
শেষ আপডেট: 11 September 2023 08:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়াদিল্লিতে জি-২০ সম্মেলনে রাষ্ট্রনেতাদের পছন্দের খাবার হয়ে উঠেছে মিলেট বা রাগি। দেশের সেরা শেফরা রাঁধছেন মিলেটের (Millet) নানা পদ। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, ময়দার বদলে যদি মিলেট বা রাগি ব্যবহার করা হয়, তা হলে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আয়রন, ক্যালশিয়াম, প্রোটিন-সহ বেশ কিছু খনিজ রয়েছে, যা শুধু ওজন নয় রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে রাগি।
ওজন, কোলেস্টেরল ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান যাঁরা, তাঁদের খাদ্যতালিকায় ওটস, কিনওয়া বেশ জাঁকিয়ে বসেছে ইদানীং। কিন্তু জানেন কি, আমাদের দেশেই রয়েছে এমন দানাশস্য যা পুষ্টিগুণে টেক্কা দেবে সকলকে। একগাদা টাকা খরচ করে ভিনদেশের মাটিতে জন্মানো ফল-শস্যের প্রতি ভরসা রাখার কোনও দরকারই নেই। পুষ্টিগুণের দিক থেকে জোয়ার, রাগি (Millet) বা বাজরার মতো দানাশস্যগুলির তুলনা মেলা ভার।

পুষ্টিবিদদের মতে, রাগিতে ফাইবারের পরিমাণও অনেকটাই বেশি। এই ফাইবার অন্ত্রের জন্য ভাল। এ ছাড়াও, রাগিতে ‘আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট’ নেই বললেই চলে। ফলে শরীরে বাড়তি মেদ জমার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। তাই প্রতি দিনের সাধারণ খাবারের মধ্যে রাগি রাখলে অনেকটাই উপকার হয়।
রাগিতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম এবং পটাশিয়াম হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও, রাগিতে থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ লিভারে ফ্যাট জমতে বাধা দেয়। ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাও ঠিক থাকে।
রাগিতে (Millet) থাকা ফাইবার অত্যন্ত সহজপাচ্য তাই হজমের সমস্যা থাকলেও রাগি খাওয়া যায়।
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলেও রাগি খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুন: মেঘলা, বৃষ্টিতে অবসাদের মেঘ ঘনাচ্ছে? শরীর-মন ডিটক্স করার উপায় বলছেন বিশেষজ্ঞরা
নিয়মিত রাগি খেলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়।
সাধারণত দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারকেই ক্যালশিয়ামের প্রধান উৎস বলে মনে করা হয়। তবে পুষ্টিবিদেরা বলছেন, রাগিতেও যথেষ্ট পরিমাণ ক্যালশিয়াম থাকে। তাই দুধ সহ্য হয় না যাঁদের, তাঁরা রাগি দিয়ে তৈরি খাবার খেতেই পারেন।
রাগিতে থাকা ফাইবার অনেক ক্ষণ পর্যন্ত পেট ভর্তি রাখে। তাই বার বার খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে। রাগি মেদ ঝরাতেও খুব উপকারি।
মনে করা হয়, সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকে জোয়ার, বাজরা বা মিলেটজাতীয় শস্যের ফলন চলে আসছে। বর্তমানে ১৩০টিরও বেশি দেশে চাষ করা হয় এই শস্য। এশিয়া এবং আফ্রিকা জুড়ে প্রায় ৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই খাবারের উপর নির্ভরশীল।