শেষ আপডেট: 5 October 2020 13:59
এই মৃত্যুর খবরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ফ্যাশন জগতে। যারা কোন প্ল্যানিং ছাড়াই কিটো ডায়েটের কথা ভাবছিলেন বা বর্তমানে এই বিশেষ ডায়েট ফলো করছিলেন, তারা কিছুটা হলেও ভয় পাচ্ছেন এই মুহূর্তে।
ভাবছেন নিশ্চয়ই, এই 'কিটো ডায়েট' আসলে কী?
এই ডায়েট মূলত ডায়াবেটিস আর ওজন কমাতে সাহায্য করে। ইন্টারনেটে যদিও এই ডায়েটকে নানাভাবে প্রমোট করা হয় আজকাল। আমাদের শরীর সাধারণত কার্বোহাইড্রেট থেকে শক্তি সংগ্রহ করে। কিন্তু কিটো ডায়েটের সময় শরীর ফ্যাট জাতীয় খাবার থেকে এনার্জি পেতে চেষ্টা করে। কারণ এই সময় আমরা ফ্যাট ও প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি করে খাই আর কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বর্জন করার চেষ্টা করি। বহুক্ষণ না খেয়ে থাকলে আমাদের শরীরে কিটোজেনেসিস হয়। এই কিটো ডায়েটের মাধ্যমে আমরা কৃত্রিম উপায়েই কিটোজেনেসিস করে থাকি। এর ফলে শরীর তার সঞ্চিত চর্বি ভেঙে শক্তি উৎপাদন করে আর তার ফলে ওজন কমে যায়।
ডাক্তারদের কথা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ধরণের কিছু রোগীকেই ডায়েট সাজেস্ট করা হয়। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ডায়েট কখনই করা উচিত নয়। সাধারণত এপিলেপসি আছে যাদের তাদেরকে কিছুদিনের জন্য এই ডায়েটে রেখে, তারপর আবার নর্মাল ডায়েটে ফিরিয়ে আনা হয়। এই বিশেষ ডায়েট যেকোনও সাধারণ মানুষের জন্য নয় বলেই চিকিৎসকরা জানান। হাই ফ্যাট, হাই প্রোটিন, লো কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই ডায়েটের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনির অসুখ, যকৃতের সমস্যা দেখা দিতে পারে।এছাড়াও আরও অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে এই ডায়েটের।
শরীরে কার্বোহাইড্রেটের অভাব হলে আমাদের হাত পা কাঁপে, দুর্বল লাগে, বুক ধড়পড় করে, কাজে মন বসে না,
শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা হ্রাস পায়। এছাড়াও শরীরে আরও নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই কারণেই ডাক্তারবাবুরা কিটো ডায়েট করতে নিষেধ করেন। দ্রুত ওজন কমানোর প্রয়োজন হলে অল্প কিছুদিন এই ডায়েট ফলো করে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শও দেন তারা।
দিনের শেষে নিজেদের শরীর সুস্থ রাখাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ডাক্তারদের মতে, সঠিক খাবার, প্রচুর পরিমাণে ফল, শাকসবজি, জল আর প্রতিদিন এক্সারসাইজের মাধ্যমে ঘাম ঝরাতে পারলেই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারব আমরা।