দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার ভ্যাকসিন (Vaccine) নিলে তা অণ্ডকোষে প্রভাব ফেলবে, আর বাবা হওয়া যাবে না, বন্ধ্যত্ব গ্রাস করবে--ইত্যাদি এমন অনেক ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্রিকাতে এই নিয়ে আতঙ্কের কথাও লেখা হয়েছে। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, ভ্যাকসিনে এমন কোনও ভয় নেই পুরুষদের। কোভিড ভ্যাকসিনে 'স্পার্ম কাউন্ট' কমে যেতে পারে, এমন কোনও তথ্য এখনও মেলেনি। এমনকি ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে বন্ধ্যত্বের শিকার হয়েছেন এমন পুরুষের দেখাও পাওয়া যায়নি।
কী ভয় দানা বেঁধেছে?
কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে নানারকম ভয় তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে একটি হল--টিকার ডোজে নাকি স্পার্ম কাউন্ট কমে যেতে পারে। শুক্রাণু উৎপাদনের ক্ষমতা কমতে পারে পুরুষদের। আধুনিক গবেষণা বলছে, ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। কখনওই পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার ওপরে প্রভাব ফেলবে না। এমন কোনও প্রমাণ নেই যে কোভিডের টিকার কারণে শুক্রাণুর পরিমাণ কমে যায়।
ভ্যাকসিন নিলে কি ইরেকটাইল-ডিসফাংশন হতে পারে?
কোভিড সংক্রমণের কারণে শুক্রাণুর পরিমাণ কমতে পারে। পুরুষের বন্ধ্যাত্ব বা ‘ইরেকটাইল ডিসফাংশন’-এর সমস্যা দেখা দিতে পারে--এমন সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন চিকিৎসক-গবেষকরা। কারণ চিনের বিজ্ঞানীরা একবার বলেছিলেন, পুরুষের বীর্যে নাকি করোনাভাইরাস খুঁজে পাওয়া গেছে। বীর্যে এই ভাইরাস ঠিক কতক্ষণ বেঁচে থাকবে বা সঙ্গমের সময় সঙ্গী বা সঙ্গিনীর শরীরে ছড়াবে কিনা সেটা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে ভ্যাকসিন নিলে ইরেকটাইল-ডিসফাংশনের ঝুঁকি নেই বলেই আশ্বস্ত করছেন গবেষকরা।

ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেসেঞ্জার আরএনএ (এমআরএনএ) ভ্যাকসিন পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। ফাইজার ও মোডার্নার টিকা নিয়ে গবেষণা চালানো হয়। তাতে দেখা গেছে, এমএরএনএ ভ্যাকসিনে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের সংক্রামক প্রোটিন সরাসরি শরীরে ঢোকানো হয় না। টিকার ডোজ শরীরে ঢোকার পরে তা ভেঙে যায়, ডিএনএ-তে গিয়ে আঘাত করে না। সারা শরীরে সুরক্ষা বলয় তৈরি করে। ভাইরাস প্রতিরোধী ইমিউন সিস্টেম তৈরি করে। কাজেই এই ভ্যাকসিনের ডোজে ইনফার্টিলিটির কোনও আশঙ্কাই নেই।
ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যত্বের কারণ অনেক। স্থূলত্ব বা ওবেসিটি যেমন পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই ইনফার্টাইল হওয়ার বড় কারণ, তেমনি জীবনযাপনে কিছু অসংযম, খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান-অ্যালকোহলের নেশা, শরীরচর্চায় অনীহা, অবসাদ-স্ট্রেস-উৎকণ্ঠা এবং নানা রকম ওষুধ খাওয়ার প্রবণতাও বন্ধ্যত্বের সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে। এইসব কিছুর সঙ্গেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যোগ আছে ডায়াবেটিসের। বিশেষজ্ঞরা বলেন, টাইপ-১ ও টাইপ-২ দুই ধরনের ডায়াবেটিসই ইনফার্টিলিটির জন্য দায়ী। পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের সমস্যা, ইরেকটাইল ডিসফাংশন, রিটার্ডেড ইজাকুলেশন, রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন, শুক্রাণু বা স্পার্মের সংখ্যা কম, মানও খারাপ, হাইপোগোনাডিজম (টেস্টোস্টেরনের সংখ্যা কম)-- এসবের কারণ হতে পারে নানারকম কো-মর্বিডিটি। ভ্যাকসিনের সেখানে প্রত্যক্ষভাবে কোনও ভূমিকা নেই।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'