
শেষ আপডেট: 2 April 2019 12:49
৩. কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি
আপনি যদি দীর্ঘক্ষণ ওয়াশরুমে সময় কাটান, আর দেরি হয়ে যায় বাকি সব কাজে, তাহলে নিশ্চিন্তে ভরসা রাখুন এই অল্প অল্প গরম জলে। সকালে খালি পেটে এই অল্প গরম জল খেয়ে নিলে আপনার শরীরের বাড়তি মেদ ঝরে যাবে।এবং খুব সহজেই আপনার হজম শক্তি উন্নত হবে। সিস্টেমও ক্লিয়ার থাকবে। কোষ্ঠকাঠিন্যকে বলবেন টা টা।
৪.রক্ত চলাচল ভালো হবে
শরীরের শিরা ধমনীতে রক্তচলাচল সঠিক হোক কে না চায়! এক্ষেত্রেও সাহায্য করবে এই জলই। রক্তচলাচল ভালো হয় এতে, কারণ শরীরের ফ্যাটগুলো সহজেই বেরিয়ে যাচ্ছে। শরীরের টক্সিক প্রোডাক্টও বেরিয়ে যাবে সহজেই। তাতে সমস্যাও কমে যাবে।জলের তাপেই আপনার শিরা ধমনীর ভিতরে জায়গা তৈরি হবে নিজের মতো করে, তাতে রক্ত চলাচল হবে অনেক বেশি ভালো।
৫.ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি
ঈষদুষ্ণ জলে আপনার পিম্পল বা ব্রণের সমস্যা কমবে। এই জলেই স্কিনের অতিরিক্ত তেল বেরিয়ে যাবে , সঙ্গে নিয়ে যাবে টক্সিক পদার্থও, ফলে স্কিনের জমাট বাধা তেল, ধুলোবালি থেকে মুক্তি এবং পিম্পলকেও বিদায়। আপনার পেট পরিষ্কার থাকছে এই জল খাচ্ছেন বলে, ফলে আপনার মুখের ঔজ্জ্বল্যও বাড়বে সহজেই। ডেড সেলগুলো চলে যাবে সহজেই। আর মধু দিয়ে যদি খেতে পারেন রোজ, তাহলে তো সোনায় সোহাগা। স্কিনের কিছু অ্যালার্জি আছে যা এই মধু আর ঈষদুষ্ণ জলে আয়ত্তে আসে।
৬.ফিট থাকবেন আপনি
আপনার এনার্জি লেভেল অনেকটাই বেড়ে যায় যদি রোজ সকালে আপনি এই জল খান। সাধারণত শরীরের টক্সিনগুলোই আপনার স্কিন, চুলের ড্যামেজ করে। সঙ্গে আনে অবসাদও। নিয়মিত এই জল খেলে আপনার দেহের সমস্ত টক্সিন বেরিয়ে যাবে আর আপনিও সারাদিন থাকবেন ফুরফুরে।
৭.ওজন কমাতে সাহায্য করে
আমাদের ক্যালোরি ঝরাতে কী কী না করতে হয়! কখনও জিম, কখনও সকালের হাঁটা। ওসবে যদি ক্লান্তি আসে, চেষ্টা করুন এই জলই খেতে। এতে মেটাবলিক রেট বাড়ে, সহজেই ক্যালোরি বার্ন হয়। খিদে কমিয়ে দেয় এই ঈষদুষ্ণ জল, ফলে আপনার ওজনও থাকে আয়ত্তে। খালি পেটে লেবুর রস দিয়ে খেয়ে নিন এই হাল্কা গরম জল। তাতেই দেখবেন ওজন কমছে তাড়াতাড়ি।
৮.ব্যথা কমাতে সাহায্য করে
ঠিক যেভাবে আপনার কেটে ছড়ে গেলে গরম জলের শরণাপন্ন হতে হয়, সেভাবেই বাতের ব্যথা হোক বা অন্য কোন ব্যথা, এই জলেই মুশকিল আসান। সাধারণত রক্ত চলাচলের সমস্যার কারণেই শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হয় ব্যথা। ফলে এই জলে টক্সিন যেমন বেরিয়ে যাবে, তেমনই রক্তচলাচলও স্বাভাবিক হবে। ব্যথাও কমে যাবে।
৯.নাক গলার সমস্যা মিটবে
নাক গলা খুসখুস প্রায় সকলের ঘরে ঘরে থাকে। সকালে উঠে হোক বা রাতে শুতে যাওয়ার সময়ে হাল্কা গরম জল খেলে তার ভেপারটা নাক গলার যে রাস্তা, সেটাকে অনেক বেশি মসৃণ এবং মিউকাস ফ্রি করে দেয়। গলার এবং নাকের আরাম সহজেই হয়।
১০.চুলের স্বাস্থ্য ফেরায়
