
শেষ আপডেট: 14 July 2019 06:21
পেঁয়াজ, রসুন, ব্রকোলির মতো খাবার বাদ দিন। এ গুলোতে যে ফাইবার, সুগার এবং স্টার্চ জাতীয় পদার্থ থাকে সেগুলো হজম হতে সময় নেয় বেশি। দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারেও একই সমস্যা হতে পারে। ল্যাকটোজ় ইনটলারেন্স আছে যাঁদের, তাঁদের শরীরে দুধের যে শর্করা তা হজম হতে সমস্যা হয়। আইসক্রিম, হোলগ্রেন ফুডও একই তালিকাভুক্ত। তাই প্রচণ্ড ইচ্ছে করলেও, ইচ্ছেকে দমিয়ে এগুলো এড়িয়ে চললে অ্যাসিডিটিকে সহজে দূরে রাখা যাবে।
যে সব ফলে সর্বিটলের মতো যৌগ আছে, সেগুলো পারতপক্ষে খাবেন না। কারণ এই সর্বিটলের মতো মিষ্টি স্বাদের যৌগ আপনার স্বাদকোরককে আনন্দ দিলেও, হজমে বিপত্তি ঘটায়। হজম দেরিতে করায় এই সর্বিটল। সবকিছুই খান, তবে কম পরিমাণে খেলে আপনার হজমের গণ্ডগোল কম হবে।
অনেক সময়েই খেতে বসার আগে বা খেতে খেতে আপনি বেশ কিছুটা জল খেয়ে ফেলেন, এতে আপনার পাকস্থলী থেকে যে হজমের উৎসেচক বের হওয়ার কথা তা হয় না। ফলে হজমে সমস্যা হয়। আর পেট গুরগুর শুরু হয়ে যায়। চেষ্টা করুন, খাওয়া শেষ হওয়ার আধঘণ্টা আগে বা পরে জল খান। তাতে ওই উৎসেচক সুন্দর করে নিজের কাজটা করবে, আপনার পেট থাকবে সুস্থ, সুন্দর। খাবার যখন খাবেন, আস্তে আস্তে চিবিয়ে চিবিয়ে তাকে মুখের মধ্যে যতটা পারবেন, টুকরো করে নিন। গোগ্রাসে খেলে আমাদের মুখের মধ্যে দিয়ে খাবারের সাথে সাথে বেশ কিছুটা হাওয়াও চলে যায় পেটে, তাতে পেটের গণ্ডগোল শুরু হয়ে যায়। হজমের সমস্যাও হয়। তাই যত তাড়াহুড়োই থাকুক, চেষ্টা করবেন আস্তে আস্তে ভালো করে চিবিয়ে খাবার খেতে।
অনেক সময়ে আমরা হজমের সমস্যায় ওষুধ খেয়ে নিয়ে রেহাই পাই। জানেন কি, কী ভাবে এই ওষুধ কাজ করে! এই হজমের ওষুধে থাকা রাসায়নিক উৎসেচকগুলো আপনার খাবারে থাকা অতিরিক্ত সুগারকে হজম করাতে সাহায্য করে। যে সব সবজি বা ফলে অতিরিক্ত সুগার থাকে, যা সহজপাচ্য নয়, সে গুলোই হজম করায় এই ওষুধগুলো। এ বিষয়ে মনে রাখবেন, খাওয়া সেরে উঠে যে বাজারচলতি সুইটনারে মুখশুদ্ধি করেন, সেগুলোও ওই একই দোষে দুষ্ট। অর্থাৎ আপনি খাচ্ছেন ভালো হজম হতে পারে ভেবে, আর ওতে থাকা রাসায়নিক সুগার আপনার হজমের বারোটা বাজাচ্ছে। তাই সেগুলোও পারলে বাদ দেবেন।
আপনি যদি চুইংগাম খান বারবার, স্ট্র দিয়ে কোনও তরল পান করেন বা বারবার ধূমপান করেন তাহলে আপনার অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়বে বই কমবে না। কারণ এই সবকটা ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত হাওয়া আপনার শরীরে ঢুকে পড়ে। পেটে গ্যাস বেড়ে গিয়ে হজমের সমস্যা হয়।
তবে শুধুমাত্র এই কারণগুলোতেই পেটের অস্বস্তি হয় তা নয়, এর সাথে আরও অনেক কারণই থাকতে পারে। কারও আইবিএস বা কোলন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে এগুলো। কখনও কখনও পেটের সমস্যা হওয়া একরকম, আর খুব ঘনঘন এই গ্যাস হজমের সমস্যা চলতে থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে কথা বলে আগে সমস্যার গোড়ায় পৌঁছতে হবে। দেখতে হবে তাঁর কোলনে কোনও সমস্যা আছে কি না। অন্ত্রে কোনও জটিলতা রয়েছে কি না। তিনি গ্যাসট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজিসে বা পেপটিক আলসারে আক্রান্ত কি না।