
শেষ আপডেট: 17 March 2019 09:03
গরম বাড়ছে, বাড়ছে তেষ্টাও। আর আপনি ভাবছেন শরীরটা কী করে ঠাণ্ডা রাখবেন। তাই পাতে সাজানো ঝাল ঝাল তরকারি বা অফিসের বাইরের পাপড়ি চাট বা ফুচকা থেকেও নিজেকে সামলে রাখছেন। ফোন খুলে অ্যাপে খাবার অর্ডার করাও বন্ধ করে দিয়েছেন। ভরসা রাখছেন শশা, পেঁপে বা তরমুজে। সত্যিই শরীর এবং মন তরতাজা রাখতে এদের মতো সাহায্য করে না আর কেউ। এখানেও আছে একটা কিন্তু। আপনি যদি এই শশা পেঁপে তরমুজের পরে ঢকঢক করে জল খেয়ে নেন, তাহলে এই খাদ্যগুণ আপনার শরীরে কাজে তো এলই না, উল্টে কিছু শারীরিক সমস্যাও ডেকে আনতে পারে।
আপনি শশা খান, তাতে তেষ্টা তো মেটেই সঙ্গে পেটও ভরা থাকে অনেকক্ষণ। এতে মিনারেল, ভিটামিন, ইলেকট্রোলাইট থাকে যা আপনার শরীরের জন্যও উপকারী। কিন্তু শশার পরেই জল খেলেই বিপদ। হজমের সমস্যা হতে পারে আপনার। এমনিও বলা হয়, ফল আর জল একসঙ্গে খেতে নেই। এটা আদৌ মিথ না, সত্যিই ক্ষতি করে! মাইক্রোবায়োটিক প্র্যাকটিশনার শিল্পা আরোরা জানাচ্ছেন শশায় ভিটামিন কে, সি, কপার, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং খুব বেশি পরিমাণে সিলিকা থাকে। সিলিকা আপনার চুল এবং স্কিনের জন্য খুবই উপকারী। আর বাকি জিনিসগুলোও আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখে। তাই শশার নিজের যে ৯৫ শতাংশ জল থাকে তার সঙ্গে আলাদা করে আর জলের প্রয়োজনীয়তা নেই। বরং জল খেলে এই গুণগুলো আর থাকবে না, বরং হতে পারে বায়ুজনিত সমস্যা।
তরমুজের ওজনের প্রায় শতকরা ৯৩ ভাগই জল। তরমুজ শরীরের জলশূন্যতা দূর করে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তরমুজে রয়েছে ৯২ থেকে ৯৫ গ্রাম জল, আঁশ ০.২ গ্রাম, ক্যালোরি ১৫ থেকে ১৬ মিলিগ্রাম। এ ছাড়াও তরমুজে ক্যালসিয়াম রয়েছে ১০ মিলিগ্রাম,আয়রন ৭.৯ মিলিগ্রাম, কার্বহাইড্রেট ৩.৫ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.২ গ্রাম, ফসফরাস ১২ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ০.২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ও ভিটামিন বি২। তরমুজে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তরমুজ খেলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত অসুস্থতা কমে যায়। এ ছাড়াও নিয়মিত তরমুজ খেলে প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। অতএব গরমে সুযোগ পেলেই তরমুজ খাওয়ার চেষ্টা করবেন। তরমুজে যেহেতু এমনিতেই প্রচুর জল, তাই এরপরে আবার জল খেলে শরীরে জলের পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে যায়। ইউরিক অ্যাসিড, হজম সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিক থাকলে জলের এই বাড়বাড়ন্ত শরীরের বেশি ক্ষতি করে।
[caption id="attachment_87586" align="aligncenter" width="1280"]
Person pouring water into a glass from a jug.[/caption]
পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণ মিনারেল, অ্যানটিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। শুধু তাই নয়, পেঁপেকে ভিটামিনের স্টোর বলা হয়।অন্যান্য ফলের তুলনায় পেঁপেতে ক্যারোটিন অনেক বেশি থাকে। আর জল বেশি থাকায় ক্যালরির পরিমাণ বেশ কম থাকে, যারা মোটাসোটা তাঁরা পেঁপে দিয়েই ডায়েট প্ল্যানও করে ফেলছেন হয়তো। কারণ শুধু ওজন কমানো নয়, এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও সি আছে। আছে পটাশিয়াম। তাই এই ফল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তাই হাইপারটেনশন কমায় অনেকখানি। শরীরে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে দেয় পেঁপে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চেহারার লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। ‘১০০ গ্রাম পেঁপেতে চিনি বা শর্করা থাকে ৭.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩২ কিলোক্যালরি, ভিটামিন সি ৫৭ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৬.০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম, খনিজ ০.৫ মিলিগ্রাম এবং ফ্যাট মাত্র ০.১ গ্রাম। কিন্তু পেঁপে খাওয়ার পরেই যদি জল খান তাহলে বিপদে পড়বেন আপনি। হতে পারে অ্যাসিডিটি, হতে পারে হজমের সমস্যাও।
এই বিষয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশনের পুষ্টিবিজ্ঞানী দৃপ্তা রায়চৌধুরি বলছেন, শশাতে এমনিতেই সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড, জলীয় অংশ যথাযথ অনুপাতেই থাকে, যেটা আমাদের শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া তরমুজ বা পেঁপের বাকি যেসব পুষ্টিগুণ আছে তা সবই গরমের জন্য খুব ভালো। গরমে প্রচুর ঘাম হয় সকলেরই, ঘামের সাথে জল এবং খনিজ লবণ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। সে কারণে শুধু জল খাওয়ার বদলে আপনি শশা পেঁপে তরমুজ খান। এই তিনটি ফলই নিজেদের গুণে আমাদের শরীরে প্রযোজনীয় খনিজ থেকে ভিটামিন এবং সঠিক পরিমাণে জল দিচ্ছে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে যেই জল খাবেন, পুষ্টিগুণগুলো অনেকটাই জলে যাবে।