দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোগা হওয়ার সহজ উপায় জোরকদমে হাঁটা। এটাই নাকি সুস্থ থাকার রহস্যের অন্যতম চাবিকাঠি। রোজ নিয়ম করে হাঁটলে ঝরবে অতিরিক্ত মেদ। সব ধরনের একসারসাইজের মধ্যে হাঁটাই সবচেয়ে উপকারী। যুগ যুগ ধরে এমন প্রবাদ বাক্যই প্রচলিত। এর জেরে সাতসকালে উঠেই রীতিমতো ঘাম ঝরিয়ে হাঁটার প্রচেষ্টা করেন অনেকেই। তবে সমীক্ষা বলছে, অতিরিক্ত দ্রুত গতিতে হাঁটা কিংবা অতিরিক্ত একসারসাইজ, শরীরের জন্য কোনওটাই ভাল নয়। বরং সবকিছু বেশি হওয়ার ঠ্যালায় অজান্তেই বড় বিপদ হতে পারে। এমনকি আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
সকাল সকাল শরীর চর্চার অভ্যাস থাকে অনেকের। কেউ যোগাসন করেন। কেউবা ছোটেন জিমে। কারও হাতে সময় কম থাকলে অন্তত হাঁটার চেষ্টা করেন। যে সে হাঁটা নয়, একেবারে ঘাম ঝরিয়ে, দম বেরিয়ে হাঁপিয়ে যাওয়ার উপক্রম। এতেই নাকি ফিট থাকবে শরীর। তবে চিকিৎসকরা আজকাল বলছেন অন্য কথা। বিশেষজ্ঞদের মতে শরীর সুস্থ এবং ফিট রাখতে হাঁটাচলার অভ্যাস অবশ্যই ভাল। কিন্তু হাঁটার গতি যেন অতিরিক্ত না হয়। বরং একজন তাঁরা স্বাভাবিক গতিতে হাঁটলেই সুস্থ থাকবেন বেশি।
রোজ হাঁটুন সময় মেপে, নিয়ম মেনে----
১। স্বাভাবিক গতির তুলনায় বেশি স্পিডে কখনই হাঁটবেন না। তাতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ঘাম ঝরার বদলে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ। হার্টের সমস্যা থাকলে তো দ্রুত গতিতে হাঁটাচলা নৈব নৈব চ। ডাক্তার হাঁটতে বলেছে বলেই হনহনিয়ে হেঁটে ফেললে বিপদ সমূহ। তা বলে শামুকের গতিতে হাঁটবেন না। তবে জোর করে অতিরিক্ত স্পিডে না হাঁটাই ভাল।
২। সময় ধরে হাঁটুন। ঘড়িতে চোখ রেখে সময় মেপে হাঁটা খুবই জরুরি। চিকিৎসকদের কথায় প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ-মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই টানা ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটাই যথেষ্ট। তবে এই হাঁটাচলা হতে হবে নিয়মিত। আর হাঁটার সময় প্রচুর পরিমাণ কথা বলা বন্ধ করতে হবে। গল্প করতে করতে নয়, বরং নিবিষ্ট মনে হাঁটুন। উপকার পেতে বাধ্য।
৩। যাঁদের হাঁটুতে সমস্যা কিংবা পায়ে ব্যথা আছে তাঁরা আদৌ হাঁটবেন কিনা সে ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না। নিজে নিজেই হাঁটতে শুরু করলে অজান্তেই হয়তো আপনার হাঁটুর বেশি ক্ষয় হবে। চাপ পড়তে পারে হাড়েও। যা পরবর্তী সময়ে বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
৪। এবড়োখেবড়ো রাস্তায় একেবারেই হাঁটবেন না। মসৃণ রাস্তা ধরেই হাঁটাচলা করাই নিরাপদ। আর সেইসঙ্গে ভাল জুতো পড়া অবশ্যই প্রয়োজন। এবং হাঁটার সময়ে একেবারেই জল খাবেন না।
৫। হাঁটার প্রক্রিয়া শেষ হলে অবশ্যই খানিক্ষণ বসে বিশ্রাম নেবেন। ওয়ার্কআউট করুন বা কেবল ওয়াক কিংবা যোগাসন----সবের ক্ষেত্রেই এ নিয়ম প্রযোজ্য। খানিক বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী কাজ শুরু করুন। এতে শরীর অনেক ফ্রেশ লাগবে।