
শেষ আপডেট: 30 May 2019 18:30
সাফল্য আর ব্যর্থতা একই মুদ্রার দুই পিঠ। অন্ধকার যেমন আছে, তেমনি তার অবসানে আলোর প্রকাশও আছে। পেশাগত ক্ষেত্রে হোক বা ব্যক্তিগত জীবনে, সাফল্যের সিঁড়ি যে সবসময়েই পায়ের ঠিক নীচেই ঘাপটি মেরে থাকবে এমনটা নয় মোটেও। বরং সাফল্য আর ব্যর্থতা সমান্তরাল ভাবে পাশাপাশি চলবে এমনটাই দস্তর। তাই যে পরিস্থিতিই জীবনে আসুক না কেন, মনোবল হারাবে চলবে না। এই মোদ্দা কথাটাই নানা ভাবে, নিজেদের জীবনী দিয়ে বা অভিজ্ঞতা দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বরা।
পরিকল্পনাতেই আসবে সাফল্য। বিশ্বাস আর হার না মানার জেদ যদি দোসর হয়, তাহলে ব্যর্থতার আঁধারকেও হেলায় উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। নারী হোক বা পুরুষ, শত বাধার মধ্যেও জীবনের রস নিঙড়ে নেওয়ার মূলমন্ত্র দিলেন সাত নারী।
অভিনেত্রীর কথায়, “ছবির শ্যুটিংয়ের সময় নার্ভাস-ব্রেকডাউন হয়েছে, বহুবার ভেঙে পড়েছি, নিজের উপর রাগ হয়েছে। একসময় মনে হয়ে মৃত্যু খুব কাছে এসে। কিন্তু সেখান থেকেও ফিরে এসেছি।” মাতৃত্ব নারীদের সবচেয়ে সুন্দর উপহার, বলেছেন এমা। মাতৃত্বকে উপভোগ করুন, সন্তানকে বোঝার চেষ্টা করুন। বেশিরভাগ মহিলাদের সমস্যাই শুরু হয় পরিবার থেকে। ভেঙে পড়া নয়, ধৈর্য ধরে তার সমাধান সম্ভব।
জো জানিয়েছেন তাঁর জীবনের এক অভিজ্ঞতার কথা। বলেছেন, ‘‘তখন সবে বিয়ে হয়েছে। এক সংবাদ মাধ্যম আমাকে নিয়ে হেডলাইন করে, এই যে নববিবাবিতা বধূ, মোটা এবং চওড়া।’’ নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তে এই হেডলাইন নিয়ে নাকি তিনি আর তাঁর স্বামী খুব হেসেছিলেন। জো বলেন, এই ভাবে সবকিছুর মধ্যেই হাসি আর প্রাণ খুঁজে নিতে হয়। তাহলে যে আপনাকে ছোট করতে চাইছে, সে নিজেই অবাক হয়ে পিছু হটে যাবে।
কেলেচির কথায়, ‘‘আমরা সত্যি আর স্পষ্ট কথা খোলাখুলি বলতে ভয় পাই। অনেক সময়েই পরিণতির কথা ভেবে সংকোচ করি। কিন্তু, কথা চেপে রাখলে ভয় আরও বেশি চেপে বসে। মানসিক শান্তি কখনও আসে না। যা কিছু ঠিক, যেটা ন্যায্য সরাসরি বলতে শিখুন। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না কখনও।’’
নিজের গায়ের রঙ নিয়েও কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি কেলেচিকে। কিন্তু, তাতে তাঁর মানসিক স্থিতি কখনও টলেনি। অভিনেত্রী বলেছেন, সুপ্ত বীজ থেকেই নতুন গাছের জন্ম হয়। তাই অসাফল্য, ব্যর্থতা থেকেই মানুষ সাফল্যের রসদ খুঁজে নেয়।
প্রথমে চেকোস্লোভাকিয়া, সেখান থেকে ১৯৪৯ সালে পাড়ি দেন আমেরিকা। সাইকোলজির উপর ডিগ্রি নিয়ে খ্যাতনামা মনোবিজ্ঞানীর শিরোপা পান। মৃত্যু পথ থেকে ফিরে আসা ইভা বরাবরই তরুণ প্রজন্মকে লড়াই করে বেঁচে থাকার পরামর্শ দেন।
বলেন, ‘‘জীবনে পতন যেমন আছে, তেমনি আছে উত্থানও। যন্ত্রণার মুহূর্তগুলো অভিশাপ নয়, বরং এগিয়ে চলার প্রেরণা। জীবনের পথে শক্তি যোগায়।’’ ইভার কথায়, জীবনে কী হতে চলেছে, কেউ জানে না। ভবিষ্যতে কী ঘটবে সেটাও বলা সম্ভব নয়। কিন্তু তুমি তোমার মনের মধ্যে যে শক্তি জমা রাখবে সেটা কখনও কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না।
‘‘কনসেন্ট্রেশনের ক্যাম্পের প্রথম সপ্তাহে আমি শিখেছি কী ভাবে বেঁচে থাকতে জানতে হয়। সেনার থেকে রুটি ছিনিয়ে নেওয়া মানে তুমি হিরো, আর সহবন্দির থেকে মানে তুমি স্বার্থপর। প্রতিযোগিতা, সাহস, মৃত্যুভয় একই সঙ্গে খেলা করে আমাদের মনে। তাকে বশে আনতে পারলেই জীবনে তুমি জয়ী।’’
তাঁর কথায়, ‘‘আমি ভোর সাড়ে ৪টেয় ঘুম থেকে উঠি। সারাদিনের কাজের তালিকা বানাই। নতুন উদ্যোম নিয়ে কাজ শুরু করি। রোজই যে সব কাজ সঠিক ভাবে করি তা নয়, দিনের শেষে সে সবের মূল্যায়ণ করি। পরের দিন কী ভাবে সেই খামতি পূরণ করবো সেটা ভাবি।’’
আত্মবিশ্লেষণে বিশ্বাসী মেশেল। জানিয়েছেন, প্রতিদিনই আমাদের নবজন্ম হয়। কাজেই অতীতে কী হারালাম, কী ভুল করলাম সেটা বড় কথা নয়, সেই নিয়ে চিন্তা করারও কারণ নেই।সবসময় সামনের দিকে তাকিয়ে চলার প্রয়োজন। নতুন দিন কী ভাবে নতুন করে শুরু করা যায় সেই ভাবনাই হলো সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
শেষ থেকেই শুরু করা উচিত। এমন কথাই বলেন আমেরিকান অভিনেত্রী-মডেল লিলি কলিন্স।
তাঁর কথায়, ‘‘ব্যর্থতা মানেই জীবনে ফুলস্টপ পড়ে যায় না। সঠিক সময়ের অপেক্ষা করা প্রয়োজন। হচ্ছে না মানে সেটা হওয়ার সময় আসেনি। সবকিছুই সময় এবং ধৈর্যের উপর নির্ভর করে।’’