আপনার স্কাল যদি খুব ড্রাই হয় তাহলে অবশ্যই হাল্কা গরম জল খান। আপনার সারা শরীরের সাথে স্কালের ডেডস্কিনের সমস্যাও সহজেই কাবু করবে এই জল। তাতে আপনার চুল হবে আরও ঝকঝকে। কারণ গরম জল তো আপনার চুলের ডগার নার্ভকেও স্টিমুলেট করে ফিট অ্যাণ্ড ফাইন রাখবে। চুল পড়া আটকায়, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। স্কাল যখন নিষ্প্রাণ অবস্থা থেকে ঠিকঠাক অবস্থায় ফিরে আসে, তখনই সহজ হয় বিষয়টি। খুশকি থেকে মুক্তি পেতেও এই গরম জলই ভরসা। কারণ স্কাল যখনই শুকোবে না তখন আপনার স্কিন ড্রাই হয়ে খুশকিও হবে না।
১১. পিরিয়ডসের ব্যথা কমায়
যেভাবে যে কোনও ব্যথায় আমরা গরম জলের সেঁক দিই, ঠিক সেভাবেই যদি আপনি পিরিয়ডসের সময়ে হাল্কা গরম জল খান, সহজেই লোয়ার অ্যাবডোমিনাল পেন কমে যাবে। জলের ওই ঈষদুষ্ণ হাল্কা তাপটাই আপনার ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।
তবে খুব বেশি এই জলে বরসা করলে কী কী ক্ষতি হতে পারে , জেনে নিন সে কথাও।
খুব গরম হলে বুঝতেই পারছেন আপনার জিভ বা ঠোঁট পুড়ে যেতে পারে, স্বাদ পাবেন না খাবারে। মুখের ভেতরে ঘা হয়ে যেতে পারে যা থেকে বহুদিন ভুগতে পারেন আপনি। তাছাড়া যখন আপনার দেহের অনেকটা টক্সিন বেরিয়ে যাচ্ছে, আপনার কিডনিকে অনেক বেশি কাজ করতে হচ্ছে। কাজেই মাত্রাতিরিক্ত কাজে কিডনির ক্ষতির সম্ভাবনা থাকতেই পারে। রক্তের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতেই পারে। তাতে আপনার ব্রেনসেলের সোয়েলিং থেকে হতে পারে চরম মাথা ব্যথাও। আপনার দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে যেতে পারে, দাঁতের স্বাস্থ্য নষ্ট হতে পারে এতে। এটা আপনার হাইপার টেনশন সহ হার্টের সমস্যাও ডেকে আনতে পারে। আপনাকে বারবার টয়লেটে যেতে হতে পারে। কারণ আপনার কিডনি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করবে এই জলের জন্যই। আপনার ঘাম হবে বেশি, তাতে ক্লান্তি আসতে পারে, ঘুম পেতে পারে বারবার।
কাজেই যে কোনও কিছুর মতোই এক্ষেত্রেও বেশি মাত্রায় হলে তা হিতে বিপরীত হতেই পারে।
এরপরেও থেকে যায় বেশ কিছু প্রশ্ন--
গর্ভবতী মহিলারা কি খেতে পারেন এই ঈষদুষ্ণ জল?
গর্ভাবস্থার যে সব স্বাভাবিক সমস্যা অর্থাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য বা স্কিন ড্রাই হয়ে যাওয়া, নসিয়া, মাথা ব্যথা ইত্যদি কমাতে সাহায্য করে এই হাল্কা গরম জল। তবে সমস্যাগুলো মেটাতে খুব বেশি ফুটন্ত জল না খাওয়াই ভালো, তাতে আবার মুখের স্বাস্থ্য ঠিক আছে কি না সেদিকেও নজর দিতে হবে। এসময় যে কোনও ইনফেকশনই সমস্যার কারণ হতে পারে।
এই হাল্কা গরম জল দিনে খাবেন না রাতে ?
আসলে যা উপকারি তার দিন রাত কোনও আলাদা বিষয় তো থাকে না। এখন খালিপেটে সকালে যদি আপনি লেবুর সাথে এই জল খান জলদি ফ্যাট কমবে, আবার রাতে শোয়ার সময়ে খেলে ঘুম আসবে ভালো, হজম হবে ভালো। তাই গরম নয় অথচ হাল্কা গরম জল আপনি যে কোনও খাবারের আগে বা পরে খেতেই পারেন।
কতবার খেতে পারেন এই ঈষদুষ্ণ জল?
খালি পেটে ২ গ্লাস এই জলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য, বদ হজম, কিডনি স্টোন, হাইপার টেনশন, ব্লাডসুগার আয়ত্তে আসতে পারে। আবার সারাদিনে ৬-৮ গ্লাস এই জলই আপনার শরীর, চুল, স্কিনের সার্বিকভাবে আর্দ্রতা বজায় রাখে।
তবে সবকিছুর মতোই এক্ষেত্রেও আপনাকে শরীর বুঝেই এই জলের উপর ভরসা করতে হবে। যাতে সহজেই আপনি এর উপকারিতাগুলো পান, সেদিকে নজর রাখতে হবে।