
শেষ আপডেট: 1 August 2023 10:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুবনজোড়া ডিজিটাল ফাঁদ (Cybercrime)। তাতে পা ফস্কালেই বিপদ। অসতর্কতার সামান্য ফাঁক-ফোঁকর গলে মূর্তিমান বিপদ হানা দিতে পারে আপনারই অন্দরমহলে। সাইবার অপরাধের যে এত বাড়বাড়ন্ত তার জন্য আমরাই কি দায়ী নই? বেখেয়ালি পদক্ষেপ সাইবার সন্ত্রাসকে আমন্ত্রণ করে আনে। দৈনন্দিন জীবনে যে ছোট ছোট ভুলগুলো আমরা করি তাই আগামী দিনে মহা সর্বণাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অপরাধীদের হাতে নিজেদের গোপন ও ব্যক্তিগত তথ্য তুলে দিই আমরাই, নিজেদের অজান্তে ও বেখেয়ালে, যার মাশুল দিতে হয় ভয়ঙ্করভাবে (Cybercrime)। কেউ আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে, কারও মান-সম্মান নিয়ে টানাটানি শুরু হয়।
আমরা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনকে সোশ্যাল মিডিয়ায় উজাড় করে দিই, আর তার পরিণামও হয় ভয়াবহ। ফেসবুকে অনেকেই নিজের ফোন নম্বর, ইমেল আইডি অবধি দিয়ে রাখেন। তাছাড়া সারাদিনের পোস্টে সবরকম তথ্য তো থাকেই। ফেসবুকে যে এই প্রশ্নোত্তর রাউন্ডগুলো খেলেন, দেদাড় ফেস অ্যাপ করেন, ভেবে দেখেছেন কি নিজের বায়োমেট্রিক ডেটাও দিয়ে দিচ্ছেন ডার্ক ওয়েবকে। আপনার মুখের আদল নিয়ে তা থেকে যে অশ্লীল ভিডিও, ছবি বানানো হবে না তা কে বলতে পারে। ইদানীং কালে অনেকেই ভুগেছেন। তাঁদের ছবির সঙ্গে বিকৃত ছবি জুড়ে ভাইরাল করে ব্ল্যাকমেল করা হয়েছে। কলকাতা শহরেও এমন ঘটনার নজির রয়েছে। সাবধান থাকুন। বিনোদন বিপদের কারণ হতে পারে।

হোয়াটসঅ্যাপেও আড়ি পাতছে হ্যাকাররা
গুড মর্নিং, গুড ইভিনিং মেসেজে ভর্তি আপনার হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল। তাছাড়া সারাদিন বিভিন্ন গ্রুপ থেকে নানা ছবি, অডিও, ভিডিওর ফরওয়ার্ড করা লিঙ্ক আসছে, আপনিও ফটাফট ডাউনলোড করে ফেলছেন। এর ফলে আপনার মোবাইলে অযাচিতভাবেই ম্যালওয়্যার ইনস্টল হয়ে যাচ্ছে। সারাদিন এমন অজস্র ছবি, ফাইল আমরা ডাউনলোড করছি। সেই সব ফাইল হয়ত ফরওয়ার্ড করছেন আপনারই কোনও বন্ধু বা আত্মীয়। তাঁরাও অজান্তেই অন্য কারও থেকে সেগুলো পেয়েছেন। এইভাবে একটা চেইন তৈরি হচ্ছে, যার মাধ্যমে ছোট ছোট কিছু স্পাইওয়্যার একাধিক ফোনে ইনস্টল হয়ে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতেই হবে।
আরও পড়ুন: মোবাইল ছাড়া এক দণ্ডও চলে না, স্মার্টফোনে আসক্তি মাদকের নেশার মতোই বাড়ছে
বিজ্ঞাপনী চমকে ভুলে অজানা লিঙ্ক খুলবেন না
বিজ্ঞাপনী চমকে ভুলে কোনও অজানা সাইট থেকে খাবার অর্ডার করছেন। এবার তারা আপনাকে বলবে, তাদের লিঙ্কে ক্লিক করে ১০ টাকা বা ২০ টাকার টোকেন পাঠাতে। তার জন্য আপনাকে ওটিপি শেয়ার করতে হল। আপনি সেটা করলেন আর পরে দেখলেন আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সবটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। এমন সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন অনেকেই। সাম্প্রতিক সময়েও কলকাতা পুলিশ এই বিষয়টা নিয়ে সাবধান করেছিল। তাই কোনও অবস্থাতেই অচেনা কাউকে OTP/MPIN/UPI PIN শেয়ার করবেন না। upi pin শুধুমাত্র টাকা পাঠানোর কাজে লাগে, টাকা পেতে এই পিন লাগে না। কোনও অজানা, অপ্রয়োজনীয় লিঙ্কে ক্লিক করবেন না, অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করবেন না।