দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাছে কাঁঠাল, মানেই গোঁফে তেল--বাঙালির এই চিরন্তন কাঁঠাল প্রীতি যে কেবল রসনা তৃপ্ত করার জন্য তা কিন্তু মোটেই নয়, সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে কাঁঠাল খেলে সারে রোগও। উচ্চ রক্তচাপ থেকে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস থেকে লিভারের অসুখ, কাঁঠালের উপকারিতা রয়েছে সবেতেই।
জৈষ্ঠ্য মাস এলেই মনটা কেমন যেন আম-আম, কাঁঠাল-কাঁঠাল করে ওঠে। জামাইষষ্ঠী থেকে বাঙালির গ্রীষ্মের পার্বণ, ব্যাগ ভর্তি করে কাঁঠাল সেখানে মাস্ট। আর খাজা কাঁঠালের বড় বড় কোয়া মুখে পড়লেই তো স্বাদে-গন্ধে মন মাতাল। কাঁঠাল খেয়ো না, পেটের রোগ হবে বলে যাঁরা এতদিন শোরগোল তুলতেন, তাঁদের চুপ করিয়ে এ বার বেশি বেশি করে কাঁঠাল খান। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন কাঁঠালেই নাকি রয়েছে সুস্থ শরীরের চাবিকাঠি।
ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস,ফাইবার, ফ্যাট, প্রোটিন, মিনারেলস থেকে ইলেকট্রোলাইটস, এই ফল ভরপুর সবেতেই। এখন দেখে নেওয়া যাক, কী কী গুণ রয়েছে কাঁঠালের।
উচ্চ রক্তচাপ:
কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, থাইমিন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, রাইবোফ্লাবিন, আয়রন রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ বশে রাখতে কাঁঠালের জুরি নেই। এর পটাসিয়াম হার্ট ভালো রাখে, রক্ত সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে। পেশি মজবুত রাখতেও সাহায্য করে। পাকা কাঁঠালের পাল্পকে পিষে সেটাকে গরম জলে ফোটান। সেই মিশ্রণকে ঠান্ডা করে খেলে শরীর তরতাজা থাকে। এই মিশ্রণ হার্টের অসুখে যাঁরা ভুগছেন তাঁদের জন্যও ভাল।
ভিটামিন সি:
কাঁঠালের ভিটামিন সি শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।
ওজন থাকুক বশে:
হেলদি ডায়েটের অংশ হতে পারে কাঁঠাল। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, নিয়মিত কাঁঠাল খেলে ওজন চট করে বাড়তে পারে না। এতে রয়েছে ভরপুর প্রোটিন, লো ক্যালোরি খাবারের সঙ্গে কাঁঠাল খাওয়া যেতে পারে অনায়াসেই। এতে শরীরও তরতাজা থাকে।
চোখের সুরক্ষা:
কাঁঠালের ভিটামিন এ (বিটা-ক্যারোটিন) চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখের যে কোনও রকম ব্যাকটিরিয়াল বা ভাইরাল সংক্রমণ প্রতিরোধ করে কাঁঠাল। এর ভিটামিন এ সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি থেকে চোখকে বাঁচায়। রেটিনাকে ভালো রাখে, ছানি বা চোখের যে কোনও অসুখ রুখতে কাঁঠালের উপকারিতা রয়েছে।

থাইরয়েড:
থাইরয়েডের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন তাঁদের জন্য তো কাঁঠাল খুবই উপকারি। কারণ এতে যে খনিজ পদার্থ তামা থাকে তা থাইরয়েডকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস:
কাঁঠালে রয়েছে ভরপুর প্রোটিন, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখে।
অ্যানিমিয়া দূর করে:
অ্যানিমিয়ায় যাঁরা ভুগছেন তাঁদের জন্য কাঁঠাল খুব উপকারি। এতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম হাড়ের সমস্যা দূর করে। পাশাপাশি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং হজমের জন্যও বেশ উপরকারী।