দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামান্য মাথা ব্যথা হলেই ট্যাবলেটের পাতা ছিঁড়ে একটা ছোট গুলি মুখের ভেতর চলে যায়। সর্দি-জ্বর, গায়ে ব্যাথা মানেই মুঠো মুঠো ট্যাবলেট (Pain Killer)। পিরিয়ডের সময় পেটে যন্ত্রণা কমাতে আগে থেকেই ওষুধের কৌটো হাতের কাছে রেডি। এই যে যখন তখন ব্যথা কমানোর ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস, সেটা কিন্তু মোটেই ভাল কথা নয়। একটা ওষুধের নানা রকম কাজ থাকে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও (Side Effects) থাকে, সেসব না জেনে বুঝে দুম করে পেইন কিলার খেয়ে ফেলার এই প্রবণতা শরীরে বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে অকালেই। আর যে ওষুধের কথা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি যেমন ভাল, তেমনই ওভারডোজ হলে বা বেশি খেয়ে ফেললে মারাত্মক ক্ষতিকারকও বটে।
খুবই চেনা পরিচিত ওষুধ, সব ঘরেই থাকে
বাজারে যে সব পেইন কিলার পাওয়া যায় তার মধ্যে এটি বেশ পরিচিত, প্রায় সব ঘরেই মজুত থাকে। নাম আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen)। ছোট লালচে রঙের ট্যাবলেট। গা, হাত-পায়ে ব্যথা, মাথা ব্যথা, মাইগ্রেনের যন্ত্রণা, পিরিয়ডের সময় পেটে ব্যথা, এণনকি আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতেও এই ওষুধ বেশ কাজে দেয়।

তাহলে সমস্যাটা কোথায়? এনসেড (NSAID)বা নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গোত্রের ওষুধ একদিকে যেমন দ্রুত শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন কমাতে পারে, তেমনিই এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেক আছে। ডাইক্লোফেনাক, অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন ইত্যাদি এনসেড গোত্রের ওষুধের মধ্যে পড়ে। প্যারাসিটামলও ব্যথা কমাতে পারে তবে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এনসেড ওষুধগুলোর মতো নয়। এই ওষুধে আরও দ্রুত কাজ দেয়, তাই রোগীরও বেশ মনে ধরে। সাইড এফেক্টসের কথা আর মাথায় থাকে না।
বেশি খেলে কী ক্ষতি হয়?
এবার সমস্যার কথায় আসা যাক। আইবুপ্রোফেন যেমন ব্যথায় আরাম দেয়, তেমনি এটি বেশি খেয়ে ফেললে এবং নিয়ম করে খাওয়ার অভ্যাস করে ফেললে সমূহ বিপদ। প্রথমত, ওই ওষুধ রোজ খেলে ডায়েরিয়া হতে বাধ্য। এনসেড গোত্রের যে কোনও ওষুধই পেটের গোলমাল বাঁধাতে পারে। গ্যাসট্রোইন্টেস্টিনাল সমস্যাও হয় অনেকের।

বড়সড় রোগও বাঁধিয়ে বসতে পারেন। হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির রোগ এমনকি লিভার টক্সিসিটি হতে পারে। শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই মারাত্মক। বিশষজ্ঞরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্করা নানা রোগ বা শারীরিক কোনও জটিলতার জন্য এমন কিছু ওষুধ খান যার ‘অ্যাডভার্স সাইট এফেক্টস‘-এ শরীরে ডিহাইড্রেশন তৈরি হয়। শরীরে জল ও খনিজ লবনের মাত্রা কমে যায়। হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে, হার্ট ফেলিওর হতে পারে। আলসার থাকলে এই ধরনের ওষুধ না খাওয়াই ভাল। হৃদযন্ত্রে সমস্যা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যথার ওষুধ বেশ বিপজ্জনক।
হার্টের রোগীরা ভুলেও এ ওষুধ খাবেন না
হার্টের রোগের জন্য ওষুধের থেরাপিতে আছেন যাঁরা তাঁরা তো ভুলেও এই ওষুধ খাবেন না। সাঙ্ঘাতিক ক্ষতি হতে পারে। রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ খান অনেকে, সেক্ষেত্রেও আইবুপ্রোফেন খেতে হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধের ট্রিটমেন্টে থাকেন অনেকে, সাইক্লোস্পোরিন জাতীয় ওষুধ খান, তাঁদের ব্যথার ওষুধ না খাওয়াই ভাল।
নিজে থেকে ডাক্তারি করে পেইন কিলার খাওয়া মানেই ভবিষ্যতে আরও বড় রোগকে নিমন্ত্রণ করে আনা। ব্যথা বলে বিশ্রাম নিন, ফিজিওথেরাপি করান বা বাড়িতেই সেঁক দিন, তাতেও অনেকটা আরাম পাওয়া যায়। বাড়াবাড়ি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খান। ডাক্তারবাবুরা ওষুধ প্রেসক্রাইব করার সময় বয়স, ওজন, রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগের ধরন, আগে থেকে কোনও ওষুধ খাচ্ছেন কিনা ইত্যাদি সব জেনে নেন। তারপরেই কী ধরনের ওষুধ দরকার এবং কতটা ডোজে খেলে কাজ হবে, তা প্রেসক্রাইব করেন। কাজেই নিজে থেকে বাহাদুরি করে মুঠো মুঠো ওষুধ খেতে গেলে হিতে বিপরীত হতে বাধ্য।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'