
শেষ আপডেট: 17 October 2023 18:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডেঙ্গি (Dengue) ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। মৃত্যু বেড়েই চলেছে। বাচ্চা থেকে বয়স্ক, একের পর এক ডেঙ্গিতে মৃত্যুর খবর আসছে। করোনার মতোই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ডেঙ্গি ঠেকাতে জোরকদমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য় স্বাস্থ্য দফতর। জেলায় জেলায় পাঠানো হচ্ছে বিশেষজ্ঞের টিম। কিন্তু শুধু সরকার বা প্রশাসন উদ্যোগ নিলেই হবে না, নিজেদেরও এইসময় যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। নিজের পরিবারকে ডেঙ্গি থেকে বাঁচাতে সতর্কতা আগে নিজেদেরই নিতে হবে।
ডেঙ্গি মশা বেড়েছে। তাছাড়া জমা জল, আবর্জনায় আরও বেশি মশার বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। মশার লালা বাহিত হয়ে ডেঙ্গির ভাইরাস ঢুকে পড়ছে মানুষের শরীরে। ডেঙ্গি হেমারেজিক ফিভার (Dengue Hemorrhagic Fever) বা শক সিন্ড্রোমেই মৃত্যু হচ্ছে রোগীর। ডেঙ্গি জ্বর তিন থেকে সাত দিন থাকে, এরপর জ্বর কমতে থাকে। জ্বর কমতে শুরু করার পর পরই আসল বিপদটা শুরু হয়। এইসময়ে শরীরে সাইটোকাইন-স্টর্ম (cytokine storm) শুরু হয়ে যায়, ফলে প্রদাহ বাড়ে। নানা জটিলতার সূত্রপাত তখন থেকেই।
করোনার পরে নানা শারীরিক সমস্যায় জেরবার অনেকে। তার মধ্যে ডেঙ্গি হলে শরীর আরও বিগড়ে যাচ্ছে। যাদের আগে থেকেই নানা কোমর্বিডিটি রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গি (Dengue) ভয়ানক হয়ে উঠছে। তাই প্রত্যেককে এই সময় বাড়তি সতর্কতা নিতেই হবে।
১) ডেঙ্গির এডিস মশা মূলত ভোরে সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আধঘণ্টা আগে কামড়ায়। তাই দিনের এই সময়টিতে সতর্ক থাকা দরকার। মশা যাতে ঘরে ঢুকতে না পারে, প্রয়োজনে ঘরের জানালা বন্ধ রাখুন। অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের সময়টা বাদ রাখলে সন্ধে ৬টা থেকে রাত ১০টা, ভোর ৪টে থেকে সকাল ৬টাতেও এই মশা সক্রিয় থাকে। তাই এই সময়টাতেও সাবধান থাকতে হবে।
২) হাত-পা সম্পূর্ণ ঢাকা থাকবে এ জাতীয় পোশাক পরাই ভাল। অনাবৃত অংশে মশার কামড়ের হাত থেকে রেহাই মিলবে সে ক্ষেত্রে। যাঁরা বাইরে বেরোচ্ছেন নিয়মিত, সে ক্ষেত্রে স্প্রে ব্যবহার করলে খানিকটা সুবিধা মিলবে ।
৩) জল সে নোংরা হোক বা পরিষ্কার কিছুতেই জম থাকতে দেবেন না। জলের বালতি ঢেকে রাখুন। বাড়ির চারপাশে যেন কোনও ভাবেই জল না জমতে পারে সে দিকে কড়া নজর রাখুন।
৪) বাড়ির কাছে প্রচুর জমা জল, নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল হলে স্থানীয় পুরসভা বা পঞ্চায়েতের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
৫) ঘরের জানলা, ভেন্টিলেটর অথবা বাড়ির যেসব অংশ দিয়ে মশা ঢোকার আশঙ্কা প্রবল, সেই জায়গাগুলিতে জাল ব্যবহার করতে পারেন।
৬) একান্তই কোনও বাড়ি তৈরির পরিস্থিতি এলে ওই জায়গার চারপাশে নিয়মিত কীটনাশক ও মশা মারার স্প্রে দিন।
৭) ব্লিচিং, কীটনাশক বা তেলে ছড়ান বাড়ির চারপাশে, তবে তার চেয়েও বেশি জোর দিন আগাছা পরিষ্কারে।
৮) পরিত্যক্ত গাড়িতেও বর্ষার জল জমে ডেঙ্গি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নজর দিতে হবে সে দিকেও। আবাসনে জল যাতে না জমে, নজর রাখতে হবে সে দিকেও । খুব গভীর জলাশয়ে ডেঙ্গির মশা ডিম পাড়ে না। কিন্তু ২ সেন্টিমিটারের মতো জল থাকলে তাতেই লার্ভা জন্ম নিতে পারে। তাই কোনও খোলা পাত্রে কখনওই জল জমিয়ে রাখবেন না।
৯) ব্লিচিং পাউডার জীবাণুমুক্ত করলেও লার্ভা মরে না এতে। তাই অ্যান্টি-লার্ভাল স্প্রে ব্যবহার করতে হবে, যাতে লার্ভাগুলি (Dengue) মরে যায়, সে দিকে নজর রেখে স্প্রে ব্যবহার করতে হবে।
১০) চার দিনের পরেও জ্বর, শ্বাসের সমস্যা, বমিভাব বা পেটে ব্যথা থাকলে টেস্ট অবশ্যই করাতে হবে। র্যাপিড টেস্টের মাধ্যমে এন-এস১ রক্ত পরীক্ষা করতে হবে দ্রুত। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, জ্বর দেখে যেহেতু ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, করোনা কিছুই বোঝা যায় না, তাই ব্লাড কাউন্ট-সহ প্রথমেই প্রাথমিক রক্ত পরীক্ষা অর্থাৎ ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া টেস্ট করতে হবে।