
শেষ আপডেট: 20 March 2019 04:16
সমুজ্জ্বলা দেব (ডারমাটোলজিস্ট)[/caption]
চুল পড়ার সমস্যা কিন্তু আজকাল কমবেশি সবারই রয়েছে। কেবল মহিলা নন, অনেক পুরুষও এই সমস্যায় জর্জরিত। এমনকী বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও 'হেয়ার ফল' রোজকার সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকসময় দেখা যায় মাথার তালুর একটা বিশেষ অংশ থেকে চুল উঠে যাচ্ছে। ফলে সেই অংশ ফাঁকা হয়ে টাক পড়ে যাচ্ছে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা দেখলে স্বভাবতই প্রাথমিক ভাবে চিন্তায় পড়ে যান অভিভাবকরা। কোনও অজানা রোগের আশঙ্কায় বুক কেঁপে ওঠে। এমনকী চুল পড়ার সমস্যা থেকে অনেক বাচ্চা, তার বাবা-মা এবং অনেক প্রাপ্তবয়স্কর মধ্যে মানসিক সমস্যাও দেখা যায়। আর কম বয়সে ছেলেদের টাক পড়ে গেলে তো কথাই নেই। সমাজের টিটকিরি শুনতে শুনতেই মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়বেন ওই ব্যক্তি।
তবে এ ধরনের চুল পড়ার ক্ষেত্রেও ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। কারণ সঠিক চিকিৎসার সাহায্যে এই সমস্যাও দূর করা সম্ভব। তেমনটাই জানিয়েছেন, দুর্গাপুরের ‘দ্য মিশন হসপিটাল’-এর ডাক্তার সমুজ্জ্বলা দেব (MD Dermatology)।
এই ধরনের 'হেয়ার ফল'-এর সমস্যাকে কী বলে?
ডাক্তারি ভাষায় এই রোগের নাম অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা (alopecia areata)।
এই রোগের কি কোনও বিশেষ লক্ষণ আছে?
হ্যাঁ আছে। সাধারণত রোগীরা আমাদের কাছে এসে বলেন মাথার তালুর একটা বিশেষ অংশ থেকে চুল উঠে যাচ্ছে। এ ধরনের কিছু সমস্যা নজরে এলে বুঝতে হবে অ্যালোপেসিয়া হয়েছে। সাধারণত আচমকাই এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। আর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চুল পড়ার পরিমাণ অনেকটা বেড়ে যায়।
শুধু কি মাথার চুলের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা যায়?
না। অনেকসময়েই দেখা যায় শরীরের অন্যান্য অংশের চুলের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা হচ্ছে। আর একটা নির্দিষ্ট জায়গা থেকেই যে চুল উঠে যাবে তেমনও নয়। মাথার তালুর একাধিক অংশ থেকেও চুল উঠতে পারে। কিংবা শরীরের অন্যান্য অংশ থেকেও চুল উঠে যেতে পারে।
কাদের মধ্যে অ্যালোপেসিয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়?
মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে অ্যালোপেসিয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে বয়সও কোনও ব্যাপার নয়। যেকোনও বয়সের মানুষের মধ্যেই অ্যালোপেসিয়ার লক্ষণ দেখা যাতে পারে। এমনকী বাদ যায় না বাচ্চারাও। তবে যাঁদের বিভিন্ন ক্রনিক রোগ থাকে যেমন- থাইরয়েড কিংবা ভিটিলিগো (vitiligo-ত্বকের মধ্যে সাদা সাদা ছোপ পড়ে যায়), তাঁদের ক্ষেত্রে অ্যালোপেসিয়া হওয়ার প্রবণতা বেশি। তবে শরীরের কোনও ঘাটতি থেকে অ্যালোপেসিয়া হয় না। বা আপনি কী শ্যাম্পু বা সাবান ব্যবহার করছেন------তার সঙ্গেও এই রোগের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে হ্যাঁ অনেকসময় বাড়ির আর কারও অ্যালোপেসিয়া থাকলে সেটা পরিবারের অন্য কেউ পেতে পারেন। যেমন ধরুন বাবা কিংবা মায়ের যদি অ্যালোপেসিয়া থাকে তাহলে সন্তানের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা যেতে পারে। তবে তাই বলে অ্যালোপেসিয়া কিন্তু কোনওভাবেই ছোঁয়াচে রোগ নয়।
কিন্তু চুল পড়ার ফলে যে জায়গায় টাক পড়ে যাচ্ছে, সেখানে কি আর নতুন চুল গজানো সম্ভব?
নিশ্চয় সম্ভব। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যালোপেসিয়ার ফলে চুল পড়ে গেলেও সেই জায়গায় নতুন চুল গজিয়ে ভরাট হয়ে যায়। তবে তার জন্য প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা। কিন্তু যাদের ক্ষেত্রে 'হেয়ার ফল'-এর পরিমাণ অনেক বেশি, মানে শরীরের অনেকটা অংশ বা মাথার তালুর বিভিন্ন জায়গা থেকে চুল উঠে ফাঁকা হয়ে গিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন চুল গজানোটা একটু সময় সাপেক্ষ। তবে ঠিকমতো চিকিৎসা হলে একটু সময় লাগলেও নতুন চুল গজাবে। তাই সমস্যা নজরে এলে ঘাবড়ে না গিয়ে আগে ডারমাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে, তত ভালো ফল পাবেন।
একবার নতুন চুল গজানোর পরেও কি আবার অ্যালোপেসিয়া হতে পারে?
ব্যতিক্রম সব জায়গাতেই থাকে। তাই অ্যালোপেসিয়া হওয়া জায়গায় নতুন চুল গজানোর পরেও ফের আবার এই রোগ ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। একই জায়গা কিংবা অন্য নতুন জায়গা থেকে চুল উঠতে পারে। তবে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। কারণ সঠিক ভাবে চিকিৎসা করালে ফের নতুন চুল গজিয়ে যাবে টাক পড়ে যাওয়া অংশে।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সোহিনী চক্রবর্তী