
শেষ আপডেট: 27 April 2023 07:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমাদের সমাজে বন্ধ্যত্ব খুব বড় সমস্যা। দিনে দিনে এই সমস্যা বাড়ছে। সাধারণত বন্ধ্যত্বের জন্য মহিলাদেরই বেশি দায়ী করা হয়। কিন্তু দেখা গেছে, ৫০ শতাংশ বন্ধ্যত্বের কারণ মেল-ইনফার্টিলিটি ফ্যাক্টর (Male Infertility)। বিশ্বজুড়ে সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের শুক্রাণুর (male reproductive system) সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে কমতে শুরু করেছে। ইরেকটাইল ডিসফাংশনের (Erectile dysfunction) মতো শারীরিক সমস্যাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলছেন, স্পার্ম বা শুক্রাণুর সংখ্যা কমছে, গঠনে বদল আসছে, স্পার্মের গতিও কমছে। এর কারণ অনেক।
ওবেসিটি এবং স্ট্রেস--দুটোই পুরুষ বন্ধ্যত্বের কারণ। ডায়াবিটিস,কোলেস্টেরলে, উচ্চ রক্তচাপের মতো শারীরিক সমস্যাও কারণ হতে পারে।

স্থূলত্ব বা ওবেসিটি যেমন পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই ইনফার্টাইল হওয়ার বড় কারণ, তেমনি জীবনযাপনে কিছু অসংযম, খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান-অ্যালকোহলের নেশা, শরীরচর্চায় অনীহা, অবসাদ-স্ট্রেস-উৎকণ্ঠা এবং নানা রকম ওষুধ খাওয়ার প্রবণতাও বন্ধ্যত্বের সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে। এইসব কিছুর সঙ্গেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যোগ আছে ডায়াবেটিসের। বিশেষজ্ঞরা বলেন, টাইপ-১ ও টাইপ-২ দুই ধরনের ডায়াবেটিসই ইনফার্টিলিটির জন্য দায়ী।
পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের সমস্যা, ইরেকটাইল ডিসফাংশন, রিটার্ডেড ইজাকুলেশন, রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন, শুক্রাণু বা স্পার্মের সংখ্যা কম, মানও খারাপ, হাইপোগোনাডিজম (টেস্টোস্টেরনের সংখ্যা কম)– এসবের কারণ হতে পারে নানারকম কো-মর্বিডিটি।
বর্তমান সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে ইরেকটাইল ডিসফাংশনে (Erectile Dysfunction) ভুগছেন অসংখ্য পুরুষ। পঞ্চাশ পেরিয়ে গেলে এই সমস্যা দেখা দেয় অনেকেরই। উপযুক্ত সমাধানের জন্য কেউ সাহস করে সমস্যার কথা প্রকাশ্যে আনেন, কেউ আবার পুরুষত্বে ঘা লাগার আশঙ্কায় মুখ বুজে বাজার চলতি নানা পিলের উপর ভরসা রাখেন। ইরেকটাইল ডিসফাংশন শুধু যৌনজীবনকে ব্যাহত করে তাই নয়, জন্ম দেয় গুরুতর মানসিক সমস্যার। ইরেকটাইল ডিসফাংশন হয় নিউরোপ্যাথি বা স্নায়ুর কার্যকারিতা কমে গিয়ে, রক্ত সরবরাহ কমে গেলেও পুরুষাঙ্গের উত্থান বা ইরেকশনে সমস্যা হয়। রক্তে অধিক শর্করা, উচ্চরক্তচাপ, বেশি মাত্রায় কোলেস্টেরল ইরেকটাইল ডিসফাংশনের বড় কারণ।
পুরুষজনিত বন্ধ্যত্ব সারানো সম্ভব। কলকাতা বিড়লা ফার্টিলিটি ও আইভিএফ সেন্টারের প্রধান কনসালট্যান্ট ডা. সৌরেন ভট্টাচার্য বলছেন, "বিশ্বজুড়ে বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভুগছেন ১৫ শতাংশ দম্পতি। ২০-৩০ শতাংশ পুরুষ বন্ধ্যত্বজনিত সমস্যার শিকার। এর কারণ হতে পারে হরমোনের গন্ডগোল, ইউরোজেনিটাল ট্র্যাক্টে ব্লকেজ, স্পার্ম কাউন্ট কমে যাওয়া ইত্যাদি। শুক্রাণুর গতিও কমছে পুরুষের। মহিলাদের সিস্টেমে ঢোকার পরে ডিম্বানু অবধি যাওয়ার আগেই মৃত্যু হচ্ছে স্পার্মের। দেখা গেছে, বেশি অ্যালকোহলে আসক্তি, অত্যধিক শারীরিক পরিশ্রম, শ্রমসাধ্য শারীরিক কসরত করেন যাঁরা তাঁদেরই এই সমস্যা বেশি হয়।"
শুক্রাণুর ঘনত্ব, স্পার্ম কাউন্ট, স্পার্ম কনসেনট্রেশন, স্পার্ম মটিলিটি, ভাইটালিটি, মরফোলজি ইত্যাদি নানা ফ্যাক্টর দেখে পুরুষজনিত বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা করা হয়। আইইউআই (ইন্ট্রা ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন), ইকসি বা ইন্ট্রা-সাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইঞ্জেকশন ইত্যাদি নানারকম থেরাপি দিয়ে পুরুষ বন্ধ্যত্ব (Male Infertility) সারানো যায়। এর সঙ্গে লাইফস্টাইল মডিফিকেশনও জরুরি।
গরমে অতিরিক্ত শরীরচর্চায় বিপদ হতে পারে, এই নিয়ম মেনে ব্যায়াম করুন