
শেষ আপডেট: 19 August 2023 09:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নামে কীই বা এসে যায় বললে কি আর ছাড় মেলে? রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, যাহার নাম ভূতনাথ তাহাকে নলিনীকান্ত বলিলে তাহার অসহ্য বোধ হয়। কিন্তু এই নামকরণের ইতিহাসটাও (Interesting History) তো কম অবাক করা নয়। বিশেষত যদি জিনিসটা হয় লোভনীয় খাদ্যদ্রব্য (Food)। যেমন ধরুন, বাটার চিকেন। বা সিজার স্যালাড। বা নিদেনপক্ষে, এই ধরুণ, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই (French Fry)। খুব পরিচিত, আমার আপনার সবার। কিন্তু তাতেই লুকিয়ে আছে নানা অজানা গল্প। খুঁজে দেখল দ্য ওয়াল।
বাটার চিকেন
বাটার চিকেনের শুরু কোথায়, খুঁজে পেতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে সাত দশক আগের দিল্লিতে। সদ্য দেশভাগ হয়েছে, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আসা উদবাস্তদের ঢল দিল্লিতে, দাঙ্গা-হাঙ্গামাও বন্ধ হয়নি। সেসময় দিল্লির এক বিখ্যাত রেস্তোরাঁ ছিল মোতি মহল। তার মালিক ছিলেন কুন্দনলাল গুজরাল, তাঁদের আদি বাড়ি ছিল পেশোয়ারে। একদিন, অনেক রাতে, প্রায় ঝাঁপ ফেলার সময়ে একজন বেশ ভিআইপি গোছের খদ্দের এসে হাজির হন সেখানে। আবদার করেছেন, মুরগির ভাল কিছু রেসিপি খাবেন৷ এদিকে সেদিনের মত তো সব শেষ। সামান্য একটু তন্দুরি চিকেনই (Food) যা পড়ে আছে! নিরুপায় শেফ তখন বুদ্ধি খাটিয়ে ওই তন্দুরি চিকেনকেই কাজে লাগালেন। কড়াইতে অল্প তেলে দিলেন মাখন, গরম মশলা, টমেটো কুচি, নুন, লঙ্কাগুঁড়ো। ভাল করে থকথকে গ্রেভি বানিয়ে দিয়ে দিলেন চিকেন। মাখনের পরিমাণটাও বাড়িয়ে দিলেন। এইভাবেই নাম হল 'বাটার চিকেন!'
ক্যালিফোর্নিয়া রোল
জাপানি খানা যারা ভালবাসেন, তাঁদের পছন্দ তালিকায় এই সুশি রোল তো অবশ্যই বেশ উঁচুর দিকেই থাকবে। কিন্তু কীভাবে এল এই রোল? অনেকে বলেন, ভ্যাঙ্কুভারের এক জাপানি রেস্তোরাঁর জনৈক জাপানি শেফ নিজ দেশীয় ঘরানা থেকেই এটি আমদানি করেছিলেন। কিন্তু পরে জানা যায়, এই রোলের জন্ম লস এঞ্জেলেসের এক সুশি বারে—নাম "টোকিও কাইকান"। তার বিখ্যাত সুশি শেফ ইশিরো মাশিতাই ১৯৭০ এর দশকে তৈরি করেন এই সুশি রোল।
ম্যাঙ্গালোর বানস
পাকা কলা থেকে কত কী হয়? তারই এক নজির, ম্যাঙ্গালোর বানস। এই কাহিনির শুরু কর্নাটকের উদুপীতে। একদল শেফ কিছু কলা নিয়ে চটকে তাতে ময়দা, চিনি, নুন আর অল্প মশলা দিয়ে মেখে গরম গরম তেলে ডিপ ফ্রাই করেছিলেন। ব্যাস, তাতেই তৈরি হাতে গরম ম্যাঙ্গালোর বানস।
বিফ স্ত্রোগানোভ
স্যান্ডুইচ
