দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাহাড়ের প্রেমে যদি পড়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য রইল হিমাচল প্রদেশে বেড়াতে যাওয়ার পরামর্শ। উত্তর ভারতের পাহাড়ের সাম্রাজ্যের কোলে বসে রয়েছে সৌন্দর্যের রানি হিমাচল। করোনা আবহে এবার সেই ভাবে গরমের ছুটি বা পুজোর ছুটিতে মানুষজন বেড়াতে যেতে পারেননি। তবে শীতে কিংবা সামনের বছরে হিমাচলে বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান করতেই পারেন। অবশ্যই সবরকম সাবধানতা অবলম্বন করে।
রইল হিমাচলের কয়েকটা অফবিট ডেস্টিনেশনের হদিস।
১. জিসপা
লাহুল উপত্যকার ছোট্ট একটি জনবসতি জিসপা। এর নাম হয়তো আগে আপনি শোনেননি। তবে লাহুলের পরিচিত ভিড়ের থেকে অনেকটাই ভেতরে রয়েছে জিসপা। আপনি যদি শান্ত পরিবেশ পছন্দ করেন তাহলে সেই তালিকায় থাকতে পারে জিসপার নাম। জায়গা অত্যন্ত সুন্দর। পিটস্টপ রুট হিসেবে জিসপার খ্যাতিও রয়েছে। কেলং থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ জায়গা। চাইলে রোড ট্রিপে বাইক নিয়েও আসতে পারেন এখানে।

২.কল্পা
এখন অনেকেই এই জায়গাটিতে যান। কিন্নর-কৈলাসের কোলে এই জায়গাটি অপূর্ব সুন্দর। ট্রেকিং করা, আপেল বাগানে ঘুরে বেড়ানো ও সঙ্গে হিমালয়ের অপার শোভা দেখে মন ভালো হতে বাধ্য। গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায় যে এ গ্রামে একবার এলে পাহাড়ে মোড়া এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে প্রেমে পড়তে বাধ্য হবেন।

৩. ত্রিউন্ড
পাহাড় এমনিতেই শান্ত হয়। আর আপনি যদি নির্জনতা পছন্দ করেন তাহলে নিশ্চিতে আসতে পারেন ত্রিউন্ডে। তবে গরমকাল বাদ দিয়ে আসতে হবে, তাহলেই ধরা পড়বে ত্রিউন্ডের বিস্ময়কর সৌন্দর্য। আর এখানে আসার জন্য একটু ট্রেকিং করার অভ্যাস থাকা জরুরি।

৪. নাগ্গর
মানালি যদি যেতে না চান বা মানালির ভিড়কে একটু এড়াতে চান তাহলে আপনি অবশ্যই একবার আসতে পারেন নাগ্গরে। এখানে যেমন রয়েছে শান্ত পরিবেশ, তেমনই রয়েছে বিভিন্ন লোককথা। যা আপনার মনকে ভাল করে দিতে বেশি সময় নেবে না!

৫. মালানা
ভারতের অন্যতম সুন্দর গ্রাম হিসাবে এই মালানাকে গণ্য করা হয়। পার্বতী উপত্যকায় অবস্থিত এই গ্রামে স্থানীয়দের বাস। বাইরের লোক খুব বেশি এদিকে আসেন না। এখানে যেতে হলে আপনাকে মানতে হবে অনেক নিয়মকানুনও।

৬. কারসোগ ভ্যালি
শিমলা থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরত্বেই রয়েছে কারসোগ ভ্যালি। সবুজে ঘেরা, আপেল বাগানের ভর্তি কারসোগ ভ্যালি হিমাচলের মাণ্ডি জেলায় অবস্থিত এই ভ্যালি। এখানে পাহাড়ের কোলে আছে নানা দর্শনীয় জায়গা যেমন মহানাগ মন্দির, মামলেশ্বর মন্দির যা কারসোগ ভ্যালির সৌন্দর্যকে অন্য মাত্রা যোগ করেছে।

৭. কী মনাস্ট্রি
কী মনাস্ট্রি হল হিমাচল প্রদেশের স্পিতি ভ্যালির অন্যতম এক ল্যান্ডমার্ক। এই বিখ্যাত বৌদ্ধ মন্দিরের সৌন্দর্য অসামান্য। টাবো, পু, সিচলিং থেকে মাত্র ৮ কিমি এগোলেই চোখে পড়বে, ধানকার মনাস্ট্রি৷ পাহাড়ের গায়ে আটকে আছে, হাজার বছরের প্রাচীন ধানকার গুম্ফা৷ অন্দরমহলের চিত্রকলা ও শিল্পকর্ম অনবদ্য৷ তীব্র বাতাসের দাপটে পাহাড় আর মাটির ক্ষয়ে অপরুপ শিল্পকর্মের সৃষ্টি করেছে৷

৮. কুটলা
হিমাচল প্রদেশের পার্বতী ভ্যালিতে রয়েছে এই ছোট্ট গ্রাম কুটলা। এই জায়গার রয়েছে আলাদা রকমের মনোরম দৃশ্য। যে পর্যটকদের মন ভাল করে দিতে বাধ্য।

তাহলে এই শীতে কিংবা সামনের গরমে হিমাচলের এই অফবিট অঞ্চলগুলো রাখতে পারেন আপনার বেড়ানোর তালিকাতে। বলাই যায় যে বেড়ানো মোটেও খারাপ হবে না!