
ইশা আম্বানি ও তাঁর দুই সন্তান
শেষ আপডেট: 28 June 2024 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তানধারণ করেছেন ইশা আম্বানি। সম্প্রতি ভোগ ম্যাগাজিনের একটি সাক্ষাৎকারে নিজেই খোলাখুলি একথা জানালেন ধনকুবের মুকেশ আম্বানির মেয়ে। জানিয়েছেন, তাঁর মা নীতা আম্বানি যেমন তাঁকে এবং তাঁর যমজ ভাই আকাশকে গর্ভে ধরেছিলেন আইভিএফ করে, ঠিক সেভাবেই তিনি নিজেও এই পদ্ধতিই বেছে নিয়েছেন এবং যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
ইশা সাক্ষাৎকারে বলেন, 'আমার এই নিয়ে কোনও দ্বিধাবোধ নেই। আমি এটা পরিষ্কার বলতে চাই, যে আমার যমজ সন্তান আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্মেছে। আমি এটা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলছি, কারণ এভাবেই এটা স্বাভাবিক একটা পদ্ধতি হিসেবে গৃহীত হবে বড় অংশের মানুষের কাছে। এই নিয়ে কারও লজ্জিত বোধ করা উচিত নয়। এটি একটি কঠিন প্রক্রিয়া। ভয়ঙ্কর শারীরিক ধকল নিতে হয়।'
ইশা আরও বলেন, 'বিশ্ব আজ এত এগিয়ে গেছে, এত আধুনিক সব প্রযুক্তি এসে গেছে, তাহলে তা ব্যবহার করে সন্তানধারণ করলে দোষ কোথায়? এটা নিয়ে তো আরও বেশি করে কথা বলা উচিত, লুকিয়ে রাখার তো কিছু নেই। এই নিয়ে কথা বললে, অভিজ্ঞ মহিলাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে, পদ্ধতিটি আরও সহজ ও স্বাভাবিক হতে থাকবে।'
২০১৮ সালে আনন্দ পিরামলের সঙ্গে বিয়ে হয় ইশা আম্বানির। তার পরে ২০২২ সালে তাঁরা যমজ সন্তানের জন্ম দেন, একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। প্রসঙ্গত, ইশার মা অর্থাৎ মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানিও বিয়ের পরে বন্ধ্যত্বের শিকার ছিলেন। ১৯৮৫ সালে তাঁদের বিয়ে হয়, তখন নীতার বয়স ছিল ২২ বছর। ১৯৮৬ সালে চিকিৎসক জানান, স্বাভাবিক পদ্ধতিতে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় সমস্যা রয়েছে নীতার। এর পরে তাঁরা আইভিএফ পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যান এবং ১৯৯১ সালে ইশা ও আকাশ-- যমজ সন্তানের জন্ম দেন। ১৯৯৫ সালে ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানি অবশ্য স্বাভাবিক ভাবেই জন্মায়।

আইভিএফ বা ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন কী?
ভিট্রো শব্দটির অর্থ শরীরের বাইরে। এই পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে জীবন সৃষ্টি করা হয় বলে পদ্ধতিটিকে ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বলে। চলতি কথায়, টেস্ট টিউব বেবি। এই পদ্ধতিতে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর নিষেক ঘটানো হয় শরীরের বাইরে ল্যাবরেটরিতে। ভ্রূণ তৈরির পরে তা ইনকিউবেটরে রাখা হয়। ২-৫ দিন পরে ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয় মায়ের জরায়ুতে। তার পরে সেখানেই বেড়ে ওঠে ভ্রূণ, জন্ম হয় সন্তানের।