স্যালাড। শুনলেই মনে হয় একগাদা ঘাস-পাতা খেতে হবে। বেশিরভাগ মানুষের কাছেই অত্যন্ত অপছন্দের এই স্যালাড। যদিও আজকাল ডায়েটিংয়ের মোহে জেন ওয়াই থেকে মধ্যবয়স্ক, সবাই স্যালাডে মজেছেন। জিভে স্বাদ আসুক আর নাই আসুক স্যালাড খেয়ে মেদ ঝরানোই এখন মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, চিকিৎসক থেকে ডায়েটিশিয়ান সবাই বলছেন, এই গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে স্যালাড খান। শুধু শরীরই নয় এর ফলে উজ্জ্বল হবে আপনার ত্বকও। অতএব স্যালাডে মনোযোগ দেওয়াই এখন আপনার জন্য উপকারী। কিন্তু কী স্যালাড খাবেন? রোজ রোজ তো আর বিস্বাদ খাবার মুখে রুচবে না। তাই রইলো কিছু সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর স্যালাডের রেসিপি।
স্যালাড বানানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই মাথায় রাখবেন প্রধান উপকরণ যেকোনো রসালো ফল হলেই ভালো। ফ্রুট স্যালাড খেতেও সুস্বাদু। শরীর প্রোটিন এবং পুষ্টিও দেবে ভরপুর। তাই অফিস কিংবা কলেজ থেকে বাড়িতে ফিরে চটজলদি বানিয়ে ফেলুন ফ্রুট স্যালাড।
* গোল কিংবা ছোট টুকরো আকারে কেটে নিন শসা। একটি বাটিতে শসার টুকরোর সঙ্গে মেশান টক দই। উপর থেকে ছড়িয়ে দিন গোলমরিচ, বিটনুন এবং সামান্য লঙ্কা গুঁড়ো বা কাঁচা লঙ্কা কুঁচি। সঙ্গে দিতে পারেন ধনেপাতা কুঁচি এবং অল্প পরিমাণে ভাজা মশলার গুঁড়ো। এ বার ভালো করে মশলা, দই এবং সস মিশিয়ে নিলেই তৈরি স্যালাড। চাইলে দইয়ের বদলে ফ্রেশ ক্রিমও ব্যবহার করতে পারেন। মেশাতে পারেন কালো আঙুর বা সবুজ আঙুর।
* গরমকালের অন্যতম ফল তরমুজ। বাজারে মেলেও সহজে। আর একটা তরমুজ দিয়ে অন্তত দু'বার আপনি স্যালাড বানাতেই পারবেন। ছোট টুকরো কিংবা বড়ো আকারে কেটে নিন তরমুজ। বীজ ফেলার কথা কিন্তু ভুলে চলবে না। এর সঙ্গে দিন মুসাম্বি লেবু। দেখতে সুন্দর লাগার জন্য লেবুগুলো ছোট টুকরো করে কাটুন। এর পর গোলমরিচ আর বিটনুন মিশিয়ে নিন। উপর থেকে ছড়িয়ে দিন পুদিনা পাতা।
* গরমকালের স্যালাড বানানোর সময় খেয়াল রাখবেন যেকোনো রসালো ফল উপাদান হিসেবে রাখার। বিভিন্ন রসালো ফল যেমন তরমুজ, মুসাম্বি লেবু, আঙুর, পাকা পেঁপে, শশা এগুলো রাখুন আপনার খাবারের পাতে। পাকা পেঁপে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। উপর থেকে ছড়িয়ে দিন বিটনুন আর গোলমরিচ। এর সঙ্গে চাইলে দিতে পারেন আঙুর।
* গরমকালে স্যালাড খাবেন আর আম খাবেন না। তাই কখনও হয় নাকি। কাঁচা হোক বা পাকা, আম তো খেতেই হবে। যদিও পাকা আমের সঙ্গে আর কিছুই লাগে না। ভালো জাতের যেকোনও আম, সে হিমসাগর হোক বা ল্যাংড়া, কিংবা ফজলি, পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিন। লম্বা আকারে স্লাইস করে কিংবা ছোট টুকরো আকারে কাঁচের বাটিতে সাজিয়ে ফেলুন। ব্যাস, আর কিছুর দরকার নেই। জিভে জল এবং পেটে খিদে দুইই হাজির হবে।
* কাঁচা আমের ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যাপারটা আলাদা। বেশ তরিবৎ করে খেতে হয় কাঁচা-মিঠে আম। ছোট ছোট টুকরো প্রথমে কেটে নিন। তারপর বিটনুন, লঙ্কা গুঁড়ো আর কাসুন্দি দিয়ে ভালো করে মেখে নিন। শুনেই জিভে জল চলে এলো তো ! এ ছাড়া কাঁচামিঠে আম দিয়ে স্যালাড বানাতে চাইলে তার সঙ্গে জুড়িদার হিসেবে রাখুন শশা এবং আঙুর। হালকা বিটনুন মিশিয়ে দিলেই তৈরি টক-মিষ্টি স্যালাড।