
শেষ আপডেট: 18 November 2023 17:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমন অনেকেই আছেন, শেষপাতে একটু মিষ্টিমুখ না করলে যাঁদের মোটেই তৃপ্তি হয় না। কিন্তু ইদানীং মিষ্টি খাওয়ার আগে হাজারো চিন্তা মাথায় ঘোরে, তাই না? কিন্তু তাও মিষ্টি থেকে মন সরে না কিছুতেই। রসে ভরা মিষ্টি হোক বা সন্দেশ, দেখলেই টপাটপ খেয়ে নিতে মন চায়। সারাক্ষণই মনটা যেন মিষ্টি মিষ্টি করে। তা-ও যদি কেউ মনের জোরে মিষ্টি-চকোলেট-আইসক্রিম ছেড়েও দেন, তা হলেও চায়ে চিনি দেওয়া বা সকাল-বিকেল নানা রকমারি কেক-বিস্কুট খেয়ে ফেলা বন্ধ একেবারে বন্ধ করে দেওয়া বেশ কঠিন। ছেড়ে দিলেও হঠাৎ হঠাৎই মিষ্টির জন্য মন ছটফট করতে শুরু করে। এই যে মনের এত মিষ্টি-প্রেম একেই বলে সুগার ক্রেভিং।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তা-ও যদি কেউ মনের জোরে মিষ্টি-চকোলেট-আইসক্রিম ছেড়েও দেন, তা হলেও চায়ে চিনি দেওয়া বা সকাল-বিকেল নানা রকমারি কেক-বিস্কুট খেয়ে ফেলা বন্ধ একেবারে বন্ধ করে দেওয়া বেশ কঠিন। ছেড়ে দিলেও হঠাৎ হঠাৎই মিষ্টির জন্য মন ছটফট করতে শুরু করে। চিনি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলেই দ্রুত ওজন বাড়ে। তরকারিতে সামান্য চিনি, চায়ে চিনি, ঘুরতে ফিরতে একটুকরো চকোলেট- এই করেই মাত্রাতিরিক্ত চিনি খাওয়া হয়ে যায়। চিনি খেলে ওবেসিটি আসবেই। সঙ্গে পিছু পিছু আসে কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, পিসিওডির মতো সমস্যা।
কেন মিষ্টি দেখলেই খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে?
পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরে বিশেষ কিছু পরিবর্তন এলে আমাদের মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। জেনে নিন সেগুলি কী কী।
১) আমাদের রোজের ডায়েটে প্রোটিন, কার্বহাইড্রেট ও ফ্যাটের ভারসাম্য বজায় রাখা ভীষণ জরুরি। বেশি মাত্রায় কার্বহাইড্রেট শরীরে প্রবেশ করলে ইনসুলিনের ক্ষরণ বাড়ে। এর ফলে আরও কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার ইচ্ছা হয়। আর যত ক্ষণ না পর্যন্ত মিষ্টি খাচ্ছেন স্বস্তি হবে না।
২) পর্যাপ্ত না ঘুমোলেই সুগার ক্রেভিং বাড়ে। তখন শরীরে লেপটিন হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যায় ফলে বেশি ভাজাভুজি, মিষ্টি খাওয়ার ঝোঁক বাড়ে।
৩) মানসিক উদ্বেগ ও চাপ বেড়ে গেলে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায় যা ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট করে। তখন মিষ্টি খেতে মন চায়।
মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা কমাবেন কী করে?
১) যখন মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে করবে তখন এক গ্লাস জল খেয়ে নিতে পারেন। পরিমাণের বেশি মিষ্টি খেলে অনেক সময়ে শরীরে জলের পরিমাণ কমে যায়, সুস্থ থাকতে তাই প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস জল খেতেই হবে।
২) সবুজ সবজি খান বেশি করে। এতে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঢুকবে এবং খনিজ-ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হবে। ফলে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছেও কমবে অনেকটাই।
৩) মাল্টিভিটামিন খেলে শরীরে জরুরি পুষ্টিগুণের ঘাটতি হবে না। তা হলে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতাও কমে যাবে।
৪) প্রোটিন বেশি করে খান। মাছ, মাংস বা ডিম খেলে অনেক ক্ষণ পেট ভরা থাকে। খিদেও কম পায়। খিদের মুখে ডিম সেদ্ধ খেতে পারেন। তা হলে মিষ্টি জিনিস খাওয়ার প্রবণতা দূর হয়।
৫) ফল খান মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হলে। স্ট্রবেরি, কমলালেবু, আঙুর বা মোসাম্বির মতো মিষ্টি ফল খেলে আর চিনি খেতে ইচ্ছে করবে না।