
শেষ আপডেট: 22 June 2023 03:42
দক্ষরাজ যজ্ঞ করছেন। বিশাল সে আয়োজন। এমন কেউ নেই, যিনি সেই যজ্ঞে আমন্ত্রণ পাননি। শুধু মেয়ে জামাইকে তিনি নিমন্ত্রণ বার্তা পাঠালেন না। জানতে পেরে সতী বাপেরবাড়ি গেলেন এবং এই অপমানের কারণ জানতে চাইলেন তাঁর পিতার কাছে। তখন জামাইকে নিয়ে আরও অনেক অপমানজনক মন্তব্য করতে লাগলেন দক্ষরাজ ও উপস্থিত অনেকেই। পিতৃগৃহে স্বামীর লাঞ্ছনা সহ্য করতে পারলেন না সতী। তিনি রাগে, অপমানে, মনোকষ্টে সর্বসমক্ষে দেহত্যাগ করলেন।
খবর পেয়ে শিব উপস্থিত হলেন দক্ষরাজের দরবারে। ক্রুদ্ধ শিব সতীর দেহ নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করলেন। সেই তাণ্ডবে পৃথিবী তখন ধবংসের মুখে! শেষে ধরিত্রীকে বাঁচাতে বিষ্ণু নিজের সুদর্শন চক্র দিয়ে খণ্ড-বিখণ্ড করে দিলেন সতীর দেহ।

সতীর দেহ একান্নটি খণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছিল ভারত ও প্রতিবেশী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সেই প্রত্যেকটা জায়গায় গড়ে উঠেছে সতী মায়ের পীঠ। কামরূপ কামাখ্যায় (অসমে) পড়েছিল দেবীর যোনি। তাই এর অন্য নাম যোনিপীঠ। এখানে তন্ত্রসাধনা করলে সিদ্ধিলাভ করা যায়-এমনটাই বিশ্বাস সাধকদের। বিশেষ করে অম্বুবাচীর তিনদিন তন্ত্রসাধনায় বসলে পরম সিদ্ধি আসবেই।
কথিত আছে, প্রতি বছর আষাঢ়ের সাত তারিখ থেকে কামাখ্যা মা ঋতুমতী হন। দেবীর মন্দিরের গর্ভগৃহে একটি ত্রিকোণাকার শিলাখণ্ড আছে। এই সময় সেই শিলাখণ্ডটি ভেদ করে গাঢ় গৈরিক রঙের জলস্রোত প্রবাহিত হতে থাকে। তিনদিন পর এই স্রোত ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। এই অলৌকিক ঘটনাটিকেই দেবীর রজঃস্বলা হওয়ার নিদর্শন বলে মনে করা হয়। এমনকী মন্দির সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্রের জলেও এই লালচে রঙের স্রোত এসে মেশে। প্রকৃতির কী অদ্ভুত লীলা!

কামাখ্যা মায়ের পুজো এই তিনদিন হয়না। মন্দিরের দ্বার বন্ধ থাকে। দ্বার বন্ধ হওয়ার আগে ওই ত্রিকোণাকার শিলার চারপাশে নতুন বস্ত্র বিছিয়ে রাখেন পুরোহিতরা। শিলাখণ্ড থেকে বেরিয়ে আসা রঙিন স্রোতে লাল হয়ে যায় সেই বস্ত্র। পরে তা টুকরো টুকরো করে ভক্তদের দেওয়া হয়। এই বস্ত্রখণ্ড ঘরে রাখলে শুভ হয়, এমনই বিশ্বাস মানুষের।

যাই হোক, তিন দিন দেবীর বিশ্রামগ্রহণের পর চতুর্থ দিন মন্দিরের দ্বার খোলা হয়। এদিন দেবীর বিশেষ পুজো ও আরতি দেখার জন্য ভক্তরা তো বটেই তন্ত্রসাধক ও অগণিত সাধু সন্ন্যাসীরা চলে আসেন কামাখ্যা দেবীর মন্দিরে। অসাধারণ এই দৃশ্য। মন্দির চত্বর গমগম করে। দেবীর কাছে ভক্তি নিবেদনের কতরকম যে ভঙ্গিমা আর মায়ের পায়ে আত্মসমর্পণের কত বিচিত্র যে আকুতি-তা সচক্ষে না দেখলে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।

প্রতি বছর অম্বুবাচীর সময় কামাখ্যা মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিশাল মেলা বসে। মায়ের এই বিশেষ দিনগুলোকে নিয়ে এমন উৎসব আর কোথাও হয় না। তবে অম্বুবাচীর তিনদিন ভারতের প্রায় সর্বত্র দেবী মন্দিরে মায়ের মুখ বস্ত্র দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। পুজোও বন্ধ থাকে। বলা হয়, মা এই ক'টা দিন বিশ্রাম গ্রহণ করেন। দেবী ও নারী যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে যান অম্বুবাচীর ক'টা দিনে। নারীত্বের জয়ধ্বনি বেজে ওঠে মন্দির থেকে মন্দিরে।
প্রভু জগন্নাথের মহাভোগ, রোজ সাড়ে সাতশো উনুনে ছাপ্পান্ন পদ রান্না হয়, কেন ছাপ্পান্ন?