
শেষ আপডেট: 31 March 2024 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হলেও অফিসকাছারি-রান্না-খাওয়া কিছুই তো বাদ দেওয়া যায় না। কাজের প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যাওয়া তাই বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। অন্য দিকে শিশু ও বয়স্করা বাড়িতে থেকেও গরমে কষ্ট পাচ্ছেন। গুমোট গরমে প্যাচপ্যাচে ঘাম অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। কারও খাবার হজম হতে অসুবিধা হচ্ছে, কেউ আবার মাথা ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন। ঘন ঘন এসি চালিয়ে বিপত্তি বাঁধাচ্ছেন অনেকে। এই সময় শরীর ভাল রাখতে কিছু বাড়তি যত্ন নেওয়া দরকার।
তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে বলে আগেভাগেই সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা। কিন্তু রাস্তায় তো বেরোতেই হবে। বেলা বাড়লেই গনগনে রোদের তাপে লু বইছে। এই জ্বালাপোড়া তাপ সরাসরি ধাক্কা দেয় লিভার-পাকস্থলীকে। শরীরের পেশি, হার্টেও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। ফলে মাথা ঘোরা, গা গোলানো, বমি ভাব এমনকী শ্বাসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এই সময় কীভাবে শরীর সুস্থ রাখবেন তার টিপস দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সুবর্ণ গোস্বামী।
ডাক্তারবাবু বলছেন, প্রচণ্ড রোদে বা গরমে বেশিক্ষণ থাকলে ডিহাইড্রেশন হয়ে যায়। পেট খারাপ, বমি হতে থাকে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পার করে গেলে সমস্যা আরও বাড়ে। বাইরের তাপমাত্রা শরীর সইতে না পারলে হজমের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ঘন ঘন হজমের সমস্যা হয়। এর মধ্য়ে বাইরের খাবার বা জাঙ্ক ফুড বেশি খেলে তা থেকে ডায়রিয়া হয়ে যেতে পারে। এমনও দেখা গেছে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে টাইফয়েড হয়েছে রোগীর।
রোদে বেশি হাঁটাহাঁটি বা দৌড়োদৌড়ি করলে শরীরের জল শুকিয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে একটানা কাজ করলেও এমনটা হয়। শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। বাইরের তাপ আর শরীরের ভেতরের তাপের মধ্যে ভারসাম্য থাকে না। যার কারণেই শরীর আনচান করতে থাকে, নানা রকম অস্বস্তি শুরু হয়। তাই শরীর ঠান্ডা রাখা দরকার। প্রাকৃতিকভাবেই সেটা করা যায়।
কী কী খাবেন
সহজপাচ্য খাবার। বাড়িতে রান্না করা খাবারই খান। পাতে রাখুন শালি ধানের চাল, মধু, পটল, কুমড়ো, সজনে, মুগ। প্রথম পাতে একটু ঘি খেতে পারেন।
ডাবের জল খান পরিমাণ বুঝে।
সবুজ সব্জি, শাক ও মরশুমি ফল খান।
রোদ থেকে ফিরে কিছুক্ষণ বসে শরীরের তাপমাত্রা একটু মানিয়ে নেওয়ার সময় নিন। তার পরে লেবু আর বিটনুনের শরবত খেতে পারেন। রোদ থেকে ফিরে প্রাণ জুড়োবে।
দইয়ের ঘোল বাড়িতেই বানিয়ে নিন। জলখাবারে দই-চিঁড়ে, বেরি দিয়ে ইয়োগার্ট, বা দই দিয়ে ফলের স্মুদি খেতে পারেন। দুপুরে খাওয়ার পরে শেষ পাতে বাড়িতে পাতা টক দই খান। আবার দই ভাতও চলতে পারে। শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে দই।
অতিরিক্ত ঝাল, নুন ও টক জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
অতিরিক্ত তাপের কারণে হিট স্ট্রোক, ক্লান্তিবোধ, ঘন ঘন তেষ্টায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায় এই সময়। প্রচুর পরিমাণে জল খান। কোল্ড ড্রিঙ্কস, রাস্তার শরবত এড়িয়ে চলুন। বাড়িতেই বানিয়ে নিন মুসাম্বি, তরমুজ, আঙুর বা বীটরুটের জুশ।
মাথা ঠান্ডা রাখতে:
ভৃঙ্গরাজসমৃদ্ধ তেল চুলের সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি মাথা ঠান্ডা রাখতেও কাজে আসে।
বারে বারে তেষ্টা পেলে
ডাবের জল শরীরে এই জলের ঘাটতি পূরণ করে। ডিহাইড্রেশন হতে দেয় না।
এই গরমে খেতে পারেন তরমুজের শরবত। তরমুজের শাঁস মিক্সিতে বেটে তার সঙ্গে জল আর মধু মেশান। অল্প বরফ ফেলে খেয়ে নিন।
শশার শরবতও উপকারি। শশা মিক্সিতে বেটে নিয়ে তাতে একটু বিটনুন ছড়িয়ে খেয়ে নিন। ওজন কমাতেও উপকারি, শরীর ভাল রাখবে।
চা ও কফি এমনিতেই শরীরের ডিহাইড্রেশন তৈরি করে। প্রচণ্ড গরমে সেই ডিহাইড্রেশনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। দিনে দু'বারের বেশি চা অথবা কফি খাওয়া উচিত নয়। গরম কোনও পানীয় খেতে ইচ্ছা হলে আদা, লবঙ্গ, তুলসী, দারচিনি, প্রভৃতি ফুটিয়ে চা অথবা গরম হলদি দুধ খেতে পারেন। এতে কোনও রকম ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে না শরীরে ও জলের জোগান হবে।
ত্বকের যত্নে
চন্দন, কুমকুম ব্যবহার করতে পারেন। শশার রস ত্বক ঠান্ডা রাখে, ব্রণ-ফুসকুড়ি বা ঘামাচি হয় না।