
শেষ আপডেট: 6 May 2019 13:35
এ তো গেল 'কেটো ডায়েট' কেন আপনি করতে পারেন তার ফিরিস্তি, কিন্তু কেন করা উচিত নয়, বা করলে কী কী সমস্যা হতে পারে, তা জানাচ্ছেন দিল্লির নিউট্রিশনিস্ট এবং ওয়েট ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট কবিতা দেবগণ।
তিনি বলছেন, 'কেটো' খুবই শক্ত বিষয়। 'কেটো ডায়েট'-এ ৬০-৭৫ শতাংশ ফ্যাট, ১৫-৩০ শতাংশ প্রোটিন, ৫-১০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট থাকে নিয়ম অনুযায়ী। কিন্তু অনেকেই সেটা ঠিক করে মেনে চলেন না। যাঁরা বলেন 'কেটো ডায়েট' করছেন, অথচ তাঁদের সেটা শক্ত লাগছে না, তাহলে তাঁরা কিন্তু প্রপার 'কেটো ডায়েট' মেনে চলছেন না।
তাছাড়াও এই ডায়েটে যেহেতু অনেকটা ফ্যাট থাকে তা আসলে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুব একটা ভালো তা তো নয়। আপনাকে এই ফ্যাট ঝরাতেও হবে। এই ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা এতটাই কম থাকে যে তা দীর্ঘদিনের জন্য খুব একটা কাজের কথা নয়। আর এই লো কার্ব ডায়েটে অনেকের প্রাণ সংশয় পর্যন্ত হতে পারে। তাই সেটা মাথায় রেখে এই ডায়েট শুরু করুন।
তাছাড়াও এই ডায়েট খুবই ‘unbalanced diet’ , এতে কার্বোহাইড্রেট খুব কম থাকে, ফ্যাট বেশি থাকে, আর থাকে প্রোটিনও। কিন্তু কোনও ফল থাকে না, কোনও ফাইবারও থাকে না সেভাবে। তাই শরীরের যে সব পুষ্টিকর মিনারেল প্রয়োজন হয়, সেগুলোর ঘাটতি ঘটে। আর দীর্ঘদিন এভাবে চললে শরীর তো খারাপ করবেই।
এই ডায়েটের পরিবর্তে আপনারা কী করতে পারেন, জেনে নিন সে কথাও।
প্রোটিন, কারবোহাইড্রেট, ফ্যাট সহ সবকিছুই রাখতে পারেন আপনার খাদ্য তালিকায়। এতে আপনার শরীরের পুষ্টিতে যা যা দরকার, তা সবই পাবেন। তবে পরিমাণে কম খান। বারে বেশি খান। সমস্যা কমানো যাবে অনেকটাই। ওজনও থাকবে আয়ত্তে। চেষ্টা করুন পুষ্টিকর খাবার খেতে, ভাজাভুজি, তেল মশলা জাতীয় খাবার খাবেন না। তাতে সমস্যা বাড়ে, বরং ঘরের তৈরি খাবার খান। তেল মশলা কম থাকবে এতে, আপনার শরীরের ফ্যাটও কমবে। প্রতি সপ্তাহে নিজের একটা দুটো খারাপ অভ্যাস নিজেই খুঁজে দেখুন, আর সেগুলো বাদ দিতে দিতে এগোন। যেমন মাঝরাতে চকোলেট খাওয়া, যে কোনও সময়ের খিদে মেটাতে জাঙ্ক ফুডের উপর ঝুঁকে পড়া, আইসক্রিম, কোল্ডড্রিঙ্ক খাওয়া ইত্যাদি। তাতে আপনারই লাভ। শরীর সুস্থ থাকবে।
অতএব 'কেটো ডায়েট' করে যাঁরা ভাবছেন সহজেই একেবারে মেদহীন চেহারা পাবেন, তাঁরা এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে নিজেকে প্রস্তুত করুন। সবসময়ে মনে রাখতে হবে, শুধু রোগা হওয়া নয়, সুস্থ থাকাটাই জীবনের লক্ষ্য।