দ্য ওয়াল ব্যুরো: জন্ম থেকেই হার্টের সমস্যায় ভুগছিল শিশুটি। এমনই সে সমস্যা, বাঁচার আশা প্রায় ছিলই না। কয়েক মাসের সেই একরত্তিকে প্রায় নবজন্ম দিলেন চিকিৎসকেরা। আর এই ঘটনায় অপূর্ব এক সম্পর্কে মিলে গেল সুদূর আফ্রিকা ও ভারত। কারণ ইমানুয়েল লীলা কামাঙ্ক নামে ওই শিশুটির জন্মস্থান কেনিয়া। আর যেখানে তাঁর প্রাণ ফিরল, সে জায়গাটি হল নয়াদিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতাল।
ইমানুয়েলের পারিবারিক সূত্রের খবর, মাত্র চার দিন বয়সেই তার হার্টের মারাত্মক সমস্যা ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, চিকিৎসার পরিভাষায় তার এই জটিলতার নাম ‘তুসিং বিন অ্যানোমালি'। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে হৃদপিণ্ডের বাঁ দিক থেকে যে শিরার জন্ম হওয়ার কথা, তা ডান দিক থেকে হয়ে যায়। ফলে হার্টের পাম্পিং প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে না।
এই সমস্যার কথা জানতে পারার পরেই দিশাহারা হয়ে যান ইমানুয়েলের মা-বাবা। কিন্তু খুব দ্রুততার সঙ্গেই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, ভারতে এনে সন্তানের চিকিৎসা করাবেন তাঁরা। কেনিয়ার শিশু চিকিৎসকেরাও তাঁদের সেই পরামর্শই দেন। ফলে আর দেরি করেননি তাঁরা। জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা-ভিসার জন্য আবেদন করেন। পেয়েও যান।
দিল্লির চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কেনিয়ার ওই শিশুটিকে যখন দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন তার অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে গিয়েছিল ইতিমধ্যেই। তার গোটা গায়ে এক ধরনের লালচে ক্ষত তৈরি হয়েছিল। এটা সাধারণত রক্তে অক্সিজেন ঠিকমতো না পৌঁছনোর জন্যই হয়। এই অবস্থায় শিশুটির হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যাওয়ায় তাকে দ্রুত ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। যদিও তার পরেও হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায় তার।
"খুব আশঙ্কাজনক ছিল পরিস্থিতি। আমরা হার্ট অ্যাটাক আটকাতে পারলাম না। তবু রক্ষা যে ভেন্টিলেটরে রাখা গিয়েছিল। নইলে কী হতো, বলা যায় না। ওর পৌঁছতে আর কয়েক মিনিট দেরি হলেই সিরিয়াস কিছু হয়ে যেতে পারত।"-- বলেন এক চিকিৎসক।
ইমানুয়েলের পালমোনারি আর্টারির গঠনগত ত্রুটির জন্যই তার রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। অ্যাপোলোর শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ মুথু জোশী বলেন, ‘‘শিশুটিকে যখন আনা হয়েছিল তখন ওর এমন অবস্থা ছিল, যে অস্ত্রোপচার করা হলেও সাফল্যের কোনও নিশ্চয়তা ছিল না। আমরা ওর মা-বাবাকে জানাই, সাফল্য ও ব্যর্থতার সম্ভাবনা ৫০-৫০। বাঁচার নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। ওঁরা রাজি হন, তার পরেই আমরা অস্ত্রোপচারে এগোই।''
ন'ঘন্টা ধরে শিশুটির সার্জারি হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু সার্জারির পরেও সে বিপন্মুক্ত ছিল না। সেই কারণে সার্জারির পরে তাকে এক সপ্তাহ ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল। এর পরে সে সুস্থ হয়। তাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতিও দেন চিকিৎসকেরা।
ইমানুয়েলের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, এখন সে কেনিয়ায় পৌঁছে গিয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ আছে। ভারতের চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভোলেননি তাঁরা। বলেছেন, "আমাদের সন্তান কার্যত মারা গিয়েছিল। নতুন জন্ম দিলেন ওঁরাই। ভাগ্যিস দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতে এনেছিলাম ওকে। নইলে কী হতো, ভাবতেও পারছি না।"