
শেষ আপডেট: 4 February 2024 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিষ্টি খেতে খুব ভালবাসেন কি? রান্নাবান্নায় মুঠো মুঠো চিনি ঢালেন। প্রসেসড খাবারেও মিষ্টির (Sugar) বাড়বাড়ন্ত। শিশুরাও খাচ্ছে এই খাবার। আর চরম ক্ষতিটা হচ্ছে এখানেই। এমনিতেই বাঙালি মিষ্টিবিলাসী। পুজো-পার্বনে মিষ্টি ছাড়া চলেই না। এই অতিরিক্ত মিষ্টিপ্রেমই সর্বনাশের কারণ হয়ে উঠছে। অতিরিক্ত মিষ্টি বা শর্করাও নাকি হয়ে উঠছে ক্যানসারের কারণ।
চিনি আর ক্যানসারের মধ্যে কি সরাসরি সম্পর্ক আছে? চিনি বেশি খেলে কি ক্যানসার হতে পারে? অতিরিক্ত শর্করা কি মারণ রোগের কারণ?

বিশ্বজুড়েই এই নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। চিনি ক্যানসারের কারণ হতে পারে এমন দাবি করেছেন অনেক বিজ্ঞানীই। নানা রকম মত আছে। কেউ বলছেন, চিনি সরাসরি ক্যানসারের কারণ হতে পারে। আবার অন্য মতে, প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে চিনি মারণ রোগের কারণ হতে পারে।
দুই মতই সহজ করে বুঝিয়ে বলা যাক।
সুগারই পুষ্ট করে টিউমার কোষকে
শরীরকে সচল রাখার জন্য শর্করা, প্রোটিন ও ফ্যাট সব কিছুই প্রয়োজন, তবে নির্দিষ্ট অনুপাতে। কোনও একটি পদার্থের পরিমাণ বেড়ে গেলেই দেখা দেয় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। আর চিনি বা বাজারচলতি সুইটেনার জাতীয় জিনিস শরীরের জন্য ভীষণরকম ক্ষতিকর। অতিরিক্ত সুগার আছে এমন খাবার, জাঙ্ক ফুড, সফট ড্রিঙ্কস এইসবেই চিনির মাত্রা বেশি থাকে। তাছাড়া চা-এ, রান্নায় বেশি চিনি খান অনেকেই। দীর্ঘদিন ধরে শরীরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শর্করা ঢুকলে তা একসময় মারণ রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে, বিজ্ঞানীদের মত এমনটাই।

চিনির সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক কতটা সে ব্যাপারে বহু আগেই ডা. ওত্তো হেইনরিচ তাঁর গবেষণাপত্রে বুঝিয়ে বলেছিলেন। সে নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। বিজ্ঞানী দাবি করেছিলেন, ক্যানসার কোষ পুষ্ট হয়ে দ্রুত বিভাজনের জন্য যে শক্তি দরকার তার বেশিরভাগই আসে চিনি থেকে। ক্যানসার কোষ খুব তাড়াতাড়ি চিনি বা শর্করা শোষণ করে নিতে পারে। সুস্থ কোষের থেকে ২০০ গুণ বেশি এনার্জি চিনি থেকে পায় ক্যানসার কোষ।
বিজ্ঞানীর মতে, ক্যানসার কোষের ধর্মই হল দ্রুত বিভাজিত হওয়া। আর এই ভাবে দ্রুত গতিতে বিভাজিত হতে গেলে যে বিপাকজাত শক্তি প্রয়োজন, তা আসতে পারে শর্করার দহন থেকেই।

চিনি নানা খারাপ ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয়
জর্জিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা সম্প্রতি চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবারের চরম ক্ষতিকর দিক নিয়ে গবেষণা করছিলেন। ল্যাবোরেটরিতে ইঁদুর বা রডেন্ট জাতীয় প্রাণীদের অতিরিক্ত চিনি খাইয়ে তার ফলাফল পর্যবেক্ষণ করছিলেন। চিনি থেকে কী এমন পরিবর্তন হয় শরীরে যা মস্তিষ্কের রোগেরও কারণ হতে পারে, সেটাই ছিল গবেষণার মুখ্য বিষয়। আর তাতেই আশ্চর্য রকম ঘটনা দেখেছেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরে এবং মস্তিষ্ক বা ব্রেনে দু’রকমের প্রভাব ফেলছে চিনি বা অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার। প্রথমত, মস্তিষ্কে এক বিশেষ রকমের প্রোটিনের কার্যকারিতা বন্ধ করে দিচ্ছে। এই প্রোটিন ব্রেনে ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ রুখতে সাহায্য করে, পাশাপাশি স্মৃতিনাশের ঝুঁকি কমায়। এই প্রোটিনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে চিনি উল্টে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। নানারকম নিউরোলজিক্যাল ডিজিজ বা স্নায়বিক রোগের সম্ভাবনা বাড়ছে। গবেষকরা বলছেন, রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়লে প্রোটিন গ্লাইকেশন বাধা পায়। মস্তিষ্কে কিছু অ্যাবনরমাল প্রোটিন তৈরি হয় তা অ্যালঝাইমার্সের কারণ।

দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত চিনি অন্ত্রে কিছু খারাপ ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি মস্তিষ্কের প্রদাহ বা রোগের কারণ হতে পারে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মানুষের অন্ত্রে কিছু ভাল ব্যাকটেরিয়া থাকে, পাশাপাশি খারাপ ব্যাকটেরিয়াও থাকে। ভাল ব্যাকটেরিয়াদের কাজ হল বিপাকে সাহায্য করা। আর জাঙ্ক ফুড, তেলমশলাদার খাবার, প্যাকেটজাত খাবার বেশি খেলে অন্ত্রে খারাপ ব্যাকটেরিয়াদের জন্ম হয়। এই ব্যাকটেরিয়ারা মোটেই উপকারি নয়, বরং খাদ্যনালীর সংক্রমণের জন্য দায়ী। চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার বেশি খেলে অন্ত্রে প্যারাব্যাকটেরয়েডের জন্ম হয়। এরা সংখ্যায় বাড়ে। এই প্যারাব্যাকটেরয়েডরা চিনি হজম করতে পারে না। কিন্তু রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়লে এদের বাড়বাড়ন্ত হয়। সেখান থেকেই নানা জটিল অসুখ বাসা বাঁধে শরীরে, যা পরবর্তী সময়ে নানারকম ক্যানসারের কারণ হয়ে উঠতে পারে।