
শেষ আপডেট: 26 November 2020 18:30
যাচ্ছে মানুষও। যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ছে শরীরে, মনে, সমাজ, সভ্যতায়।
মোবাইলের সুবিধা যেমন অনেক, ক্ষতিকর দিকও কম কিছু নয়। শারীরিক ক্ষতি তো বটেই, মনের অসুস্থতার কথাও এড়িয়ে গেলে চলবে না। কোনও একটা সময় মোবাইল ছাড়া নিজেকে ভেবে দেখুন, মন আনচান করবে। আর চোখের সামনে সাধের মুঠোফোনটিকে না দেখতে পেলে, যেন সাইক্লোন বয়ে যাবে। এই যে অস্থিরতা, উৎকণ্ঠা সেটাও এক ধরনের মানসিক অসুস্থতা। যার ছাপ পড়ে শরীরেও। মোবাইল এর জন্য দায়ী।
একসঙ্গে বসে গল্প-আড্ডার দিনও তো শেষ হয়ে এল প্রায়। আপনজনদের মাঝে বসেও মানুষ এখন একা। মুঠোফোনের স্ক্রিনেই তার নজর বন্দি। যে কারণে সম্পর্কে ভাঙন, একাকীত্ব, মানসিক অবসাদের মতো রোগেরও উপদ্রবও বেশি। মোবাইল প্রয়োজন, মনোরঞ্জনের মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু সুস্থ মনের চাবিকাঠি কখনওই নয়।
মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশন সজোরে ধাক্কা দেয় মস্তিষ্কে
মোবাইল বেশিক্ষণ কানে চেপে থাকলে মাথা ধরে যায়। কান-মাথা গরম হয়ে যায়। ডাক্তাররা তো হামেশাই বলেন, হেডফোনে বেশি জোরে গান শুনতে না, তাহলে মাথা যন্ত্রণা আরও বাড়বে। মস্তিষ্কের রোগও হতে পারে। মাথার স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়বে। এর কারণ কী? আসলে মোবাইল ফোন বার্তা পৌঁছে দেয় তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে। এখন রশ্মির বিকিরণ যখন হচ্ছে সেটি ছোট ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মিতে ভেঙে যায়। একে আমরা মাইক্রোওয়েভ বলি। এই মাইক্রোওয়েভ রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য এক মিটার থেকে এক মিলিমিটার হতে পারে। কম্পাঙ্ক হতে পারে ৩০০ মেগাহার্টজ় থেকে ৩০০ গিগাহার্টজ় পর্যন্ত।
এই মাইক্রোওয়েভই হল যত নষ্টের গোড়া। মোবাইল থেকে যে মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশন বের হচ্ছে তা সরাসরি মাথায় গিয়ে আঘাত করছে। এখন তো মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশনকে কাজে লাগিয়ে অস্ত্র তৈরি হচ্ছে। দূর থেকে রশ্মি ছুড়ে ঘায়েল করা যায় শত্রুসেনাকে। এই রশ্মি যত সূক্ষ্ম হবে ততই তার ক্ষতিকর প্রভাব বেশি। স্নায়ুর দফারফা করে দেবে। যে কারণে দেখা যায় বেশিক্ষণ মোবাইলে কথা বললে কান, মাথা গরম হয়ে যায়। মাথার ভেতর দপদপ করে। অনেকের আবার বেশিক্ষণ হেডফোনে গান শুনলে বা মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকলে মাথা ঘোরে, বমিভাব আসে, ঘাড়ে ও মাথার পেছনে যন্ত্রণা শুরু হয়। মাইগ্রেনের ব্যথা থাকলে সেটাও চড়চড় করে বাড়ে।
তেজস্ক্রিয় রশ্মি তো বটেই মোবাইলের খারাপ গুণ অনেক। সারা শরীরেরই ক্ষতি করতে পারে।
হাতের পেশিতে চাপ পড়ে, প্রদাহ হয় আঙুলে
জানতেন কি, মোবাইল বেশিক্ষণ হাতে ধরে রাখলে বা আঙুল দিয়ে খুটখাট করলে পেশির মারাত্মকভাবে জখম হতে পারে। প্রদাহ হয় টেন্ডনে। আঙুলের পেশি ফুলে যায়। হাতের কব্জি, কনুইতে ব্যথা শুরু হয়। বেশি সময় ধরে মোবাইল কি-প্যাডে টাইপ করলে আঙুলের গাঁটে ব্যথা হতে পারে। এমনকি আর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকক্ষণ ফোন ধরে রাখলে এমনিতেই হাতের কব্জি ব্যথা করে, তাই এই অভ্যাস যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে পেরিটেনডিনাইটিসের মতো রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।
মোবাইলের নীল রশ্মি চোখের জন্য মোটেও ভাল নয়
মায়োপিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় মোবাইল ফোন। একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে ব্যথা করে, শুষ্ক হয়ে যায়, জ্বালা করতে থাকে। রাতে শুয়ে অন্ধকারে ফোন ঘাঁটার অভ্যাস আছে বেশিরভাগেরই। বিশেষত কমবয়সীরা ঘুমোবার আগে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বা মেসেজ করতে অভ্যস্ত। রাতের অন্ধকারে ফোন দেখার ফলে প্রচণ্ড চাপ পড়ে চোখে। ড্রাই আইসের সমস্যা দেখা দেয় অনেকেরই। চোখের রেটিনার ক্ষতি হয়। কনজাঙ্কটিভাল রোগও হতে পারে।
ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দেয় মোবাইল