দ্য ওয়াল ব্যুরো: চা তো আমাদের সকলেরই প্রায় খুবই প্রিয়। আর গ্রিন টি আজকাল খুবই ভরসার জায়গা, যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের কাছে। কিন্তু যে কোনও কিছুর মতোই এই চা ও বেশি মাত্রায় খেলে আপনার নানা সমস্যা হতে পারে। সারাদিনে কোনওমতেই ৫ কাপের বেশি এই চা খাবেন না। যদি খান তাহলে কী সমস্যা হতে পারে, জেনে নিন।
স্টমাক প্রবলেম
বাঙলা ও বাঙালি তো ঝোলে ঝালে অম্বলেই অভ্যস্ত। কিন্তু এই অম্বল কতদিন পর্যন্ত আপনি সহ্য করতে চাইবেন! যদি না চান, তাহলে কমিয়ে দিন গ্রিন টি খাওয়া। গ্রিন টি তে থাকা ট্যানিন আপনার স্টমাকের দফারফা করে দিতে পারে। ট্যানিন থেকেইঅ্যাসিড তৈরি হবে বেশি। খালি পেটে না খেয়ে , দুটো মিলের মাঝে অর্থাৎ হেভি ফুডের মাঝে খান গ্রিন টি। সমস্যা কম হবে তাতে। আবার আপনার বমি ভাব, পেট ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য বেড়ে যেতে পারে এই গ্রিন টি-এর জন্যই। তাই যদি এক দুবার খান এই চা, সমস্যাগুলো থেকে রেহাই পেতে দুধ চিনি দিয়েও খেতে পারেন গ্রিন টি। আর অবশ্যই একটু ঠাণ্ডা করে খান এই চা, গরম খাবেন না।
অ্যানিমিয়া
রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া যাঁদের থাকে , তাঁদের নজর রাখতে হয় যে কোনও খাবার থেকে শরীর যাতে আয়রণ পায়। কিন্তু এক্ষেত্রে বাধ সাধে এই গ্রিন টি। গ্রিন টি প্রথমত শরীরকে কোনও খাবার থেকে আয়রন নিতে দেয় না, দ্বিতীয়ত শরীরে থাকা non heme iron কমাতে থাকে। এই non heme iron থাকে দুধ থেকে তৈরি হওয়া খাবার, ডিম এবং বিন জাতীয় খাবারে। তাই এই সমস্যা জানার পরেও আপনি যদি চান গ্রিন টি খেয়ে যেতে, তাহলে এতে মিশিয়ে নিন লেবুর রস। এতে থাকা ভিটামিন সি আপনার শরীরকে আয়রন অ্যাবসর্ব করতে সাহায্য করবে।
মাথা ব্যথা এবং অনিদ্রা
ক্যাফিন যে আপনার ঘুম কাটায় সেটা তো সকলেই জানি। তাই তো পরীক্ষার আগে হোক বা অফিসে চেয়ারে বসে ঘুম ঘুম পেলে আপনি চুমুক দিতে চান কফির কাপে। কিন্তু এই ক্যাফিন রয়েছে আপনার গ্রিন টি তেও। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। আর এই ক্যাফিন আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফিন আপনার ব্রেনের ঘুম আসার যে রসায়ন তা ঘেঁটে দেয়। ফলে রাতের পর রাত আপনি না ঘুমিয়ে কাটান। আর আপনার সারাটা দিন বিরক্তিতে মাথা ব্যথায় কাটে। রাতে ঘুম আসে না এই গ্রিন টি-এর জন্যই। কারণ তখন আপনার শরীরে অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই শান্তিতে ঘুমোতে চাইলে কমিয়ে দিন গ্রিন টি খাওয়া।
লিভার ও কিডনির সমস্যা
অতিরিক্ত গ্রিন টি খেলে কিডনি ও লিভারে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে এমন কি বিকল ও হতে পারে। গ্রিন টি’তে পলিফেনল নামে এক ধরনের উপাদান আছে, এই পলিফেনল আপনার হার্ট ভালো রাখে, ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে কিন্তু লিভার আর কিডনির সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। বেশি গ্রিন টি খেলে শরীরে টক্সিসিটি লেভেল বেড়ে যায়। যে কারণে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এছাড়াও হতে পারে ডায়ারিয়া, অস্টিওপোরেসিসের মতো ডিসিজ়। তাই সাবধান!
কাজেই গ্রিন টি খেলে ৫ কাপের বেশি তো কখনওই নয়। অনেকে বলেন সেটা ২-৩ কাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন।