
শেষ আপডেট: 13 November 2023 18:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিশু ও কমবয়সিদের মধ্যে ডায়াবেটিস মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। বাচ্চাদের অনেকের মধ্যেই টাইপ ১ ডায়াবেটিসের লক্ষণ ধরা পড়েছে। অর্থাৎ তাদের অগ্ন্যাশয় সম্পূর্ণভাবে ইনসুলিন ক্ষরণ বন্ধ করে দিয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, টাইপ টু ডায়াবেটিসের উপসর্গও ধরা পড়েছে বাচ্চাদের মধ্যে। অর্থাৎ অগ্ন্যাশয় আংশিকভাবে কাজ করছে। এর থেকেই প্রশ্ন আসছে, বাবা-মায়ের ডায়াবেটিস থাকলে কি সন্তানের মধ্যেও তা আসতে পারে?
বাচ্চাদের মধ্যে ডায়াবেটিস বাড়ছে তা প্রথম ধরা পড়ে পুণের কাছাকাছি ছটি গ্রামে। ম্যাটারনাল নিউট্রিশন স্টাডি (পিএমএনএস) রিপোর্ট বলছে, গ্রামগুলির অন্তত ৭০০ পরিবারে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সিরা ডায়াবেটিসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। প্রি-ডায়াবেটিসের লক্ষণ স্পষ্ট পাঁচ থেকে দশ বছরের শিশুদের শরীরেও। দেখা গেছে, বাবা-মায়ের ডায়াবেটিস থাকলে বা পরিবারের কারও ডায়াবেটিস থাকলে তা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটদের মধ্যে ডায়াবেটিস ধরা পড়ছে অনেকটাই দেরিতে। কারণ অভিভাবকদের মধ্যে তো বটেই, ডাক্তারদের মধ্যেও এ নিয়ে সচেতনতা অনেক কম। তাই বাচ্চারা প্রাথমিক উপসর্গ নিয়ে গেলেও অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চিকিৎসকেরা বাচ্চাদের ডায়াবেটিস বাদে বাকি পরীক্ষা করিয়েছেন। কারণ ওই বয়সে যে ডায়াবেটিস হতে পারে, সেটা ধারণাতেও থাকে না অনেকের। দেখা গেছে, প্রসবের সময় যে শিশুদের ওজন অনেক কম থাকে, পরবর্তীকালে তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টও বলছে, ভারতে ২০ বছর থেকে ৭০ বছর অবধি প্রায় ৮.৭ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিক।
কেন বাচ্চাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ছে?
চিকিৎসকরা বলছেন, আমাদের সাধারণত দু’ধরনের ডায়াবেটিস হয়। টাইপ-ওয়ান আর টাইপ-টু। টাইপ-ওয়ান ডায়াবেটিস আসলে একটি বংশগত রোগ। আমাদের অগ্ন্যাশয় বা প্যাংক্রিয়াস ওই রোগে কিছুতেই ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। ফলে, ওই ধরনের ডায়াবেটিস রোখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন রোগীরা। যে কোনও বয়সেই এই ডায়াবেটিস হতে পারে। তবে হলে, তা ৪০ বছর বয়সে পৌঁছনোর আগেই হয়। বংশগত বলে শৈশব থেকেই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাটা বেশি। তবে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই যে ডায়াবেটিস হয়, সেটা টাইপ-টু। অনিয়মিত খাদ্যাভাস, শরীরচর্চার অভাব, অধিক ধূমপান, নেশার প্রবৃত্তি ইত্যাদি নানা কারণ এই রোগের রিস্ক-ফ্যাক্টর।
গর্ভাবস্থার আগে থেকে অনেক সময়ে হবু মায়ের ডায়াবেটিস থাকে। পরীক্ষা–নিরীক্ষা হয় না বলে তা জানা যায় না৷ হঠাৎ গর্ভবতী হওয়ার পর রুটিন পরীক্ষায় তা ধরা পড়লে চিন্তা বাড়ে। চিকিৎসকরা বলছেন, হবু মায়ের সুগার বেশি থাকলে গর্ভস্থ সন্তানের নানা রকম জন্মগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে৷
তাছাড়া যদি হবু মায়ের ওজন ও বয়স বেশি হয় তাহলেও প্রথম সন্তান জন্মের সময় গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে ডায়াবেটিস হতে পারে। আরও একধরনের ডায়াবেটিস হয় যার নাম জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস। গর্ভাবস্থার শেষের দিকে রক্তে সুগার লেভেল বেড়ে যেতে পারে। মা যদি নিয়ম মেনে না চলেন, তাহলে সন্তানের মধ্যেও জটিলতা দেখা দিতে পারে। মায়ের জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হলে, তাঁর সন্তানদের পরবর্তী কালে চাইল্ডহুড ওবেসিটি ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ যার থেকে পরবর্তী সময়ে হার্টের রোগ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।