
স্তন ক্যানসার নিয়ে টাটা স্টিলের সঙ্গে অভিনব উদ্যোগে সামিল সঞ্জীব কাপুর।
শেষ আপডেট: 13 July 2024 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যিনি রাঁধেন, তিনি চুলও বাঁধেন। কিন্তু রান্না থেকে একেবারে স্তন ক্যানসার?
অভিনব এক উদ্যোগে বিখ্যাত শেফ সঞ্জীব কাপুরকে সামনে রেখে স্তন ক্যানসারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিল টাটা স্টিল। দেশের অন্যতম শীর্ষ এই বাণিজ্যিক সংস্থা সম্প্রতি ইউটিউবে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। দেখা যাচ্ছে, চার মহিলার সঙ্গে রান্নাঘরে হাজির সঞ্জীব কাপুর। শিখতে চান কোনও রেসিপি। বলছেন, 'শেখার তো কোনও বয়স হয় না। এমনিতে তো আমি আপনাদের খাবার বানানো শেখাই। আজ আমি আপনাদের থেকে শিখব। আপনাদের মনপসন্দ কোনও রেসিপি।'
সঞ্জীব কাপুরকে রান্না শেখানো? এ তো আইজ্যাক নিউটনকে বীজগণিত শেখানো হয়ে গেল! মহিলারা একটু থতোমতো। সঞ্জীব কাপুরকে আবার তাঁরা কী শেখাবেন? কিন্তু তারপর সকলেই নিজের নিজের পছন্দের খাবারের নাম বললেন। কেউ বানাতে চান 'আটার হালুয়া', কেউ বানাতে চান 'হোয়াইট সস পাস্তা'। কেউ আবার 'স্ট্রবেরি কাস্টার্ড'-এর নাম করলেন। তথাস্তু। বানাতে শুরু করলেন সঞ্জীব। কিন্তু তারপর দেখা গেল, একটু একটু করে গাঁঠ দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ, শক্ত হয়ে জমাট বেঁধে যাচ্ছে।
ইংরেজি 'লাম্প' শব্দটারই হিন্দি প্রতিশব্দ গাঁঠ। এই শব্দ দিয়েই সুচারুভাবে স্তন ক্যানসারের প্রসঙ্গ আনতে চেয়েছেন নির্মাতারা। মোটের ওপর স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ হল স্তনের ওপর লাম্প। চামড়া শক্ত হয়ে যায়, কখনও লালচে হয়ে যায়। লাম্প দেখা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। কিন্তু লাম্প দেখা দেওয়া আর চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, এই দুটোর মাঝে প্রায়ই ফারাক থেকে যায়। অনেকেই সচেতনতার অভাবে চিকিৎসকের কাছে যান না। যার ফলে প্রাথমিক স্তরে থাকা ক্যানসার ধরা পড়ে না। খাবারের সঙ্গে সুচারুভাবে মিলিয়ে সঞ্জীব কাপুরকে বলতে শোনা যায়, 'খাবারে গাঁঠ দেখা দিলে সবাই তটস্থ হতে ওঠেন। কিন্তু স্তনে গাঁঠ দেখা দিলে, তখন কেউ সচেতন হ'ন না কেন?'
এমনিতে বয়স তিরিশ থেকে চল্লিশের ঘর ছাড়ালেই স্তন ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়ে। তার ওপর মদ্যপান, ওবেসিটি বা স্থুলত্ব, হরমোন থেরাপি বা সন্তান না হওয়াতেও ব্রেস্ট ক্যানসারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। পারিবারিক স্তন ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে আরও বেশি সচেতন থাকা দরকার। ভিডিওর শেষে দেশের শীর্ষ ক্যানসার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের সার্জিক্যাল অঙ্কোলজির অধ্যাপক ডাঃ শলাকা জোশীকে বলতে শোনা যায়, 'স্রেফ আগেভাগে ধরা পড়লেই নব্বইভাগ স্তন ক্যানসারের নিরাময় সম্ভব। স্তনে লাম্প দেখা দিলেই সতর্ক হতে হবে।'
টাটা ট্রাস্টের এই উদ্যোগে স্বভাবতই চিকিৎসকরা খুশি। যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তার দেখানোতেই কিন্তু ভাল থাকার সম্ভাবনা বাড়বে, মনে করালেন তাঁরা।