
শেষ আপডেট: 19 July 2023 06:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাচ্চাদের মধ্যে টিভি, মোবাইল বা ভিডিও গেমের প্রতি এই যে আসক্তি তৈরি হচ্ছে, তার জন্য অনেকাংশেই দায়ী ভুল পেরেন্টিং (Smartphone Addiction)। বর্তমান ডিজিটাল প্রযুক্তির বাড়বাড়ন্তে কোনও কিছুই আর গোপন থাকছে না। শরীরী খেলার খ্যাপামিতে মেতে সেক্সটিং-এর (Sexting) গোপন উঠোন এখন নেট দুনিয়ায় দাঁত বার করে হাসছে। বাড়ছে শিশু পর্নোগ্রাফি, পারভার্সন, অপরাধমূলক কাজের প্রবণতা। অজান্তে ইনটারনেটের হাতছানিতে আপনার সন্তানও অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে না তো, অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল জিনিস দেখে খারাপ কিছু শিখছে না তো?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিভি, মোবাইল গেম বা যে কোনও ধরনের ভার্চুয়াল এন্টারটেনমেন্ট দেখার সময়ে আমাদের মস্তিষ্কের কোষ থেকে ক্ষরণ হয় এক ধরণের নিউরোট্রান্সমিটার, যার নাম ডোপামিন। এই ডোপামিনের ক্ষরণ আমাদের মনে এক ভাল লাগার অনুভূতি সঞ্চার করে। তার ফলে অতি সহজেই আমরা এই ধরনের এন্টারটেনমেন্ট মিডিয়াম গুলোতে আসক্ত হয়ে পড়ি। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা উচিত যতটা কম ডোপামিনের ক্ষরণ হয় (Smartphone Addiction)।

কোভিড এবং তার পরবর্তী সময়ে অনলাইন দুনিয়ায় আসক্তি (Smartphone Addiction) অনেকটাই বেড়েছে। এখন আর বাচ্চারা বেশি রাস্তায় বেরিয়ে খেলাধূলা করে না। সারাক্ষণ হাতে মোবাইল নিয়ে নেট দুনিয়ায় মজে থাকে। দেখা যায়, বাবা-মায়েরাও বাচ্চাদের শান্ত রাখার জন্য হাতে মোবাইল বা ট্যাব ধরিয়ে দিচ্ছেন। এ কথা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই যে আমাদের জীবনে অপরিহার্য জিনিসের তালিকায় ক্রমশ ঢুকে পড়ছে ইন্টারনেট। তা কাজের তো বটেই, বিনোদন আর অবসরযাপনের মাধ্যমও। আর সেখানেই হচ্ছে গলদটা। বড়রাই কত ফাঁদে পা দিয়ে ফেলছেন – ছোটোদের ভুল হওয়ার আশঙ্কা আরও বেশি। ফেক অ্যাকাউন্ট, সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স, মহিলাদের প্রতি ঘৃণ্য মনোভাব, কাউকে অপছন্দ হলে তাকে বিপদে ফেলার চেষ্টা – একসঙ্গে অনেকগুলো বিষয় কাজ করে। ইন্টারনেটে বুঁদ হয়ে আপনার সন্তান এইসব শিখে নিচ্ছে কিনা তার খোঁজ রাখছেন তো?
প্রোডাকটিভিটি বাড়াতে নজর দিন আপনার কাজের জায়গার দিকে, টিপস দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল ফোনকেও সেভাবে মা বাবারা যদি চিহ্নিত করেন তাহলে বাচ্চারা অবশ্যই বুঝবে ব্যাপারটা (Smartphone Addiction)। বাচ্চা একটু বড় হয়ে গেলে তাদের বোঝানো উচিত টিভি বা মোবাইলের আসক্তির খারাপ ফলগুলো। বাচ্চাকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে দেবেন না। অভিভাবক হিসেবে এটা আপনার প্রথম দায়বদ্ধতা। নিরাপত্তাহীনতা থেকেই জন্ম নেয় অবিশ্বাস। আর ছোটো থেকেই মনে অবিশ্বাস বাসা বাঁধলে পরের দিকে কোনও সম্পর্কই টিকবে না। বাচ্চা একাকীত্বে ভুগে ভুল দিকে পা বাড়াচ্ছে কিনা তার খেয়াল রাখতে হবে বাবা-মাকেই। বাচ্চার সঙ্গে খুব ছোটো থেকে ‘সিকিওরড অ্যাটাচমেন্ট’ গড়ে তুলতে হবে মা-বাবাকে।

বাচ্চার জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্টিভিটির প্ল্যান করুন। আজকাল বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটি সেন্টার রয়েছে যারা নাচ, গান, গল্প বলা, মিউজিকাল ইন্স্ট্রুমেন্ট শেখায়। বিকেলবেলাটা বাচ্চাকে সে সবের মধ্যে থাকতে শেখান। তাতে সমবয়সি বাচ্চাদের সাথে সময়ও কাটাতে পারবে, ওদের একাকীত্বও ঘুচবে।
নেট আর ফোন (Smartphone Addiction) ছাড়া আমাদের কারওই চলবে না, একেবারে ঠিক কথা। কিন্তু সেটা যেন আপনাকে পরিবারের মধ্যেই আলাদা একটা দ্বীপের বাসিন্দা না করে দেয়, সেটা দেখতে হবে। কাজের সময়টা আলাদা, তা বাদে ভার্চুয়াল সম্পর্ক বেশি সিরিয়াসলি নেওয়ার দরকার নেই। আপনার ব্যক্তিগত জীবনে ভার্চুয়াল পৃথিবীর প্রভাব খুব বেশি হলে বাচ্চার জীবনেও সেটাই ছাপ ফেলবে। তাই মা-বাবাকে আগে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আসক্তি কমাতে হবে। সে থেকেই ছোটরা শিখবে।