
শেষ আপডেট: 30 May 2020 18:30
ভিটামিন সি হল শরীরের বর্ম। অসুখ বিসুখ থেকে বাঁচায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও এর কদর আছে। আবার চুল ও ত্বক ভাল রাখতেও ভিটাসিন সি-এরই ডাক পড়ে। এখন যে প্রশ্নটা বিজ্ঞানীমহলে ঘুরপাক খাচ্ছে সেটা হল, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতেও কি ভিটামিন সি কাজে আসতে পারে? শরীরের রোগ প্রতিরোধ যে বাড়ায়, সে কি তবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পাঁচিল গড়ে তুলতে পারে?
এই প্রশ্নের যথাযোগ্য উত্তর মেলেনি। ভিটামিন সি কোভিড সংক্রমণ ঠেকাতে পারে কিনা তার মীমাংসা এখনও হয়নি। বিজ্ঞানীমহলও দ্বিধাবিভক্ত। একাংশ বলছে, করোনা হানা দিলে শরীরে যে উপসর্গগুলো দেখা যায় যেমন সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া ইত্যাদি, সে সব ঠেকাতে পারবে ভিটামিন সি। ফুসফুসের প্রদাহও কমাতে পারবে। মোদ্দা কথা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ভাইরাসের মোকাবিলা করার মতো একটা বন্দোবস্ত করতে পারবে। আবার, অন্য পক্ষ বলছে ভিটামিন সি যে কোভিড সংক্রমণ রুখতে পারে তেমনটাই প্রমাণিত হয়নি মোটেও। ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পারবে না ভিটামিন সি। সঙ্কটাপন্ন কোভিড রোগীকে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট দিলেই যে সংক্রমণ হুড়মুড়িয়ে কমে যাবে সেটা জোর দিয়ে বলা যাবে না, তেমন তথ্যপ্রমাণও নেই। কাজেই কোভিড ঠেকাতে ভিটামিন সি-এর ভূমিকা আছে কিনা এবং থাকলেও কতটা আছে, সেটা এখনও গবেষণার স্তরেই আছে বলা যায়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কোভিড মোকাবিলায় হঠাৎ করে ভিটামিন সি নিয়ে এত হইচই হচ্ছে কেন? তার কারণ হল চিনের একটি গবেষণা।
বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, ১৪০ জন রোগীকে প্রতিদিন ১৫-২৪ গ্রাম করে সাতদিনের ডোজে ভিটামিন সি দিয়ে দেখেন অনেকেরই সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে। মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরের থাকার প্রয়োজন ফুরিয়েছে অনেকেরই। এমনকি মৃত্যুহারও নাকি কমেছে। চিনের এই গবেষণার রিপোর্টের ভিত্তিতে ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট দিয়ে ট্রায়াল শুরু করার পরিকল্পনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। করোনা রোগীদের শরীরে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট দিয়ে ট্রায়াল করে অস্ট্রেলিয়াও। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা সাফ বলে দেন যে করোনা চিকিৎসায় ভিটামিন সি-এর কোনও সুফল তাঁরা পাননি। আমেরিকার ট্রায়ালের রিপোর্ট যদিও সামনে আসেনি।
ভিটামিন সি ভাল
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন সি খেলেই যে কোভিড সংক্রমণ হবে না তার গ্যারান্টি নেই। তবে আগাম সুরক্ষা তো নেওয়া যেতেই পারে। করোনাভাইরাসের আক্রমণের একটা পদ্ধতি হল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আগে ভেঙে দেওয়া। শক্তপোক্ত শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ধরলেও তাকে কাবু করা সম্ভব। কিন্তু শরীর যদি আগে থেকেই ফাঁপা হয়, ক্রনিক রোগে ঠাসা থাকে, তাহলে ভাইরাসের মোচ্ছব শুরু হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফ্রি র্যাডিকালস ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের হাত থেকে শরীরকে বাঁচায় ভিটামিন সি। তাই নিয়মিত ডায়েটে যদি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল বা সব্জি রাখা যায় তাহলে আর কিছু না হোক, এই করোনা কালে শরীরকে ভেতর থেকে একটা শক্তপোক্ত বর্ম পরিয়ে রাখা সম্ভব হবে।