আজকাল স্যান্ডুইচের (Sandwich) বাড়বাড়ন্ত চলছে চারদিকে। বেকন, টম্যাটো, চিকেনের পাশাপাশি পাঁউরুটির ভেতরে কেউ মোমো, কেউ চাউমিন দিয়েও বানিয়ে ফেলছেন স্যান্ডুইচ। কিন্তু এই স্যান্ডুইচের শুরু কোথায়? বস্তুত, এই নামের পিছনে রয়েছেন জন মন্টেগু, ব্রিটেনের স্যান্ডুইচ অঞ্চলের চতুর্থ আর্ল। আজ্ঞে হ্যাঁ, স্যান্ডুইচ আদতে একটি জায়গার নাম। শোনা যায়, একদা মন্টেগু সাহেব তাস খেলছিলেন৷ খেলাতে এতটাই বুঁদ হয়ে গিয়েছিলেন যে ঘন্টাচারেক তাঁর কিছু খাওয়াই হয়নি। পুরোটা সময় হাতে এক টুকরো বিফ দুটো পাউরুটির মাঝে ভরে চিবোচ্ছিলেন। এই থেকেই শুরু হয় স্যান্ডউইচ। আজ যা বিশ্ববিখ্যাত।
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই
শুনলে অবাকই হবেন, এই ফ্রেঞ্চফ্রাইয়ের জন্ম আদপেই ফ্রান্সে নয়৷ তবে তার পড়শি দেশ বেলজিয়ামে। বস্তুত, বেলজিয়ামে বেশিরভাগ লোকে ফরাসিতেই কথা বলে। একবার, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, বেলজিয়ামের সমুদ্রজুড়ে মাছের সংকট দেখা যায়। মাছ মেলে না, পাতেও পড়ে না। বেলজিয়ামের মৎস্যজীবীরা তখন আর কী করেন, ব্যাজার মুখে আলুকে তেলে ভেজেই কাজ চালাতে শুরু করেন। সে সময় মার্কিন সৈন্যরা বেলজিয়ামে শিবির ফেলছিল। তারাই ফরাসিভাষীদের আলুভাজা দেখে নাম দিয়ে দেয় ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।
বেলজিয়াম যদিও স্রেফ ফরাসি আলুভাজাই দেয়নি৷ আমাদের প্রিয় এক বিখ্যাত ফরাসি গল্পের চরিত্রকেও দিয়েছে। 'টিনটিন'।
সিজার স্যালাড
সিজার স্যালাডের (caesar salad) সঙ্গে জুলিয়াস সিজার, অক্টোভিয়ান সিজার বা রোমান সাম্রাজ্য কারোরই কোনও যোগাযোগ নেই। বস্তুত, সেটা তৈরিও হয়েছিল ভূমধ্যসাগরের পাড়ে নয়, অতলান্তিকের ওপারে মেক্সিকোতে। বানিয়েছিলেন বিখ্যাত শেফ সিজার কার্দিনি। গল্পটা অনেকটা বাটার চিকেনের মতই৷ যখন দেখলেন, সাপ্লাই কিঞ্চিৎ কম, এদিকে খদ্দের বেশি, কার্দিনি লেটুস, ডিম, অলিভ অয়েল, ক্রোটন ইত্যাদি মিশিয়ে বানিয়ে ফেললেন সিজার স্যালাড। আজও এই নামেই সারা বিশ্বে খ্যাত৷
সামোসা বা শিঙাড়া
সামোসা বা শিঙাড়ার নাকি জন্ম মধ্যপ্রাচ্যে। নাম ছিল 'সাম্বোসা'৷ ভেতরে দেওয়া থাকত মাংস। মধ্যযুগে বণিকরা যখন মধ্য এশিয়া দিয়ে লম্বা বাণিজ্যপথে যেত, তারাই সামোসা বানিয়ে খেতে খেতে যেত, যেটা অল্প সময়ে বানানো যাবে ও বেশিক্ষণ ভাল থাকবে। পরে ভারতে বেশিরভাগ জায়গায় নিরামিষ চলে দেখে তারা মাংসের জায়গায় আলু ও সবজি দিয়ে পালটে দেয়। নাম হয় 'সামোসা'।
বিতর্কে এবার ‘সেঙ্গোল’, বিজেপির কাহিনি মানতে নারাজ রাজাজির নাতিই