কেয়া শেঠ
কেমন কাটছে অন্দর-বাস সকলের? শুনছি তো আর কয়েক দিন পরে একটু শিথিল হতে পারে লকডাউন। তখন হয়তো ঘর থেকে বেরিয়ে একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচবেন অনেকে। কিন্তু সেই বেরোনোর আগে নিজেকে ঝকঝকে করে তুলতে হবে তো? এই যে এখন আপনাকে অভ্যাস না থাকতেও রান্নাবান্না করতে হচ্ছে, ঘর মুছতে হচ্ছে, বাসন মাজতে হচ্ছে, এ সব ঝকল শরীরের ওপরেও তো পড়ছে? সেই নখের দাগ নিয়ে বা দীর্ঘদিন পার্লারমুখো না হওয়া মলিন ত্বক নিয়ে কি লকডাউনের পরে কাজকর্মে বেরোতে ভাল লাগবে? নিশ্চয় না। আর এই ২১ দিনে যা ছাপ পড়বে তা পার্লারের সাধ্য কী, এক দিনে সাফ করে ফেলে? তাই এই ক'দিন জোর কদমে নিজের যত্ন নিন। নিজেকে ঝকঝকে রাখুন, মনও ঝকঝকে থাকবে।
এই যে হাত দিয়ে এত কাজ করতে হচ্ছে, রান্না, বাসন, সাফাইকাজ-- এসব করতে গিয়ে হাতের নখগুলো নোংরা হয়ে যাচ্ছে, খড়খড়ে হয়ে যাচ্ছে, সেটা হতে দেবেন না। একটা পুরনো ব্রাশ রাখুন টয়লেটে। রোজ স্নানের সময়ে শ্যাম্পু দিয়ে ব্রাশে করে ঘষে নখগুলো সময় নিয়ে পরিষ্কার করুন। দেখবেন, হলদে ছোপ উঠে গিয়ে খুব সুন্দর সাদা হবে নখটা। জেল্লা ফিরে আসবে।

আৎ ধরুন, পাঁউরুটি বা রুটি তো একটা-দুটো বাঁচেই মাঝেমাঝেই। খেতে ভাল লাগে না সবসময়, ফেলেই দিতে হয় হয়তো। এক কাজ করুন। দুধ গরম করে, তাতে পাঁউরুটি বা রুটিটা ফেলে চটকে নিন। তাতে একটু চিনি মিশিয়ে ভাল করে গায়ে ঘষলে দেখবেন, খুব উপকার পাবেন। গায়ের লোমকূপের ময়লাগুলোও উঠে আসবে। ব্র্যান্ডেড বডিওয়াশে নিয়মিত স্নান করলে যা হয় না, তাই হয়ে যাবে এই মিশ্রণের ব্যবহারে। এই মিশ্রণের দুধটা ময়েশ্চারের কাজ করবে আপনার স্কিনে। চিনিটা স্ক্রাব করবে চামড়া। পাঁউরুটি ভেজাটা ময়লা তোলার কাজ করবে। নিজের স্কিন এত ভাল পরিষ্কার হবে, দেখে চমকে যাবেন।

শুধু পরিষ্কারই বা কেন, আমরা তো বডি পলিশও করি অনেক সময় শখ করে। কিন্তু সেটাই যদি এই অবসরে মাঝে মাঝেই করা যেত ঘরে! কঠিন নয় কিন্তু। করতেই পারেন প্রায়ই। অনেক সময়ে কলা থাকে ঘরে, পেকে যায় বেশি। সেই পাকা কলায় সুজি মিশিয়ে ভাল করে ঘষে ঘষে চামড়ায় লাগান। তার পরে ধুয়ে ফেললে দেখবেন, কেমন চকচক করছে স্কিন! হয়তো কয়েক দিন নিয়মিত এইটা করার পরে পার্লারকেও হার মানাবে। আর তার উপর সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও নিরাপদ উপায়। সবরকম স্কিনের জন্য এটা কাজ করবে। কোনও ক্ষতি হবে না। শুধু সময়ের অভাবে করা হতো না এত দিন, এবার করুন। মুখেও করতে পারেন, আলতো করে। বেশি না ঘষে। সুন্দর উজ্জ্বল হবে স্কিন।

এই ক'দিনে নাকের ব্ল্যাকহেডসগুলো বেড়ে গেছে কি? ছোট্ট ছোট্ট লোম দেখা যাচ্ছে? এক কাজ করুন, সাবু ফোটান একটু ঘন করে। তার পরে ঠান্ডা হলে, খুব অল্প উষ্ণ অবস্থায় নাকের উপর ভাল করে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে টেনে তুলুন সাবুর স্তরটা। দেখবেন ব্ল্যাকহেডস আর ছোট লোম-- দুই-ই উঠে গেছে। এই মিশ্রণ গোটা মুখেও লাগাতে পারেন, তবে বেশি শুকোতে দেবেন না। তার পরে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে হাল্কা ময়েশ্চারাইজ়ার, ব্যস।

এই সবটা কয়েক দিন করলে দেখবেন, এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আপনাকে ঘিরে থাকছে। বছরভর দূষণ আর ধোঁয়ায় আমাদের ত্বকের খুবই ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি ঢাকতে মেকআপের ওপরেই ভরসা করতে হয় আমাদের। কিন্তু এই সময়টা সে সব কিছু বাদ দিয়ে কাজে লাগান অন্য ভাবে। যত্ন করে ঘষেমেজে সাজিয়ে তুলুন নিজেকে।