[caption id="attachment_88033" align="alignleft" width="118"]

সুতপা বড়ুয়া[/caption]
জন্ম বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। কিন্তু বৈবাহিক সূত্রে আজ আমি কলকাতাবাসী হলেও, মায়ের হাতের সেই রান্নার স্বাদ ভুলতে পারিনি। মায়ের হাতের ছোঁয়ায় সবকিছুতেই রয়েছে দেশের মাটির টান। মাছের নানা পদ তো অনবদ্য।
মনে পড়ে যায়, ছোটবেলায় আমি কুমড়ো খেতে একদমই পছন্দ করতাম না। নাম শুনলেই দশ হাত দূরে ছিটকে যেতাম। তবে কুমড়ো দিয়ে মা যে সব পদগুলো বানাতেন তার সুবাস ছিল অসাধারণ। একদিন মা আমাকে বললেন, ‘‘আজ একটু খেয়ে দেখো। চিংড়ি মাছ দিয়ে করেছি, তোমার খারাপ লাগবে না।’’

চিংড়ি মাছ আমার বরাবরই প্রিয়। শুধু আমার কেন, ঘটি-বাঙালের চিরন্তন কাজিয়া ছেড়ে চিংড়ির যে কোনও পদ যেমন স্বাদে-গন্ধে রাজকীয়, তেমনি এর আকর্ষণ দুর্নিবার। চিংড়ি মানেই জিভে জল, মন চঞ্চল। মায়ের হাতের কুমড়ো-চিংড়ির মেলবন্ধন খেয়ে আমার কুমড়োর প্রতিও ভালোবাসা তৈরি হয়। রেসিপিটা মূলত চট্টগ্রাম স্টাইলেই। আপনাদের সঙ্গে আজ এই রান্নাটা শেয়ার করছি। কুমড়ো-চিংড়ির মিলমিশ সুস্বাদু, আবার স্বাস্থ্য সম্মতও। যারা হেলদি খাবারে ভরসা রাখেন, আবার মুখরোচকও পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এই রেসিপি পারফেক্ট।
চট্টগ্রাম স্টাইলে কুমড়ো-চিংড়ির মেলবন্ধনের জন্য লাগবে ঘরোয়া উপকরণই
যা যা দরকার দেখে নিন চট করেঃ
কুমড়ো - ৩০০ গ্রাম,
সর্ষের তেল - ১টেবিল চা চামচ,
ছোট চিংড়ি - ৮-১০টি,
রসুন -৬-৭টি কুচি,
শুকনো লঙ্কা -১টি,
হলুদ গুঁড়ো -১/২ চামচ,
লঙ্কা গুঁড়ো - ১/২ চা চামচ,
চিনি -১/২চা চা চামচ (মা দিতেন না, আমি দিই),
নুন আন্দাজ মতো,
ধনে পাতা
কুমড়োর সঙ্গে হাত ধরেছে চিংড়ি, জমাটি এই রান্না হবে সহজেই
প্রণালীঃ
প্রথমে একটি প্যানে এক টেবিল চামচ তেল দিয়ে তাতে কুচোনো রসুন আর শুকনো লঙ্কা দিতে হবে। রসুন যখন একটু লালচে হবে, তখন চিংড়ি মাছ আর কুমড়ো দিয়ে ভালো করে কষাতে হবে। নাড়াচাড়া করে গুঁড়ো মশলা, নুন স্বাদমতো আর চিনি দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। এই রান্না হবে মাখা মাখা। তাই বেশি জল না দেওয়াই ভালো। অল্প জল দিয়ে আঁচ কমিয়ে ঢাকা দিয়ে দিতে হবে। ভাপে ৫-৬মিনিট রাখার পর কাঁচা সর্ষের তেল ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। ধনে পাতা কুচি ছড়িয়ে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
মায়ের হাতের স্বাদের তুলনা নেই। মায়ের রান্নার হরেক রকম নিয়েই আমাদের এই নতুন বিভাগ। থাকবে অনাড়ম্বর, ঘরোয়া রান্নার স্বাদ, যা বানিয়ে ফেলা যাবে সহজেই। এমন অনেক রান্না আছে যা বর্তমান ব্যস্ততার যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে। তারই একটা কুমড়ো-চিংড়ির মেলবন্ধন। আজকের এই রেসিপির হদিস দিলেন সুতপা বড়ুয়া (ফোনঃ ৯৬৭৪৭৭৫২৬৮)।