
শেষ আপডেট: 23 August 2019 10:30
ফুসফুসের অনেক সমস্যাই প্রথমে বোঝা যায় না, অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরে যখন সমস্যা বাড়তে থাকে, তখন ওষুধেও রোগ বাগে আনা মুশকিল হয়ে যায়। তাই ফুসফুসের খেয়াল রাখতে হয় শুরু থেকেই । ফুসফুসের অনেকগুলো সমস্যার মধ্যে সিওপিডি একটি। সেটা কী করে সামলানো যায়, তা নিয়েই কথা বললেন বিশিষ্ট পালমোনলজিস্ট প্রশান্ত কুমার।
দ্য ওয়াল: সিওপিডি কী? কেন হয়? ডাঃ কুমার: সিওপিডি অর্থাৎ ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজ়িজ়। ফুসফুসের এমন একটা অসুখ এটা, যাতে নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। কারণ এতে ফুসফুসের যে নালি, তা সরু হয়ে যায়। এই নালি সরু হয়ে যায় বিভিন্ন দূষণ, ধোঁয়া, ধুলো থেকে। এই নালি সরু হয়ে গেলে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের সময়ে হাওয়া আমাদের শ্বাসনালি দিয়ে ব্রঙ্কিওলে যায়। এই ব্রঙ্কিওলগুলোর শেষে আবার ছোট ছোট থলি বা অ্যালভিওলাই থাকে। এই অ্যাভিওলাইগুলোই আমাদের রক্তে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দেয়। সিওপিডি-র ফলে এই থলিগুলিতে যতটা হাওয়া যাওয়া প্রয়োজন, ততটা পৌঁছয় না। এই থলিগুলি বা বাতাস যাওয়ার নালিগুলির স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় অনেক সময়ে। থলিগুলির কিছু কিছু দেয়াল নষ্ট হয়ে যেতে পারে, দেওয়াল মোটা হয়ে যেতে পারে, কফ জমে হাওয়া যাওয়ার পথে বাধা পড়তে পারে। যে কোনও কারণেই এই সমস্যা হতে পারে।
দ্য ওয়াল: এর লক্ষণগুলো কী কী ? কী কী দেখে একজন রোগী বুঝতে পারবেন, তাঁকে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে? ডাঃ কুমার: সিওপিডি যেহেতু অনেকটা হাঁপানির মতো, তাই এতে খুব বেশি কাশি হতে পারে, বারবার বুকে ঘড়ঘড় করে কফ জমতে পারে, নিঃশ্বাসে সাঁ সাঁ শব্দ, দম ফুরিয়ে যাওয়া, বুক হালকা লাগা, ইত্যাদি থাকতেই পারে। সাধারণ দৈনন্দিন কাজ করতে গিয়েও যখন দেখবেন, হাঁপিয়ে যাচ্ছেন, অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে আপনাকে। অনেকে বলেন স্নান করে বেরিয়ে বুক ধড়ফড় করে, একটু হাঁটা চলা করলে সমস্যা হয়। এ ছাড়া খাওয়ার ইচ্ছে কমে যেতে পারে, ওজন কমে যেতে পারে। এ সব লক্ষণ দেখলেই অবশ্য একবার ডাক্তারের কাছে যাবেন।
দ্য ওয়াল: এর নির্দিষ্ট কোনও বয়স আছে কি? নাকি যে কোনও কারও হতে পারে? ডাঃ কুমার: না, সেই অর্থে এই অসুখ খুব কম বয়সীদের যে হয় তা কিন্তু নয়। মূলত ৫০ বছরের পরে এই রোগ হতে পারে। কারণ কেউ যদি কোনও শিল্পাঞ্চলে থাকেন দীর্ঘদিন। বা বহুবছর ধরে ধূমপান করে আসছেন, কিম্বা বাড়িতে কেউ পরপর সিগারেট বা পাইপ খান, সেক্ষেত্রে সেকেণ্ডহ্যান্ড স্মোকিং সমস্যা করে অনেকটাই। এই ধোঁয়া, ধুলো ফুসফুসের ওই নালিতে জমতে জমতে বয়স বেড়ে গেলে সিওপিডির সমস্যা হয়।
ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। ২৮ বছরের এক মহিলারও সিওপিডির সমস্যা থাকতে পারে। হতেই পারে তাঁর জন্মের পর থেকে তাঁর বাড়িতে কেউ চেন স্মোকার ছিলেন। সেই ধোঁয়া ইনহেল করতে করতে তাঁর মাত্র ২৮-এই সিওপিডি হয়ে গেল। আরেকটা বিষয় সব সময়ে মনে রাখার আছে এ ক্ষেত্রে। বাইরের ধোঁয়া, ধুলোর চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করে বাড়ির ভিতরের দূষণ। স্মোক করলে অবশ্যই বাইরে গিয়ে করবেন, নইলে বাড়ির বাকিরাও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। দ্য ওয়াল: সেকেন্ডহ্যাণ্ড স্মোকিং কতটা প্রভাব ফেলে এই রোগে? ডাঃ কুমার: খুবই প্রভাব ফেলে , তাই কেউ নিজে স্মোক করছেন না, অথচ কেন তাঁর সিওপিডি হল, এই প্রশ্ন অবান্তর। সেকেন্ডহ্যান্ড স্মোকিংয়ে অনেকেরই ফুসফুসের নালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই নিজের এবং অন্যের খেয়াল রাখতে গেলে ধূমপান ছাড়াই বাঁচার অভ্যাস করতে পারেন। দ্য ওয়াল: মহিলা পুরুষ হিসেবে আলাদা কোনও কারণ থাকে এই রোগের? ডাঃ কুমার: সাধারণত পুরুষদের ক্ষেত্রে বাড়ির বাইরের ধোঁয়া ধুলো দূষণে বেশি ক্ষতি হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে এখনও অনেকে কয়লার উনুনে রান্না করেন, তাঁদের সিওপিডির সমস্যা বাকি মহিলাদের থেকে বেশি হয়। আর সেকেন্ডহ্যান্ড স্মোকিংও একটা বড় বিষয় মহিলাদের জন্য। আরও শুনুন এ নিয়ে কী বলছেন ডাক্তারবাবু... https://www.youtube.com/watch?time_continue=10&v=KG7qcHZalSM দ্য ওয়াল: শিশুদের কখনও জন্ম থেকে সিওপিডি হতে পারে? হলে সে কি আদৌ কোনওদিন পুরোটা সুস্থ হতে পারে? ডাঃ কুমার: না, সাধারণত শিশুদের এই সমস্যা সেভাবে হয় না। তবে, হলেও সেটা ওষুধ চালাতে হয়। আর এই রোগ শিশু বা বয়স্ক যাঁরই হোক, পুরোটা কখনওই সারে না। ইনহেলার নিয়ে যেতে হবে সবসময়েই। তাতে যে ওষুধ ডাক্তার প্রেসক্রাইব করবেন, তা চলবে। দ্য ওয়াল: লাইফস্টাইল এক্ষেত্রে কতটা প্রাভাব ফেলতে পারে? ডাঃ কুমার: এটা তো পুরোটাই লাইফস্টাইল ডিজ়িজ়। তাই চেষ্টা করতে হবে দৈনন্দিন জীবন যাপন ঠিক রাখতে। দ্য ওয়াল: এটা ওষুধ নির্ভর চিকিৎসা, না অপারেশনও করতে হতে পারে? ডাঃ কুমার: অপারেশন যথেষ্ট ব্যয়বহুল, এ দেশে সে ভাবে হয় না। মূলত ওষুধ নির্ভর চিকিৎসা।সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মধুরিমা রায়