
শেষ আপডেট: 5 June 2023 14:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: (ESA Mars Express Orbiter)সূর্য থেকে আলো পৃথিবীতে আসে ৮ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে। আর মঙ্গলগ্রহ থেকে একেবারে 'লাইভ ফুটেজ' পৃথিবীতে চলে এল মাত্র ১৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে।
২০০৩ সালের জুন মাসে কাজাখস্তানের 'বৈকানুর মহাকাশ-কেন্দ্র' থেকে রুশ সয়ুজ রকেটে চড়ে মঙ্গলগ্রহের দিকে রওনা দিয়েছিল সাড়ে ছয়শো কিলো ওজনের মহাকাশযান 'মার্স এক্সপ্রেস'। বানিয়েছিল ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি বা 'ইএসএ'। সেই বছরেরই ডিসেম্বর মাসে সে গিয়ে পৌঁছয় মঙ্গলের কক্ষপথে। তার দুটো ভাগ ছিল। একটা মূল অংশ, সেটা মঙ্গলের চারপাশে ঘুরপাক খাবে। আরেকটা, 'বিগল ২' ল্যান্ডার, ইএসএ-র পরিকল্পনা ছিল, সেটাকে নামিয়ে আনা হবে মঙ্গলের মাটিতে।
সেই 'বিগল-২' ল্যান্ডার নেমেছিল বটে। কিন্তু কোথায় নেমেছিল, তার খোঁজ মেলেনি। নামতে গিয়েই তার সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু মঙ্গলের চারপাশে পাঁইপাঁই ঘুরতে থাকা সেই 'অরবিটার' অংশটি সফলভাবে কাজ করা শুরু করে।

আজ, ২০২৩ সালে, ২০ বছর পার করেও সেই 'মার্স এক্সপ্রেস' একইভাবে ঘুরে চলেছে মঙ্গলের আকাশে। কেটে গিয়েছে ২০ বছর, বহু যন্ত্রপাতি বেগড়বাই করেছে। কিন্তু অক্ষত থেকেছে 'মার্স এক্সপ্রেস'। এবার সেই মহাকাশযান থেকেই মঙ্গলের প্রায় 'লাইভ' স্ট্রিমিং ছবি দেখাল ইউরোপীয় স্পেস সংস্থা। অভিযানের অন্যতম ইঞ্জিনিয়ার সাইমন উড সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, 'এই মুহূর্তে মার্স এক্সপ্রেসে যদি কেউ বসে থাকেন, তিনি জানালা দিয়ে এই দৃশ্যই দেখতেন। সাধারণত এরকমভাবে আমরা ছবি দেখাতে পারি না।'
ইএসএ-র টুইট করা ভিডিওতে দেখা যায়, মহাকাশযান থেকে দেখা যাচ্ছে সুবিশাল লাল গ্রহ। ক্রমশ তা আয়তনে বাড়ছে, পরে আবার কমছে, কারণ মহাকাশযানের কক্ষপথের বিস্তার। লালচে হলুদ আভার ওপর দেখা যাচ্ছে জমাট সাদা মেঘ। সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে ইএসএ বিজ্ঞানী জেমস গডফ্রে বলেন, 'আমরা মঙ্গল থেকে যা ছবি পাই, সেগুলো সাধারণত অনেকদিন আগে তোলা হয়ে থাকে। কিন্তু এই যে এটা দেখছি, এটা মঙ্গলগ্রহ, একেবারে এখন। মোটামুটি 'মার্শিয়ান' বা মঙ্গলবাসী হবার সবচেয়ে কাছাকাছি উপায় আপাতত এটাই।'
মঙ্গল থেকে পৃথিবী রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি কিলোমিটার দূরে। প্রায় রেকর্ড সময়ে এতটা দূরত্ব পেরিয়ে ছবি এসে পৌঁছেছে পৃথিবীতে। এত অল্প সময়ের মধ্যে ছবির তথ্যকে 'রিসিভ' করেছে ইউরোপীয় স্পেস সংস্থার একাধিক শক্তিশালী অ্যান্টেনা। তার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত 'ডিপ স্পেস রিলে অ্যান্টেনা'-টি রয়েছে স্পেনে। সেখানে এখন আবহাওয়া খারাপ, চলছে ঝড়বৃষ্টি। ফলে 'ফিড' কিঞ্চিৎ হোঁচট খেয়েছে। কিন্তু তারপরেও যা এসেছে, তা কার্যত নীল আর্মস্ট্রং-এর চাঁদ থেকে পাঠানো সেই 'লাইভ' চন্দ্রাবতরণ দৃশ্যের মতই বৈপ্লবিক। আর্মস্ট্রং-এর ভাষায়, 'আ জায়ান্ট লিপ ফর হিউম্যানিটি'।
খনিজ তেলের চেয়েও আগে শেষ হয়ে যেতে পারে খাবার জল, সতর্ক করলেন আইআইটির বাঙালি বিজ্ঞানী