
শেষ আপডেট: 27 February 2024 08:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খামখেয়ালি আবহাওয়ার জন্যই এত সব ঝামেলা। কখনও ভীষণ গরম আবার কখনও ঠান্ডা। সামলে চলতে না পারলেই মুশকিল। এই সময়ে ঘরে ঘরে জ্বর হচ্ছে। বিশেষ করে বাচ্চারাই বেশি ভুগছে। জ্বরের সঙ্গে সর্দি-কাশি, শ্বাসের সমস্যাও দেখা দিচ্ছে অনেকের। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, পোস্ট-কোভিড পর্বে নানারকম ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার উৎপাত বেড়েছে। রেসপিরেটারি ভাইরাসও ছড়াচ্ছে। তাছাড়া অন্যান্য ভাইরাল জ্বরও হচ্ছে। তাই এই সময় অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। গোড়াতেই লক্ষণ চেনা ও দেরি হওয়ার আগেই ডাক্তারের পরামর্শ নিলে জ্বর দ্রুত সেরে যাবে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
জ্বর হলে কী করণীয়? কখন ডাক্তার দেখাতে হবে?
১) সবচেয়ে প্রথম দেখতে হবে সর্দি-জ্বর কতটা বাড়ছে। তাপমাত্রা বেশি উঠে গেলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
২) ১০৪ ডিগ্রি অবধি তাপমাত্রা উঠতে দেখা যায়। ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর সাধারণ ২-৩ দিন থাকে, বারে বারেই ধুম জ্বর আসতে পারে। কিন্তু চার থেকে পাঁচ দিন পরেও জ্বর না কমলে সতর্ক হতে হবে।
৩) বাচ্চাদের প্যারাসিটামল ও আইবুপ্রোফেন দেওয়া যেতে পারে। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা অন্তর দিনে পাঁচ থেকে ছয় বার ওষুধ খাওয়ানো যাবে।
৪) অ্যাসপিরিন কোনওভাবেই খাওয়া যাবে না।
৫) জ্বরের সঙ্গে যদি খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে রোগীকে।
৬) বাচ্চাদের গা গরম দেখলে জলপট্টি দিন, গা, হাত-পা ভাল করে স্পঞ্জ করে দিন। ফ্যান চালিয়ে রাখুন, সারা ঘরে যাতে ভেন্টিলেশন ঠিকঠাকভাবে হয় সেটা খেয়াল রাখুন।
৭) শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯২ শতাংসের নীচে নেমে গেলে সতর্ক হতে হবে। বাচ্চাদের জ্বরের সঙ্গে যদি শ্বাস নিতে সমস্যা হয় তাহলে অক্সিজেন লেবেল চেক করতে হবে।
প্যারাসিটামল কী ডোজে খাবেন, কতদিন?
ডাক্তারবাবুরা বলছেন, সিজন চেঞ্জের সময় জ্বর হয়েই থাকে। এতে ঘাবড়াবার কিছু নেই। প্যারাসিটামল খেতে পারেন। অনেকে মাথা ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন খান। সেটা খাবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ভুলেও কোনও অ্যান্টি-ভাইরাল বা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ওষুধ খাবেন না। এতে হিতে বিপরীত হবে। প্রেসার ও সুগারের ওষুধ খেলে সেটা বন্ধ করা ঠিক হবে না। মাল্টিভিটামিন, ভিটামিন সি খেতে পারেন।
জ্বর হলে এখন প্যারাসিটামলই প্রাথমিকভাবে খাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, জ্বর ১০১-এর বেশি হলে ভাল করে মাথা ধুইয়ে গা মুছতে হবে। জলপট্টি দিতে হবে। যে করে হোক জ্বরটা নামাতে হবে। এতে না কমলে কিন্তু ডাক্তার দেখাতে হবে। তখন অ্যন্টিবায়োটিক খেতে হতে পারে। তিন দিন পর জ্বর না কমলে কিছু রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। বুকে কফ বসলে চেষ্ট এক্স-রে করাতে হবে। বিশেষ করে বয়স্কদের। সেই রিপোর্ট দেখে তার পর ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন। নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
৩ গ্রামের বেশি প্যারাসিটামল খাওয়া চলবে না। অর্থাৎ আপনি যদি ৬৫০ করে প্যারাসিটামল খান, তবে তা যেন দিনে ৩০০০-এর উপরে না যায়। ৩ গ্রামের হিসাবটা করেই একজন রোগীকে ওষুধ খেতে বলে থাকেন চিকিৎসকেরা। তাই যতবার খুশি খাওয়া চলবে না। এতে রোগীরই ক্ষতি। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, গায়ে জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল খেতে হবে। অর্থাৎ এসওএসের মতো।