
শেষ আপডেট: 11 November 2023 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা পরবর্তী সময়ে ফুসফুসের জোর কমেছে অনেকেরই। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো রয়েছে বায়ু দূষণও। যানবাহনের ধোঁয়া, ধুলো, গ্রিন হাউস গ্যাসের বাড়াবাড়ি, বিষ-বাষ্পে নাজেহাল হচ্ছে ফুসফুস। তার উপর শীত এলেই যে অসুখের দাপাদাপি শুরু হয় তার নাম নিউমোনিয়া। ৬০ থেকে ৬৫ বছরের বেশি বয়স হলে অথবা চার বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় বেশি। ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে এই রোগ হয়। অল্প থেকে ক্রমশ গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে নিউমোনিয়া, যার কারণে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
ভ্যাকসিন থাকলেও নিউমোনিয়া এখনকার সময়ে চিন্তার কারণ। বিশেষ করে বাচ্চা ও বয়স্কদের ভয় অনেক বেশি। বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবসের আগে এই রোগ নিয়ে সতর্ক থাকার উপায় বলছেন দমদমের আইএলএস হসপিটালের কনসালট্যান্ট পালমোনোলজিস্ট ডা. অনির্বাণ সরকার।
নিউমোনিয়া কেন হয়?
ডাক্তারবাবু বলছেন, শীতকালে জীবাণুর দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি হয় বলে এই সময়ে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেশি বাড়ে। নিউমোনিয়া মূলত তিন ধরনের। কমিউনিটি অ্যাকুয়ার্ড নিউমোনিয়া (ক্যাপ), হসপিটাল অ্যাকুয়ার্ড নিউমোনিয়া (হ্যাপ) আর ভেন্টিলেটর অ্যাকুয়ার্ড নিউমোনিয়া (ভ্যাপ)। এর মধ্যে হ্যাপ এবং ভ্যাপে আক্রান্ত হওয়া মানুষের শরীরের দ্রুত অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক নিউমোনিয়ার জন্য দায়ী।
নিউমোনিয়া হল ফুসফুসের সংক্রমণ। আমাদের ফুসফুস অনেকটা স্পঞ্জের মতো। এর কোষ ভর্তি থাকে হাওয়া দিয়ে। তাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফুসফুসকে গ্যাস ভর্তি বেলুনের সঙ্গে তুলনা করা যায়। নিউমোনিয়া হলে ফুসফুস ক্রমশ কঠিন হয়ে শুরু করে। ডাক্তারি মতে একে বলা হয় কনসোলিডেশন। এক্স রে করলে সাদা দেখতে লাগে।
এই রোগের প্রথম এবং প্রধান লক্ষণ অস্বাভাবিক জ্বর। জ্বর ক্রমশ বাড়তে থাকা নিউমোনিয়ার অন্যতম লক্ষণ। তাই জ্বর যদি ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং কিছুতেই না কমে, তখন অবশ্যই সাবধান হতে হবে। একই সঙ্গে কাশিও হতে থাকবে এবং বুকে ব্যথাও হবে। কখনও এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি করা ঠিক হবে না। কাশি না কমলে প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বুকের এক্স-রে করে নিতে হবে। একই সঙ্গে জ্বরের মাত্রা না কমলেও রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়াই শ্রেয়।
বাচ্চাদের ভয় বেশি
পাঁচ বছরের নীচে ১৫ শতাংশ শিশুর মৃত্যুর কারণই হল নিউমোনিয়া। গত তিন বছরে এই অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। নিউমোনিয়া ফুসফুসেরই জটিল অসুখ। ফুসফুসে জল জমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে দূষণও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। ফলে সামান্য সর্দি-কাশি সারতেও সময় লাগছে অনেক দিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের দেশে ৩০ লক্ষ শিশুর নিউমোনিয়া সিভিয়ার অর্থাৎ মারাত্মক ধরনের। প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে ৫ জন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ফুসফুসের এই অসুখে শিশু মৃত্যুর হার কমানোর জন্যই ভ্যাকসিনের প্রয়োজনীয় এখন সবচেয়ে বেশি।
হাই-রিস্কে কারা
যে সব মানুষের শরীরে ইতিমধ্যে অন্য রোগ বাসা বেঁধেছে, সেই সব মানুষের শরীরে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ দ্রুত হওয়ার একটা আশঙ্কা থেকেই যায়। যেমন ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস এবং এইচআইভি পজিটিভে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে নিউমোনিয়ার ভাইরাস ঢুকলে দ্রুত সংক্রমণের ভয় বেশি থাকে। সিওপিডি থাকলেও নিউমোনিয়ার ভয় বেশি।
কীভাবে সাবধান থাকবেন
শীতকালে ঠান্ডা যাতে না লাগে তার জন্য গরম জামাকাপড় পরে থাকতে হবে। রাতের দিকে রাস্তায় বেরোতে হলে বয়স্ক ও শিশুদের কানঢাকা টুপি পরতে হবে।
নিয়মিত ধূমপান, মদ্যপান বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
বাচ্চার ঠান্ডা লাগা বা অ্য়ালার্জির ধাত থাকলে তার সামনে ধূমপান করবেন না। প্রচুর জল ও ফ্লুয়িড জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে বাচ্চাদের। ভিটামিন সি আছে এমন সিট্রাস ফল বেশি করে খাওয়ান।
অ্যাজমা থাকলে ইনহেলার সঙ্গে রাখুন। চিকিৎসকের নির্দেশ মতো ব্যবহারের বিধিনিষেধ মানতে হবে।