলারা প্রতিদিন কিছু না কিছু ভুল করে থাকেন। ভুলটা অজান্তে হলেও বিষয়টা মারাত্মক হতে পারে আপনার জন্য।
*ডায়েট করা হাল ফ্যাশনের ট্রেন্ড। পরিচিত কাউকে ডায়েট করতে দেখলেই 'আমাকেও এ বার ডায়েট করতে হবে' এই মনোভাব ঝেড়ে ফেলুন। বরং আপনার মেটাবলিক রেট কত, কতটা ক্যালরি আপনার শরীরে দরকার এগুলো জানার চেষ্টা করুন। আর চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কিছুতেই ক্র্যাশ ডায়েট করবেন না। তাতে সাময়িক ভাবে ওজন হয়তো কমবে। কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে নানা রকমের ঘাটতি দেখা দেবে আপনার শরীরে। যার জেরে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন খুব তাড়াতাড়ি।
*আজকাল বেশিরভাগ অফিসেই কাজের চাপ মারাত্মক। কিন্তু ওই একটি চেয়ারে বসেই কাজ আপনার। আর চোখের সামনে সর্বক্ষণের সঙ্গী কম্পিউটার। আর সারাদিন একই জায়গায় বসে কাজ করার ফলে আপনার শরীরে বাসা বাঁধা নানা জটিল রোগ। সঙ্গে ঘাড়, মাথা, কাঁধ, কোমর, পিঠ ব্যথা তো রয়েইছে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে চেয়ার ছেড়ে উঠে দু'পাক হেঁটে আসুন। সবসময় অবশ্য অফিসে এমন পরিস্থিতি থাকে না। কিংবা কাজের চাপে সুযোগ হয়ে ওঠে না। কিন্তু যখনই একটু ব্রেক পাবেন খানিকটা হাঁটাহাঁটি করে ফেলুন।
*একুশ শতকে ব্যস্ত জীবনে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় খাওয়াদাওয়ায়। বিশেষত কর্মরত মহিলাদের ক্ষেত্রে এটা নিত্যদিনের সমস্যা। সকালে অফিস বেরোনোর আগেও কোনও মতে ব্রেকফাস্ট সারতে হয়। আর বাকি দিনটাও চলে সেই ভাবেই। লাঞ্চ থেকে ডিনার সবেতেই অনিয়ম। তার মধ্যে মাঝে মাঝেই বাইরের খাবারও খাওয়া হয় প্রচুর পরিমাণে। সময়ের অভাবে আমরা সবাই আজকাল 'রেডি টু ইট' ধারণায় বিশ্বাসী। অনিয়মিত খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি জল খাওয়া হয় কম পরিমাণে। আর এই সবের ফলেই শরীরে দেখা দেয় নানা জটিল রোগ। তাই নিজের খাওয়া দাওয়ার প্রতি নজর দিন। সময়ে খান। কম তেলমশলা যুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। আর বাইরের খাবার এড়িয়ে চলে যতটা সম্ভব বাড়িতে রান্না করা খাবার খান।
তবে সবসময় যে এত কড়া নিয়মে থাকতে হবে তা নয়। মাঝে মধ্যে ওয়ার্কআউটে ফাঁকি দেওয়া চলতেই পারে। কিংবা কোনওদিন রসনা তৃপ্তির জন্যে খেয়ে নিতেই পারেন পছনের মোগলাই ডিশ। তবে অবশ্যই এইসব করবেন মাঝে মাঝে। শরীরের উপর অত্যাচার না করে বরং লাগাম দিন। অনিয়ম শিকেয় তুলে সুস্থ জীবনের ট্র্যাকে ফিরুন। ফিট থাকুন। ভালো থাকুন।